ইয়ারমুক দখলে রাখতে দামেস্কে তুমুল লড়াই

দামেস্কে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুককে কেন্দ্র করে আসাদপন্থি এবং বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। শরণার্থী শিবিরটি বিদ্রোহীদের দখলমুক্ত করতে সেখানে আবারো বিমান হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এদিকে,সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে উদ্বিগ্ন রাশিয়া সেখান থেকে রুশ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ভূমধ্যসাগরে রণতরী পাঠিয়েছে। সিরিয়ায় বিদ্রোহীরা সোমবার দামেস্কর ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুক নিজেদের দখলে নিলেও মঙ্গলবার সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বিদ্রোহীরা ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির থেকে সরকারপন্থি ফিলিস্তিনি মিলিশিয়াদের বিতাড়িত করতে লড়াই অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে, শরণার্থী শিবিরটি বিদ্রোহী সামরিক জোট ফ্রি সিরিয়ান আর্মির দখলমুক্ত করতে সেখানে বিমান অভিযান চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইয়ারমুকে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ব্যাপক সংঘর্ষ চলাকালে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু শিবিরের ভিতরে অনেক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রায় উদ্বিগ্ন রাশিয়া সেখান থেকে রুশ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ভূমধ্যসাগরে রণতরী পাঠিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধীরা সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধে বেশকিছু সামরিক এবং কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে। সিরিয়া জুড়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সামরিক স্থাপনা দখল করাসহ নতুন বিরোধী জোট হিসাবে পশ্চিমা ও আরব রাষ্ট্রগুলোর স্বীকৃতিও পেয়েছে তারা। সর্বশেষ বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ইয়ারমুক দখলের পর রাশিয়া আরো বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সিরিয়া থেকে রুশ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রণতরী পাঠানোর মস্কোর উদ্যোগে সে আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাশিয়ান নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দুটো যুদ্ধজাহাজ, একটি ট্যাংকারসহ আরো একটি জাহাজ বাল্টিক বন্দর থেকে ভূমধ্যসাগরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। সেখানে সিরিয়ার উপকূলীয় তারতাস শহরে রাশিয়ার একটি বন্দর আছে। রুশ নাগরিকদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করতেই এ জাহাজগুলো তারতাসে যাচ্ছে। খুব দ্রুত এবং গোপনে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারফ্যাক্স। তবে খবরটি এই নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি। সিরিয়ায় গত ২১ মাস ধরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে চলা সহিংস বিক্ষোভ ও যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া, ৫০ লাখেরও বেশি সিরীয় ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।