ভারত ভ্রমণের নিয়মাবলী শিথিলের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে

ভারত ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদানের নিয়মাবলীতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনিবার চিন্তা করিতেছে নয়াদিল্লী। ভারতীয় একটি পত্রিকাতে সোমবার এই মর্মে একটি সংবাদ গুরুত্বের সহিত প্রকাশিত হইয়াছে। এই সংবাদটি যথার্থ হইলে আগামী বত্সরের প্রথম কয়েকমাসের মধ্যেই বাংলাদেশের নাগরিকরা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা ব্যবহার করিয়া ভারত ভ্রমণে সমর্থ হইবেন। সন্দেহ নাই যে, প্রকাশিত খবরটি বাস্তবায়িত হইলে কখনও উষ্ণ কখনও শীতল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নূতন এক মাত্রা যোগ হইবে। খবরে প্রকাশ, বর্তমানকার সময় ক্ষেপণকারী ভিসা ব্যবস্থার পরিবর্তে অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ম বাস্তবায়িত হইলে ভারত ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশিরা সীমান্তের নির্দিষ্ট চেকপোস্ট অথবা বিমান বন্দরে অবতরণ করিয়া তথা হইতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ভারত ভ্রমণের অনুমতি পাইবেন। প্রাথমিকভাবে এই সুবিধাটি নির্দিষ্ট কয়েকটি ধরনের ভ্রমণকারীদের জন্য চালু করিতে চাহিতেছে নয়াদিল্লী। শুরুতে ভারতে চিকিত্সা লইতে ইচ্ছুক ৬৫ বত্সর বয়সের ঊর্ধ্ব অথবা অনধিক ১২ বত্সর বয়সের বাংলাদেশিরা এই সুবিধাপ্রাপ্ত হইবেন। তবে শেষোক্তদের সহিত তাহাদিগের অভিভাবক থাকিতে হইবে। পর্যায়ক্রমে ব্যবসায়ী এবং দলগতভাবে ভ্রমণকারীরা অন অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধার আওতায় চলিয়া আসিবেন। ইহা ছাড়াও যাহারা অতীতে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ করিয়া ভারতে অবস্থান করেন নাই তাহারাও নূতন সুবিধা পাইবার যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হইবেন। উল্লেখ্য, অনেক বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইয়া যাইবার পরেও ভারতে থাকিয়া যায় বলিয়া সময়ে-সময়ে অভিযোগ করে নয়াদিল্লী। জানা গিয়াছে নূতন নিয়মের ভিসার মেয়াদ হইবে দুই মাস। ইহাছাড়াও নূতন নিয়মে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদিগকে ভারতে স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করিবার যেই বিধান চালু আছে তাহা বাতিল হইয়া যাইবে। কবে নাগাদ নূতন নিয়মটির ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা আসিবে তাহা সুনিশ্চিত করা না গেলেও, বিভিন্ন সূত্রমতে জানুয়ারি মাসে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালেই ঘোষণাটি আসিতে পারে। আমলাতান্ত্রিক খুঁটিনাটিগুলি সাঙ্গ হইয়া গেলে এপ্রিল মাস নাগাদ বাংলাদেশিরা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা ব্যবহার করিয়া ভারত ভ্রমণে সক্ষম হইবেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হইতেছে এই যে, ভারত একতরফাভাবে এই সুবিধা প্রদান করিবে না। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ঢাকা কর্তৃক একই রকম সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে বাংলাদেশিদের জন্য নূতন সুযোগ উন্মুক্ত করিতে চাহে নয়াদিল্লী। শর্ত যদি এমন কিছু হয় তাহা হইলে আমরা বলিব যত দ্রুত সম্ভব এই শর্ত পূরণ করিয়া লওয়া হউক। কেননা উভয় দেশ যদি নূতন ভিসা পদ্ধতিটি চালু করিতে সক্ষম হয় তবে তাহা হইবে বিদ্বেষের বীজবপনকারী ষড়যন্ত্রকারীদের বিপরীতে দ্বিপাক্ষিক তথা আঞ্চলিক সদ্ভাব শক্তিশালীকরণের পথে এক বড় পদক্ষেপ। ইউরোপের দেশগুলির ভিসা উঠিয়া গিয়াছে সেই কবে! যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মত প্রতিবেশীদিগকেও এই বিষয় লইয়া মাথাব্যথা করিতে হয় না। অথচ প্রতিবেশী দেশ সফর করিবার জটিলতা দক্ষিণ এশীয়বাসীর জন্য এখন অবধি অনেক সময়ই দুঃস্বপ্নসম। আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, অযথা সন্দেহ বাতিকগ্রস্ততা, অনিশ্চয়তায় ভরপুর দক্ষিণ এশিয়াবাসীর প্রতিবেশী দেশে যাইবার বাসনা বা প্রয়োজনীয়তা কেন এমন হইবে? সন্দেহ-বিদ্বেষ বিষবৃক্ষের ফল আর কতদিন এই অঞ্চলবাসীকে ভক্ষণ করিতে হইবে? নূতন বত্সর সমাসন্ন। নূতন বত্সরের শুরুতেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নূতন ধরনের ভিসা ব্যবস্থা চালু হইয়া যাইবে বলিয়া আমরা আশাবাদী হইতে ইচ্ছুক। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা সমগ্র সার্ক অঞ্চলে বিস্তৃত হইবে বলিয়াও আমরা আশাবাদী। একবিংশ শতাব্দী সংযোগের, বিচ্ছিন্নতার নহে। এই সংযোগের পথে অযথা বিঘ্ন ঘটাইয়া কালের গতিকে স্তব্ধ করিবার নির্বুদ্ধিতা অনেকদিন ধরিয়া চলিয়াছে; দক্ষিণ এশিয়াতে এইবার তাহার অবসান ঘটুক। শুভবোধের জয় হোক।