আগামী দিনের বাংলাদেশ
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০১
০০০
রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলেই বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হবেবাংলাদেশ হল গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে জনগণ। আজ জনগণের এই মূল চালিকাশক্তি এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হার মানছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ জীবন বাঁচানোর তাগিদে এদেশের সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে নানা ধরনের নির্যাতন। এদিকে জনগণ হচ্ছে প্রতারণার শিকার। এদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো তো দূরের কথা এক মুঠো খাবারের অন্বেষণে তারা এখন হুমকির শিকার। রাজনৈতিক কোন্দলের ধূম্রজালে আবদ্ধ হওয়ার কারণে এদেশের মানুষ হরতাল, অবরোধ, খুন, গুম, হত্যা, ভাংচুর, সন্ত্রাসী ইত্যাদি ন্যক্কারজনক কাজে জর্জরিত হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠী রাজনীতির ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হচ্ছে এদেশের জনগণ। আর তারা বলে বেড়ায় আমরা জনগণের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতির মাঠে একাধিক বিরোধীদল থাকবে তা নিতান্তই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবাধ প্রতিযোগিতা না থাকলে একটি দেশ তার কাঙ্ক্ষিত চাহিদা আদায় করতে সক্ষম হবে না। বর্তমান সময় আমাদের এদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। তাই আসুন সকল রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে সমঝোতায় এসে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে গিয়ে এই উন্নয়নশীল দেশের জন্য কাজ করি। তবেই এদেশের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হবে।
এম.ডি মাইদুল ইসলাম (নয়ন)
বিবিএ অনার্স ব্যবস্থাপনা,
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর।
০০০
এমন বাংলাদেশ চাই না
যেখানে নৃশংসভাবে
মানুষ খুন হয়
যে আশার আলোর আশায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে এই ভূখন্ড ‘বাংলাদেশ’ নাম নিয়েছিল আজ ৪২ বছরে এসেও সেই আশা-ভরসা লুণ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের দেশে এখনও মানবতা বিরোধী অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য হরতাল হয়। হরতালে গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দেশে বিশৃঙ্খলা এবং দেশের সম্পদ বিনষ্ট করা হয়। আদিম যুগের মানুষ দলবেঁধে যেভাবে নিরীহ পশু শিকার করত তেমনি আমাদের দেশে এখনও শত শত মানুষের সামনে দলবেঁধে নিরীহ পথচারীকে হত্যা করা হয়। তাহলে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবন কি এখনও সেই বন্যপ্রাণীর জীবনেরই সমতুল্য? মানুষ হত্যার সেই রক্তাক্ত বীভত্স দৃশ্য পত্রিকায় ছাপা হয় এবং টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। দেশের এবং পৃথিবীর মানুষ যখন এইসব ছবি দেখে তখন মানবতা, নৈতিকতা, নির্বাসনে চলে যায়।
অবিশ্বাস্য হলেও এটা এখনও বাস্তব সত্য যে, আমাদের দেশে এখনও সাম্প্রদায়িক হামলা হয়। দেশের শতবর্ষের পুরনো ঐহিত্যবাহী সম্পদ কিছু উগ্র ধর্মান্ধ ব্যক্তি দ্বারা ধ্বংস করা হয় কিন্তু তাদের বিচার হয় না। এইসব ঘটনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজের স্বার্থ খুঁজে। কিন্তু এর প্রতিরোধ এবং বিচারের দাবিতে কেউ প্রতিবাদ করে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতির কতিপয় সন্ত্রাসী দ্বারা সংখ্যালঘু জাতিসত্তা সমূহের বিনাশ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ঘটানো হয়। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছি?
