আগামী দিনের বাংলাদেশ

০০০ রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারুণ্যের পদচারণা হোক এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই তারুণ্য মানে চিরসবুজের প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিল সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বাঙালি জাতি সবুজ জমিনে বুকের লাল রক্ত ঢেলে লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছে। এটি বাঙালি জাতির চির অহংকার আর গর্বের অর্জন। এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে লাল সূর্যের রঙিন আভায় সবুজ জমিনে তারুণ্যেভরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ তরুণদের আয়ত্তে রয়েছে সামপ্রতিক ধ্যান-ধারণা ও প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্ব আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করতে না পারলে সমৃদ্ধ দেশের কল্পনা অসম্ভব। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গনে প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। তাহলেই দেশ ও জাতি সময়ের পথে হেঁটে সাফল্য পাবে। আমি চাই রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণদের পদচারণায় মুখর হোক। এতে নিত্যনতুন ধ্যান-ধারণা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তারুণ্যে দীপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তার এই চিন্তা-চেতনা সময়োপযোগী। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন তরুণদের হাতেই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে বেশ উন্নতি করলেও এখনও অনেক এলাকায় বা অঞ্চলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য রয়ে গেছে। এদেশের মানুষ সবচেয়ে সহনশীল ও শান্তিপ্রিয়। বিশ্বব্যাপী শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে আমাদের সুনাম রয়েছে। আমি সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ চাই। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমি বিশ্বাস করি, তরুণরা এ দেশকে বদলে দেবে। এজন্য তরুণদের সুযোগ করে দিতে হবে। তাই তারুণ্যের জয়গান সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। মিজানুর রহমান সোহেল দ্বাদশ শ্রেণী, মানবিক বিভাগ, দিলোয়ারা জাহান মেমোরিয়াল কলেজ, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম। ০০০ যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। তাহলেই আগামী বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। কিন্তু এখানে সমস্যাও অনেক। এই সমস্যাগুলোর বহুবিধ কারণের একটি অন্যতম কারণ হলো অযোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে নিয়োগ দেয়া। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, রাজনীতিতে মেধাবী লোকের অভাব। ফলে তারা রাজনীতিতে সফল হতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে যোগ্য শিক্ষক নিযুক্ত না হওয়ায় তারা মেধাবী জাতি গঠন করতে পারছেন না। বিসিএস-এর মতো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমটিতেও ইদানীং দলীয়করণের প্রভাবে প্রকৃত মেধাবীরা পছন্দ অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। ফলে দেশ ও প্রশাসন মেধাশূন্য হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমার বক্তব্য হলো, আমাদের দেশে যদি যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে নিয়োগ দেয়া যায় তাহলে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মো. আনোয়ার হোসেন এমএ (শেষবর্ষ), ইস. ইতিহাস বিভাগ, শহীদ হবিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করার মত নেতার অভাব বাংলাদেশ প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরা এক সোনার দেশ। এটা নিজের কথা নয়, বহু বছর আগে এই সোনার বাংলা ঘুরে এক বিদেশী নাগরিক এই মন্তব্য করেছিল। এই বাংলাদেশের মাটিতে কি হয় না একবার ভেবে দেখুন। যে বীজ বপন করা হয় তাই বৃক্ষে ফলে রূপ নেয়। এমন মাটি কয়টি দেশে আছে। কিন্তু দেশের বর্তমান রাজনীতিতে যে কালো মেঘ বিরাজ করছে তাতে করে দেশ এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি মজবুত এবং শক্তিশালী হওয়ার পেছনে ধ্বংসাত্মকমুক্ত রাজনীতির বড়োই প্রয়োজন। রাজনৈতিক হানাহানি এবং প্রতিহিংসার দরুন দেশে যে অরাজকতা বিরাজ করছে তা নিরসন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে এমন একজন রাজনৈতিক নেতার প্রয়োজন যে এদেশের রাজনৈতিক মতানৈক্য দূর করতে ও হরতাল এবং ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিকল্প পন্থা বের করতে পারে। এমনই একটি সুন্দর দিনের প্রতিক্ষায় রয়েছি আমরা। মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ গাজী বি এ (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কুমিল্লা। ০০০ আগামী স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সর্বস্তরের দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন শস্য শ্যামলা সবুজ তরুলতা বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, বন-বনানী ঘেরা পাহাড় বিচিত্র সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুশোভিত প্রিয় এ ভূমির নিচেও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এদেশের হতভাগ্য কৃষকরা আজো ফসল ফলায় যুগের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে। তারা পোল্ট্রি, মত্স্য ও পশুর নানা খামারায়নের মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য চাহিদা পূরণে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে, চরম অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও নামমাত্র বেতনে এদেশের পোশাক শ্রমিকরা এ শিল্পোন্নয়নে এবং বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থা সুসংহত করতে অবর্ণনীয় ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা অনিয়ম অস্থিরতা সত্ত্বেও তরুণ-তরুণীরা ভাল করছে। রেজাল্ট ও পড়াশুনার মান অধিকাংশ ক্ষেত্রে উন্নত হচ্ছে। এসএসসি ও এইচএসসিসহ প্রায় সকল স্তরে পাসের হার বিশেষত মেয়েদের পাসের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন খাতে এদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজে ফেরে। বাংলাদেশের ক্রিকেট টাইগাররা আবারো ওয়ান ডে সিরিজে জিতে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে এদেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিল। অভিনন্দন তাদের। এভাবে হাজারো সম্ভাবনার কথা বলা যাবে এদেশের। তবে সমস্যাও কম নয়। তবুও আমি হতাশ নই। আমি আশাবাদীদের দলে থাকতে চাই। রাতের পর পূর্বাকাশে সূর্যোদয় যে রূপ সত্যি, সে রূপ আমাদের এ দেশটিও একদিন স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হবে বিশ্ব দরবারে, শির উঁচু করে দাঁড়াবেই। সেদিন বেশি দূরে নয়। একথা আমরা না বুঝলেও ভিনদেশী ড্যান মজীনা ঠিকই উপলব্ধি করেছেন। তবে সে স্বপ্নীল বাংলাদেশকে বাস্তবে দেখতে চাইলে এখনই দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সংঘাত পরিহার করতে হবে। ছাত্ররাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি, হরতাল ও এর প্রতিরোধের নামে মানুষ হত্যা, দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে যেমন পরস্পরকে ইট-পাটকেল ছুঁড়াছুঁড়ি, সংঘাত, সংঘর্ষ ও বিভেদ সৃষ্টির রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জনস্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে যাবতীয় সমস্যা নিরসন করে দেশ ও মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে হবে, চর্চা করতে হবে সুস্থ ও সম্প্রীতির রাজনীতির। তেমনি তাদের ছাত্র সংগঠনগুলোকেও প্রতিহিংসা, অন্তরকলহ দলীয় কোন্দল পরিহার করে ছাত্রদের কল্যাণে সৃজনশীল এবং সত্, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরির রাজনীতি চর্চা করতে হবে, সে সাথে সমাজের সর্বস্তর থেকে মাদক ও দুর্নীতিকে বিতাড়িত করতে হবে, এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কেবল রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বন্ধ এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সকলস্তর থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারলেই আগামীর সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। নূরুল্লাহ মুহিত ৪র্থ সেমিস্টার, ২য় বর্ষ, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।