দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩০
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৫১.৬ শতাংশ ভোট পাইয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হইয়াছেন ক্ষমতাসীন স্যানুরি দলের প্রার্থী পার্ক জিউন-হাই। তিনি ২০০৪-২০০৬ এবং ২০১১-১২ অবধি এই দলটির (পূর্বনাম গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্টি) চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছেন। জিউন-হাই তাহার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড পার্টির নেতা মুন জায়ে ইনকে স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। মুন পান ৪৮.৯ শতাংশ ভোট। ইতোমধ্যে তিনি পরাজয় স্বীকার করিয়া নিয়াছেন। উল্লেখ্য, বিজয়ী জিউন-হাই সাবেক সেনাশাসক পার্ক চাং হির মেয়ে। তিনি ১৯৬৩-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত একটানা ১৬ বত্সর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাহারই কন্যা বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি-মুয়ুং বাকের স্থলাভিষিক্ত হইবেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করিবেন বলিয়া জানা গিয়াছে।
পার্ক জিউন-হাইয়ের বিজয় কয়েকটি কারণে তাত্পর্য বহন করে। প্রথমত বর্তমানে পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বে পালাবদলের হাওয়া লাগিয়াছে। চীন ও জাপানের পর এবার দক্ষিণ কোরিয়াও পাইতেছে নূতন নেতৃত্ব। ইহাতে সহযোগিতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার হইতে পারে। দ্বিতীয়ত তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হইয়াছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের হার তুলনামূলক এখনও কম। তবে যেসব দেশে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল ও পরিবার আছে, সেখানে জনদাবির কারণে রাজনীতিতে ক্রমশ নারীর ভূিমকা বাড়িতেছে। ইহাকে নারী জাগরণের দৃষ্টান্ত হিসাবে সেভাবে উপস্থাপন না করা গেলেও রক্ষণশীল সমাজে একজন নারী দেশের প্রধান নির্বাহী হইতে পারিতেছেন ইহাই বড় কথা। তৃতীয়ত জিউন-হাইয়ের বাবা পার্ক চাং হিকে অনেকে স্বৈরাচার হিসাবে জানেন। তাহার শাসনামলে তিনি মানবাধিকার রক্ষার প্রতি কোনরূপ তোয়াক্কা করিতেন না বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে। তবে তাহার সময় ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারে কোন দ্বিমত নাই। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা আশাব্যঞ্জক নহে। ব্যাংক অব কোরিয়ার গত অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ২.৪ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ১০ ভাগ। ইহাছাড়া দেশটিতে বেকারত্ব ও ধনী-গরীবের বৈষম্য ক্রমবর্ধমান। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি বহুলাংশে বিদেশনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক মন্দার অভিঘাত হইতে এখনও বাহির হইয়া আসিতে পারে নাই। তাই জনগণ অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই চাং হির কন্যাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে বাছিয়া নিয়াছেন এমন ধারণা পোষণ করা অমূলক হইবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানাইয়াছেন এবং দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও বাড়িবে বলিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করিয়াছেন। প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হইতেই আমেরিকার সহিত এই দেশটির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষত এশিয়া-প্যাসেফিক অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া মৈত্রী প্রধান ভূমিকা পালন করিতেছে। তাই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, উত্তর কোরিয়া ইস্যু ও পশ্চিমা বিশ্বের সহিত সম্পর্ক ধরিয়া রাখাটাই তাহার প্রধান কর্তব্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।