[ রা জ নী তি ]

মা মৃত, বাবা জেলে, সন্তানরা হাসপাতালে

বিজয়ের মাস পার করছি। ডিসেম্বরের দশ তারিখ। সবেমাত্র বিরোধী দলের অবরোধ শেষ হয়েছে। মহা আতঙ্কের পরের দিন। রিপন নামে এক রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার নয়াপল্টনের বিএনপি অফিসের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। কোন এক নতুন স্বপ্নের খোঁজে। বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে এসেছেন। হঠাত্ পুলিশ-রিপন মুখোমুখি। ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পুলিশ রিপনকে গ্রেফতার করলো। জেলে যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে বিদায় নিয়ে আসেননি। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, জেলে তাকে যেতেই হবে। গেলেনও। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি। ৩০ বছরের এক তরুণী স্ত্রী স্বামীকে খুঁজছে। ছোট দুই শিশুসন্তান তাদের বাবাকে খুঁজছে। অতঃপর পাওয়া গেল। জেলখানার ঐ লাল দালানের ভিতর। দশ দিন কেটে গেছে। সন্তানরা বাবাকে একনজর দেখতে মরিয়া। জেলগেটে সাক্ষাত্ হবে। মা রত্না খন্দকার রিফাত ও রশ্মিকে বুকে জড়িয়ে বাসা থেকে বের হলেন। খিলগাঁও রেলক্রসিং। হঠাত্ ভয়ঙ্কর জমদূত হাজির। অবৈধভাবে রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও অটোরিক্সা উল্টে পড়লো তিনটি রিক্সার উপর। সবাই বেঁচে গেলো। শুধু রত্না ছাড়া। হতভাগিনী রত্না আর স্বামীর সাথে দেখা করতে পারল না। ছোট দুই সন্তানকে আহত অবস্থায় রেখে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন অচেনা দেশে। এখন রিফাত ও রশ্মির মা কফিনে আর বাবা জেলে। কী কথা ছিল রত্নার বুকে? সে কি বলতে চেয়েছিল তার স্বামীকে, কেনো সে বিএনপি অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল? রিপন কি জানত না যে, সাধারণ জনতার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই সরকারের নিকট। নাকি রত্নার অন্য প্রশ্ন ছিল? রত্না কি রিপনকে জিজ্ঞাসা করতো কেন অবুঝ শিশু দু’টিকে তার কোলে রেখে এসে রিপন ককটেল হাতে নিল? এই ছোট ফুটফুটে সন্তানগুলোর স্বপ্নের কথা তার কি একটুও মনে ছিল না। তার ৬ বছরের ছোট রশ্মির হাসি কি তার চোখের সামনে একটুও ভেসে উঠেনি? এমন তো হতে পারে রিপন তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই এই পথ ধরে হাঁটছিল। তার চোখে ঐ রশ্মির হাসি ভেসে আসছিল। তার মনে রিফাতের স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছিলো। এভাবে সে আত্মভোলা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাত্ পুলিশ আত্মভোলা এই রিপনকে ধরে নিয়ে গেল। শুনেছি রিফাত ও রশ্মি মারাত্মক আহত হলেও বেঁচে গেছে। ডাক্তাররা বলছেন তারা একটু একটু কথাও বলতে পারছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই অবুঝ শিশু দু’টি এখন কী ভাবছে? তারা কী ভাবছে ইস্ যদি সেদিন অবরোধ না হতো। বিরোধী দলগুলো গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য যদি অবরোধ না করতো তাহলে তো বাবাকে সেদিন ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ দিয়ে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারতো না। অন্যদিকে সরকারও তো গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য অবরোধকে উপলক্ষ করে এতো ধর-পাকড় করতে পারতো না। আর বাবাকে জেলে নিয়ে না গেলে তো মা আমাদেরকে নিয়ে রেল ক্রসিং পার হতে আসতেন না। রিফাত ও রশ্মি এখন হাসপাতালের বিছানায়। মায়ের লাশ এখন মর্গে। বাবা জেলে। হয়তো তিনি এখনো জানেন না আর প্রিয়তমা স্ত্রী আর কোনোদিন তার সাথে দেখা দিবে না। কথা বলবে না। স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে বিদায় নিয়েছে। চিরদিনের জন্য। এ এক না বলা বিদায়। রিফাত ও রশ্মিকে এক ভীষণ বেদনাময় অভিজ্ঞতা বয়ে বেড়াতে হবে। নিজেদের চোখের সামনে মায়ের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা। আর কোনোদিন মা তাদেরকে হাতে তুলে খাওয়াবেন না। আর কোনোদিন তাদেরকে স্কুলে দিয়ে আসতে যাবে না। এটি তাদের গণতান্ত্রিক ভাগ্য। যে ভাগ্য আজীবন তাদেরকে বয়ে বেড়াতে হবে। মনে প্রশ্ন জাগবে তাদের বাবা কোন গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে ককটেল হাতে নয়া পল্টনে