যুক্তরাষ্ট্রে পণ্ডিত রবি শঙ্করকে স্মরণ

বিশ্বখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করকে শেষ বিদায় জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। রবিশঙ্করের ঘনিষ্ঠজনরা সবাই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় এনসিনিটাসে রবিশঙ্করের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন তার স্ত্রী সুকন্যা, দুই মেয়ে মার্কিন জ্যাজশিল্পী নোরা জোনস ও সেতারবাদক আনুশকা শঙ্কর, তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বিখ্যাত ব্যান্ডদল ‘দি বিটলস’র সদস্য জর্জ হ্যারিসনের স্ত্রী। এছাড়া রবিশঙ্করের আরো অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সঙ্গীত ও সেতারকে সারাবিশ্বে পরিচিত করিয়ে দেয়া এ সংগীতশিল্পী ও সুরকার গত ১১ ডিসেম্বর স্যান ডিয়েগোর এক হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। স্যান ডিয়েগোর ৪০ কিলোমিটার দূরের শহর এনসিনিটাসের একটি আধ্যাত্মিক চর্চাকেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অন্তত সাতশ’ মানুষ অংশ নেন। এই শহরেই গত ২০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন রবিশঙ্কর। অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসনের স্ত্রী অলিভিয়া হ্যারিসন বলেন, “সংগীতের গভীরতম স্থান থেকে নিজেকে প্রকাশ করতেন রবিশঙ্কর। ব্যক্তি হিসেবেও চমত্কার একজন ছিলেন এবং সব বিষয়েই ভালোভাবে জানতেন তিনি।” তিনবার গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী রবিশঙ্করকে একজন ‘সত্যিকারের বিশ্ব নাগরিক’ বলে অভিহিত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন নিউইয়র্ক ফিলহারমোনিকের সাবেক সংগীত পরিচালক জুবিন মেহতা, জ্যাজ পিয়ানোবাদক হার্বি হ্যানকক ও ‘আন্না কারেনিনা’ সিনেমার পরিচালক ও আনুশকা শঙ্করের স্বামী জো রাইট। রবিশঙ্কর ষাটের দশকে বায়েয়ালিনবাদক ইয়াহুদি মেনুহিন ও ‘দি বিটলসে’র সঙ্গে কাজ করার মধ্যে দিয়ে সারাবিশ্বকে ভারতীয় সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তার কাজ জর্জ হ্যারিসনকে সেতার বাদন শিখতে এবং বিটলসের ‘নরওয়েজিয়ান উড’ (১৯৬৫) ও ‘উইদিন ইউ, উইদআউট ইউ’ (১৯৬৭) গানগুলোর সংগীত আয়োজনকে উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই সেতারশিল্পী। বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার প্রতিবাদে জনমত গড়ে তুলতে এবং বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য বিটলসখ্যত শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে সঙ্গে নিয়ে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে তিনি আয়োজন করেন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার সমপ্রতি রবিশঙ্করকে সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত সরকার ১৯৯৯ সালে তাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ভারতরত্নে ভূষিত করে।