সিরিয়া যুদ্ধ
তুর্কি সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর বিরোধীদের দখলে
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩১
সিরিয়ায় বিরোধী যোদ্ধারা তুরস্ক সীমান্তের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হারেম শহর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এক সপ্তাহব্যাপী অবরোধ এবং ব্যাপক লড়াইয়ের পর সোমবার বিদ্রোহীরা ঐ শহরটি নিজেদের দখলে নিতে সফল হয়েছে। এছাড়া, আলেপ্পোর একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী যোদ্ধারা।
তুর্কি সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের দখল করা এলাকার বেশিরভাগই আলেপ্পো প্রদেশের অন্তর্গত। সেখানে কমপক্ষে তিনটি বড় সামরিক ঘাঁটিও তারা দখল করেছে। সীমান্তবর্তী বিস্তৃত এলাকায় বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক সাফল্যে সর্বশেষ যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবের হারেম শহর। ইদলিবের একজন আন্দোলনকর্মী মোহাম্মদ কানান স্কাইপের মাধ্যমে বলেন, হারেম এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। সেখানে শেষ যে জায়গাটি দখল করা হয়েছে সেটি ছিল একটি ঐতিহাসিক দুর্গ। সেনাবাহিনী এই দুর্গটিকে সামরিক ফাঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছিল। তিনি আরো জানান, বিদ্রোহীরা হারেমের সেনা চৌকিগুলো ধ্বংস করেছে। দুর্গ থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর সেটার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে রয়েছে।
সোমবার প্রায় ৩০জনের মতো সেনা এবং সরকার সমর্থক বন্দুকধারী আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি-আব্দুল রহমান বলেছেন। তিনি বলেন, হারেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটা এমন এক শহর যা ছিল সরকারের প্রতি অনুগত।
ইদলিবের প্রতিবেশী প্রদেশ আলেপ্পোর একজন স্থানীয় আন্দোলনকর্মী মোহাম্মদ সাঈদ বলেছেন, বিদ্রোহীরা সোমবার তুরস্ক সীমান্তবর্তী মানাঘ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এটা আলেপ্পোর চারটি বিমান ঘাঁটির একটি। এদিকে, কেন্দ্রীয় প্রদেশ হামায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে সিরীয় শরণার্থীদের নতুন স্রোত তুরস্কে পৌঁছেছে।
বিরোধীদের হিসাব অনুসারে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে গত বছরের মার্চে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া, আরো কয়েক লাখ মানুষ গৃহহারা ও শরণার্থী হয়ে তুরস্কসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।