এসেছিলেন? নাকি তাদের নিরপরাধ বাবা সন্দেহভাজন হিসেবেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন? সরকার ও বিরোধী দলের গণতন্ত্র রক্ষার এই খেলায় গণতন্ত্রের কী হবে জানি না। কিন্তু রিফাত ও রশ্মি কোনোদিন তাদের মাকে ফিরে পাবে না। একি গণতন্ত্র নাকি গণতান্ত্রিক নৈরাজ্য? অভিযোগ সত্য হলে যে গণতন্ত্র তাদের বাবাকে ককটেল হাতে নিতে প্ররোচিত করেছে সেই গণতন্ত্রকে তারা কতটুকু ভালবাসতে পারবে? অভিযোগ মিথ্যে হলে যে গণতন্ত্রে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে বিরোধী দলের অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে জেলে ঢুকালো গণতন্ত্র তাদের সন্তানদেরকে কতটুকু হাতছানি দিতে পারবে? গেল সপ্তাহ দু’টি ভাল কাটেনি। চারদিকে ছিল ভয়-আতঙ্ক। হরতালের পর হরতাল। সরকারি-বেসরকারি হরতাল। মন্ত্রীরা কোনো কোনো হরতালকে মডেল হরতাল হিসেবেও ঘোষণা করলেন। কোনো হরতাল হয় কলাপসিবল গেইটের ভিতর আবার কোনো হরতাল হয় সরকারের পুলিশের সহযোগিতায়। এক দল হরতাল ডেকেছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, অন্য দল হরতাল ডেকেছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার জন্য। আর মৌলভীরা হরতাল আহ্বান করেছে পাল্টাপাল্টি হিসেবে। এ যেন হরতাল হরতাল খেলা। এই খেলায় নেতারা যতটা না আতঙ্কিত তার চেয়ে ঢের বেশি আতঙ্কিত জনগণ। যারা ভয় পায়নি হয় তারা বিশ্বজিতের মতো শ্মশানে যাওয়ার পণ করেছে বা রিপনের মতো জেলে যাওয়ার নিয়ত করেছে। এ ছিল বিজয়ের মাসে সরকারি ও বিরোধী দলের হরতাল নাটক। যে নাটকের বলি হয়েছে সাধারণ মানুষ। ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবস্থা উল্টোভাবে একই রকম। এখানে গণতান্ত্রিক চেতনা ও মূলবোধ থাকুক আর নাই থাকুক আজ এ দেশে গণতন্ত্র। এখানে গণতন্ত্র আছে কিন্তু সরকারি ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী নেত্রী ভারতে গিয়েছেন ভারত সরকারকে তেল মেরে ক্ষমতায় যেতে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে অন্য দেশের পদানত করতে চায়, দেশের মানচিত্র পাল্টে দিতে চায়। এই যদি হয় দেশের প্রধান দুই নেতার একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা তাহলে এদেশের গণতন্ত্র নৈরাজ্যে পরিণত হওয়া ছাড়া উপায় কি? দু’জনেই গণতন্ত্র রক্ষা করতে চান কিন্তু কথা বলবেন না, দেখা করবেন না, এমনকি একে অপরের প্রতি জনসম্মুখে সামান্য শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করবেন না। এটি কোন ধরনের গণতান্ত্রিক দেশ? এখানে নেত্রীরা তৃতীয় কোনো দেশেকে জড়িয়ে একে অপরের কুত্সা রটনা করবেন-এটা তো হয় না। ক্ষমতার জন্য জ্বালা আছে কিন্তু সে জ্বালায় নিজের চোখের মনি বেচা যাবে না। তাই প্রতুলের কণ্ঠে বলি—‘আলু বেচ, ছোলা বেচ, বেচ বাখরখানি/ বেচ না বেচ না বন্ধু তোমার চোখের মনি/ কলা বেচ, কয়লা বেচ, বেচ মটর দানা/ বুকের জ্বালা বুকেই জ্বলুক, ‘কান্না বেচ না’। আমাদের নেতারা এখন বুকের জ্বালায় বিদেশি রাষ্ট্রকে জড়িয়ে কান্না করছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির এ যে দৈন্যদশা তাকে তো গণতান্ত্রিক নৈরাজ্যই বলতে হয়। রংপুরে ভোট হয়ে গেল। আবারো জনগণ লাইনে দাঁড়িয়েছে। কনকনে শীত। যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই লাইনে। আবারো গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই ভোট। রংপুরের মানুষের স্বপ্ন সিটি মেয়র, পুরাতন সেই ঝন্টু তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে। এভাবে স্বপ্ন দেখে দেখে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আর বাস্তব হয় না। যে গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা থাকে না, দু’জন রাজনীতিবিদকে বাদ দিয়ে বাকিদের বিরুদ্ধে সরকারের মামলা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ছা-পোষাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়, কিন্তু মন্ত্রীরা ষড়যন্ত্রের বাইরে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জবাবদিহিতা আছে। এখানে বিনা অপরাধে রত্নারা মারা গেলেও সরকারের রেলমন্ত্রীর কিছুই করার থাকে না। বরং রেলমন্ত্রী তথাকথিত কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন স্কুলকে রেলের ৩০০ কোটি টাকার সম্পদ নামমাত্র