মিসরে গণভোটে অনিয়ম জালিয়াতির অভিযোগ

মিসরে প্রথম দফা গণভোটের পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সমর্থিত সংবিধানের বিরুদ্ধে নতুন করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ডেকেছে বিরোধীরা। বিরোধী দলীয় ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট গণভোটে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আয়োজকদেরকে তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সেইসঙ্গে দ্বিতীয় দফা গণভোট সঠিকভাবে তদারক করারও দাবি জানিয়েছে তারা। এদিকে গত মাসে নিয়োগ দেয়া মিসরের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিচারকদের অসন্তোষের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরআগে বিচারকরা জানিয়েছিলেন, পাবলিক প্রসিকিউটরকে বরখাস্ত করে মুরসি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত করেছেন। গণভোটে জালিয়াতি ঠেকানো এবং অনাকাঙ্ক্ষিত খসড়া সংবিধানের অবসান ঘটাতেই মঙ্গলবার মিসরজুড়ে এ বিক্ষোভ ডেকেছে স্যালভেশন ফ্রন্ট। প্রথম দফা গণভোট পুনরায় অনুষ্ঠানের জন্যও তারা আয়োজকদের আহ্বান জানিয়েছে। ঊর্ধ্বতন বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ এল বারাদি তার টুইটার একাউন্টে গণভোট বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার মিসরে বিতর্কিত সংবিধান অনুমোদন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা গণভোটে ৫৭ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ ভোট প্রেসিডেন্ট মুরসির দল যা আশা করেছিল তার চেয়ে কম। খুব সামান্য ব্যবধানে সংবিধানের পক্ষের ভোট জয়ী হয়েছে প্রথমদফায়। ফলে সংবিধানের বিপক্ষের মানুষের সংখ্যাও নেহাত উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। তবে বিশ্লষকরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এমন সব এলাকায় দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ইসলামপন্থিদের সমর্থন বেশি। তার মানে এ খসড়া সংবিধানটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু গণভোটে জিতলেও মুরসির সরকার স্বস্তি পাবে না। কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে চাইলে তার প্রয়োজন জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এ খসড়া সংবিধান ইস্যুতে মিসরবাসী স্পষ্টতই দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।