আগামী দিনের বাংলাদেশ

০০০ ঐক্যবদ্ধ ও প্রযুক্তি নির্ভরতাই এগিয়ে নিবে দেশকেনিঃসন্দেহে বলা যায় যে, পাপাচার আর মিথ্যা রাজনীতির কারণে আমাদের রাজনীতিকগণ একচল্লিশ বছরের শাসনকালে যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে আমাদের বাংলাদেশকে তা ২০০ বছরের বৃটিশ শাসনে যে ক্ষতি হয়েছে তাকেও হার মানাবে। এখন সময় এসেছে আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র পরিবর্তনের। সময় এসেছে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দলাদলি আর কোন্দলের রাজনীতি বন্ধ করে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করার। আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবার সাথে সমান তালে এগিয়ে যাবার সময় এখনই। তবে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সুখী ও সমৃদ্ধশালী এবং যুগোপযোগী বাংলাদেশ গড়তে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ তো অবশ্যই নিতে হবে। আর এজন্য সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কয়েকটি ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথমত, তথ্য- প্রযুক্তিতে জনগণকে শিক্ষিত করতে হবে। সবাইকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রয়োজন নেই; কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, রিমোট অঞ্চলে ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এজন্য জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি সব উপজেলায় ইন্টারনেট সমপ্রসারণ করতে হবে। শুধু জেলা-উপজেলায় ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরি করলেই চলবে না, এসব ক্ষেত্রে ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হবে এবং সেটা অবশ্যই দ্রুতগতিসম্পন্ন। সবশেষে এই তথ্য-প্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত যুবকদের ছোট ছোট ঋণ দিতে হবে। কেননা তথ্য-প্রযুক্তি মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি একথা আজ সবার অবিদিত। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ বা প্রশাসন গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিক জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে যেমন-প্রশাসন, অর্থ, বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে এখন তথ্য-প্রযুক্তির প্রয়োগ ব্যাপক বাড়ছে। সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা আমার। সাইদুর সাজু (বিজয়) চতুর্থ বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ২৪৫, শহীদ হবিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জাতীয়তাবাদের আদর্শই এনে দিতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আমাদের জনগণ কতই না সহজ-সরল। একটি সরকারের আমলে দফায় দফায় তেল, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, সারের উপর ভর্তুকি কমিয়ে দেয়া, রেলের ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও তাদের কোনো হরতাল বা হিংসাত্মক কর্মসূচি নেই বা হয় না। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে একবার কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়লে দাম কমা না পর্যন্ত লাগাতার বন্ধ-এর ডাক দেয়। অন্য দেশের তুলনায় তারা কতই না সহজ-সরল। অথচ এই সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই ব্যবহার করছে। আমাদের সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কি কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই? কেনইবা তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য একটি দেশের সকল মানুষের মনে ভয়, নৈরাজ্য, বিশৃংখলার বীজ বুনিয়ে দিচ্ছে। তাদের মনে কি কোনো জাতীয়তাবাদের আদর্শ নেই? তারা কি শুধু ক্ষমতা, সম্মান ও টাকার লোভেই রাজনীতি করে। তারা কি শুদ্ধ হবে না? তাদের মনে কখনো সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ জাগ্রত হবে না। আমি বিশ্বাস করি, একটু দেরিতে হলেও তাদের মনে সামাজিক দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হবে । সেই সময় পেতে আর দেরি নেই । আজ না হোক কাল বা ২ বছর, ৫ বছর বা ১০ বছর পর হলেও আমরা একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল, একটি সুন্দর দেশ পাব। নিজ হাতে গড়বো প্রিয় মাতৃভূমি সোনার বাংলাদেশ। নাহিদ নাজমুস হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। ০০০ সার্থক হোক আমাদের স্বাধীনতা আগামীর বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে পাড়ি জমাবে এই নিয়ে সন্দিহান সাধারণ মানুষ, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ। বাবা-মায়ের প্রিয় সন্তানকে লাশ হয়ে, অন্যথায় অস্ত্র হাতে শিরোনাম হতে হচ্ছে পত্রিকার পাতায়। রাজনীতির নগ্নতার কবলে পিষ্ট হয়ে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক অবস্থা, আইন বিভাগের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুফলা-সুজলা বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে জন্মায় হাজারো রকমের সোনালী ফসল। জনসংখ্যা সমস্যাকে সম্পদে পরিণত করে মাতৃভূমির ভালোবাসাকে বুকে ধারণ করে সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে সত্, যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার বিকাশের ভিত্তিতে চিরসবুজে ঘেরা এই বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। স্বপ্ন দেখি বাঙালি জাতি একদিন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, সার্থক হবে আমাদের স্বাধীনতা। নতুন প্রজন্মের ভাবনা তুলে ধরার জন্য দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। এইচএম নাওশাদ এলএলবি (অনার্স), আইন বিভাগ (৫ম সেমিস্টার), বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম। ০০০ সংঘাতময় রাজনীতি ও দুর্নীতি দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে অনেক ত্যাগ, মা-বোনদের ইজ্জত আর ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু তা রক্ষা করতে পারছি না। আজও রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে, যেমন হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এ সবের মূল কারণ অস্থিতিশীল রাজনীতি। এই দেশের রাজনীতির একটি অতীত ঐতিহ্য আছে। বর্তমান সংঘাতময়, নোংরা রাজনীতির ফলে আমরা আমাদের গৌরবময় রাজনৈতিক ঐতিহ্য হারাচ্ছি। বর্তমান রাজনীতি নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য, সাধারণ জনগণের জন্য নয়। যদি সাধারণ জনগণের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করত, তাহলে সরকার ও বিরোধী দল এক হয়ে কাজ করতো। হরতালের ফলে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়, মানুষ স্বাধীনভাবে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারে না, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় কোটি কোটি টাকা দামের গাড়ি, পুড়িয়ে দেয়া হয় গাড়িতে থাকা ড্রাইভারকে। আসলে কি এইসবের মধ্যে মানুষের মঙ্গল নিহীত আছে ? আবার অনেক সময় প্রাণ হারাতে হয় নিরীহ পথিককে। এসব নোংরা অস্থিতিশীল রাজনীতির ফলে বিদেশিরা বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে ফেলছে। যা আমাদের অর্থনীতির জন্য হুমকি। আপনারা কী বুঝতে পারেন না, এই ধরনের অস্থিতিশীল রাজনীতি আমাদের অনেক কষ্টে অর্জিত দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি প্রধান সমস্যা দুর্নীতি। এ দেশে তৃণমূল থেকে শুরু করে এম.পি-মন্ত্রী পর্যন্ত দুর্নীতির সাথে জড়িত। যদি বড় বড় নেতারা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দুর্নীতি না করতো, তাহলে অভাব শব্দটি এ দেশে থাকতো না, কোন শিশুকে রাস্তায় ঘুমাতে হতো না। তাই সরকার ও বিরোধী দলকে অনুরোধ করব প্রতিহিংসার রাজনীতি ত্যাগ করে সংসদে এসে আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করুন, দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করে সর্বপ্রকার ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করে দেশকে রক্ষা করুন। আগামী বাংলাদেশ হউক সুষ্ঠু, সুন্দর ও সমৃদ্ধ। রোমন খান মানববিজ্ঞান বিভাগ, ২য় বর্ষ- ২য় সেমিষ্টার, শাহপরান হল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।