মূল্যে দিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেন। এখানে ব্যাংকঋণের ক্ষত সারতে না সারতেই আবারো রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পরিষদে নিয়োগ দেয়া হয়। গণতন্ত্রের এ দেশে রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা হিসেবে খুন ও ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহার করার জন্য গণতান্ত্রিক সরকার সুপারিশ করে। বাংলাদেশে এমন গণতন্ত্র চলছে, যে গণতন্ত্রে মানুষ বার বার ভোট দিতে যায়। কিন্তু তারা ভোট বেচে গণতান্ত্রিক নৈরাজ্যের জন্য। এখানে স্বচ্ছতা নেই, জবাবদিহিতা নেই। নেই সরকারের কোনো দায়বোধ। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের স্বপ্ন বেচে দেয় ভোটের বিনিময়ে। তাই প্রতুলের কণ্ঠে আবারো গাইতে ইচ্ছে করে- ‘ঝিঙ্গে বেচ পাঁচ শিকিতে, হাজার টাকায় সোনা/ বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচ না’। মায়া সভ্যতার মায়া কেটে গেছে। পৃথিবী বেঁচে গেছে এক মহাপ্রলয় থেকে। বাংলাদেশও বেঁচে গেছে। আবার নতুন করে শুরু করতে চাই সবাই। গণতন্ত্রেরও নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই সবাই। গণতন্ত্রেরও নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে। এর জন্য দরকার একটি সামগ্রিক সামাজিক আন্দোলন। যে আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক নৈরাজ্যের খেলা থেকে বিরত রাখবে। যেখানে নিরপরাধ বিশ্বজিত্ খুন হবে না। যেখানে রিপনরা বিনা দোষে জেলে যাবে না। আবার দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হিসেবে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হবে না। আমরা এমন গণতন্ত্র চাই, যে গণতন্ত্রে সরকারি জমি নিজেদের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার পাঁয়তারা করা হবে না। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের জন্য রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক নিয়োগ দেয় হবে না। এখানে সরকার হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক এবং দায়িত্বশীল। এখানে গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকার নয়, বিবেচিত হবে মানুষের অধিকার হিসেবে। তবে এই সামাজিক আন্দোলন অবশ্যই দানা বাঁধবে বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এখানে বুদ্ধিজীবীরা দুভাগে বিভক্ত। অধিকাংশই যেনো সত্য গোপন করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাই প্রতুলের সুরে আবারো গাইতে হয়-‘ঘরদোর বেচ ইচ্ছে হলে করব নাতো মানা/ হাতের কলম জনম দুখী তাকে বেচ না’। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই হাতের কলম বেছে দিয়েছে। তাই এদেশের গণতান্ত্রিক নৈরাজ্য শুধু রাজনীতিবিদদেরই সৃষ্টি নয়, বুদ্ধিজীবীদেরও এতে ভূমিকা আছে। রাজনীতিবিদরা আন্তরিকভাবে বাংলাদেশকে, গণতন্ত্রকে ভালবাসবে এবং বুদ্ধিজীবীরা সত্য গোপন করবে না- এই প্রার্থনাই রইলো। সাতকাহনের দীপাবলির মতো রিফাত ও রশ্মিকে অন্য এক লড়াইয়ে নামতে হবে। জীবনযুদ্ধে তাদেরকে জয়ী হতে হবে। হয়তো আমরা সবাই ভুলে যাব এই মা-হারা সন্তানদের কথা। সুস্থ হয়ে উঠলে তারা জীবন সংগ্রাম শুরু করবে প্রিয় বাবাকে জেল থেকে বের করে আনার মধ্য দিয়ে। মায়ের অনুপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তেই তাদেরকে কুকরে খাবে। ছোট্ট রশ্মি হয়তো ঘুমের মধ্যে বলবে ‘দাও না মা! তুমি আমায় ঘুম পাড়িয়ে দাও না’। রশ্মি হয়তো বলবে, বাবা এই গণতান্ত্রিক নৈরাজ্যে আর যেও না। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আমরা গণতন্ত্রের এতিমে পরিণত হয়েছি। রিফাত মায়ের কফিন ধরে বলবে, মা আমরা আর বাবাকে দেখতে যাব না। আমরা বাবার সাথে অভিমান করি, কেন সে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ককটেল হাতে নিল। আর ককটেল হাতে না নিলে কেনইবা সে বিরোধী দলের অফিসের সামনে দিয়ে গেলো। মা! আমরা তোমার সাথে থাকবো, বদ্ধ ঘরে, এখানে গণতান্ত্রিক নৈরাজ্য পৌঁছতে পারবে না। গণতান্ত্রিক দেশে চমত্কার নাটক মঞ্চায়িত হলো। মা মৃত, বাবা জেলে, সন্তানরা হাসপাতালে। এভাবে গণতন্ত্র বিকৃত হলো। [লেখক: শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ] email: kazipoliticalscience@gmail.com