দামেস্কে বিদ্রোহীদের দখলে ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুক দখল করেছে বিদ্রোহীরা। জ্বালানির অভাবে দেশটিতে মানবিক সহায়তা দিতে পারছে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে, লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা হাসান নাসারাল্লাহ বলেছেন, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীরা জিততে পারবে না। কয়েকদিনের প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহী ও ফিলিস্তিনি শরণার্থী সূত্রগুলো সোমাবার এই দাবি জানিয়েছে। ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির দখলের লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীরা ব্যাপক সাহায্য পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে ফিলিস্তিনি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন-জেনারেল কমান্ডের (পিএফএলপি-জিসি) পপুলার ফ্রন্টের যোদ্ধারা লড়াই করলেও তাদের অনেকেই পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহী পক্ষে যোগ দেয়। পিএফএলপি-জিসি’র নেতা আহমেদ জিব্রিল দুইদিন আগেই শিবির ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদ্রোহীরা। ইয়ামুকের এক ফিলস্তিনি আন্দোলনকারী জানান, পুরো শিবিরটি এখন ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (বিদ্রোহী) দখলে। লড়াই থেমে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, পিএফএলটি’র বাকি যোদ্ধারা পিছু হটে শিবিরের দক্ষিণ দিকে আসাদ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য চলে গেছে। ইয়ারমুকের লড়াই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ সীমানায় চলা লড়াইগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর আগে রবিবার ও সোমবার যুদ্ধবিমান ও কামান ব্যবহার করেও বিদ্রোহীদের হঠাতে পারেনি সরকারি বাহিনী। বিমান হামলা চালানোর পর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ফিলিস্তিন শরণার্থী শিবির ঘিরে রাখে দেশটির সরকারি বাহিনী। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমথক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর কয়েকশ’ মানুষ সোমবার ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অনেকে পার্শ্ববর্তী আলু মিদান এবং আল-জাহিরা এলাকার মসজিদে আশ্রয় নেন। এছাড়া,কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি সীমানা পেরিয়ে লেবাননে প্রবেশ করেছেন। এদিকে, আন্দোলনকারীদের সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী দেরায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরেও তল্লাশি চালিয়েছে সরকারি বাহিনী।