পুলক চাকমা
২য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০
সর্বদলীয় সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ দেশ গঠন করাই নতুন প্রজন্মের লক্ষ্য
আমাদের দেশটি আজ মহাবিপর্যয়ের সম্মুখিন। মনে হচ্ছে সেই মহাবিপর্যয় পাড়ি দেবার মত নয়। দিন দিন খুন, রাহাজানি, ডাকাতি, মারামারি, হরতাল-অবরোধ ও ইচ্ছা মত ক্ষমতার প্রয়োগ দেশটিকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা আসলে কোন জ্ঞানীদের কর্ম নয়। আমার মনে হয় দেশের সর্বত্র জ্ঞানী লোকেরা তাদের প্রকৃত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে, যেভাবে ফেরাউন মুসাকে ধ্বংস করতে তার পিছু পিছু নীল নদে ঘোড়া সওয়ারী হয়ে নেমেছিল। ঠিক সেভাবে আমাদের সরকারের দলীয় লোকেরাও সরকারকে ঠিক ধাওয়া করছে জানি না পরবর্তী সময়ে এর সমাধান কি হয়। তবে এটা উপলব্ধি করা যায় একটা কিন্তু ঘটছে।
মোহাম্মদ ফয়সল আহমদ
প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ (অনার্স) ১ম বর্ষ,
বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ।
০০০
একতা ফিরিয়ে আনতে
পারলে স্বপ্নের সোনার
বাংলা গড়া সম্ভব
ভোরে সোনালী সূর্য উঠে, পাখির কলকাকলিতে সবার ঘুম ভাঙ্গে। সকালটা থাকে সুন্দর মনোরম পরিবেশের যেন কচি শিশুর হাসি। এরকম দৃশ্যের জন্য এ দেশকে ভালোবাসি। প্রতিদিন সকালের মতো যদি দিন-রাত, সপ্তাহ, মাস, বছর, চলতো তাহলে এ দেশকে পৃথিবীর স্বর্গ বলা যেত। কিন্তু তা আর হয় না কারণ সকালটা যেমন সুন্দরভাবে শুরু করতে পারি অন্য সময়টা আর পারি না। সকালের প্রথমে যখন টেলিভিশনে খবর শুনি বা দেখি তখন মন আর ভালো থাকে না, যেন এক জগত্ পার করে আর এক জগতে প্রবেশ করলাম। চারদিকে খুন, সন্ত্রাসী, রাহাজানি, মাস্তানি, কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, ধোঁকাবাজি ইত্যাদি চলছে তো চলছেই। এমনকি নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপকর্ম হয়ে থাকে। খবরের কাগজ পড়া যায় না হূদয় থেকে কান্না আসে। একজন মানুষ বেঁচে থাকতে এতো কি প্রয়োজন হয় যাতে নিজের দ্বারা অন্যের ক্ষতি করতে হবে। তাহলে দেশের স্বাধীনতা কেন অর্জিত হলো যদি মানুষের স্বাধীনতা না থাকে। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে না পারে। তা হলে এ স্বাধীনতার কি মূল্য আছে। মানুষের মাঝে নেই একতা। যে একতা বজায় রেখে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। কিসের অভাবে আমরা ঠিকভাবে বেঁচে থাকতে পারি না। পিছন থেকে কি কেউ আমাদের টান দিচ্ছে। না আমরা নিজেরা সামনের দিকে যাচ্ছি না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের দেশ সোনার বাংলায় পরিণত করা যাবে না। সকল মানুষের একতার জন্য এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। আসুন আমরা সবাই দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, হিংসা-বিদ্বেষ, ধনী-গরীব, উঁচু-নীচু, ভেদা-ভেদ ভুলে গিয়ে সমাজের জ্ঞানী-গুণী, বৃদ্ধ, যুবক, তরুণ-তরুণী এক হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো একতা বজায় রেখে জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ি। সকল মানুষের একতার জন্যই তো এসেছে আমাদের স্বাধীনতা।
আর সকল মানুষের একতা ফিরিয়ে আনতে পারলে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব।
মো. মারুফ
অনার্স প্রথম বর্ষ,
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ,
মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,
ঢাকা।