নেপথ্যশক্তি কি ইরান?
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩০
উত্তর কোরিয়ার এ সাফল্যের পেছনে কি তবে ইরানের ভূমিকা রয়েছে? অনেক বিশ্লেষকের কাছে এর উত্তর ইতিবাচক।
চলতি বছরের এপ্রিলে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ। আকাশে মাত্র মিনিট দুয়েক থাকার পরই জাপান সাগরে ভেঙে পড়ে পিয়ংইয়াংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র। অথচ বছর ঘোরার আগেই ফের উেক্ষপণ শুরু ও বিরাট সাফল্য! অনেকেই সন্দেহ করতে শুরু করেছেন—উত্তর কোরিয়ার এই সাফল্য একেবারে মৌলিক নয়। এর পেছনে রয়েছে অন্য এক কট্টর মার্কিনবিরোধী-রাষ্ট্র ইরান।
একা উত্তর কোরিয়াই নয়, সারা দুনিয়ার যেখানেই কোনো দেশ বা সংগঠন মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তাদের সবাইকেই সমর্থন জানিয়েছে ইরান। ধারণা—সদ্য সমান্ত গাজা যুদ্ধে হামাস সদস্যদের ‘কাসাম রকেট’ তৈরি নাকি ইরানি অস্ত্র বিশারদদের প্রশিক্ষণেই সম্ভব হয়েছে। হামাসের হাতে যে ‘ফজর-৫’ রকেট রয়েছে, তা ইরানেরই তৈরি—এমন কথা অস্বীকার করেন না ইরানের প্রশাসকরাই। এখানেই শেষ নয়, অন্য এক কট্টর মার্কিন-বিরোধী দেশ সুদানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য সংগঠগুলোর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে ইরানি অস্ত্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর সালেহি বলেছেন, ‘যদি আমেরিকা অস্ত্র বিক্রি করতে পারে, তবে ইরান করলে অন্যায় কোথায়?’ তাহলে উত্তর কোরিয়ার এই সাফল্য এবার ইরানকে নতুন করে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।
রাজনৈতিকভাবে ইরান ও উত্তর কোরিয়া—দুই দেশই আমেরিকার শত্রু। দুই দেশের ওপর জারি রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানরাই কথায় কথায় তুলোধুনো করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পররাষ্ট্রনীতিকে। দুটি দেশই পরমাণু শক্তিতে শক্তিধর হতে চায়। উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে একাধিক পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাতে পেরেছে বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। আর ইরান, এখনো তার ইউরেনিয়ামের সঞ্চয় বাড়িয়ে চলেছে। ইরানের সামনে বড় বাধা ইউরেনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় পদার্থ জোগাড় করায়। উত্তর কোরিয়ার সেই সমস্যা নেই, দেশে ইউরেনিয়ামের বড় ভাণ্ডার মজুত—বাধা একমাত্র প্রযুক্তি। তাই পশ্চিমা দুনিয়া অনেক দিন ধরেই সন্দেহ করছে—ইরানি বৈজ্ঞানিকদের নিয়ে এসে হয়তো নিজেদের প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করে নেবেন কিম জং উন—বিনিময়ে ইরান পাবে ইউরেনিয়াম।
হিসাব বলছে—এই বছর ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের জন্য উত্তর কোরিয়া অন্তত ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে। দুটি উেক্ষপণে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার। সোহা উেক্ষপণ কেন্দ্রটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে অন্তত ৪০ কোটি মার্কিন ডলার। আনুষঙ্গিক খরচ আরও ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এই বিপুল খরচের পর দেশের সরকার কখনোই চাইবেন না, কোনো রকেট উেক্ষপনের পরই ভেঙে পড়ুক। সাফল্যেই এই খিদেই হয়তো ইরানকে আরো কাছে এনে দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে—উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি খুবই দুর্বল। বার্ষিক খরচের পরিমাণ মাত্র ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার। তার এক-তৃতীয়াংশই খরচ হয় রকেট তৈরির কাজে। বরং ওই টাকা কৃষিকাজে ব্যয় করলে আগামী ৪-৫ বছর দেশের খাদ্য সমস্যা দেখা দেবে না। মনে করা হয়—কোরিয়া যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও ছায়াযুদ্ধ সমানে চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।
বিলাস সরকার