[ চ ল চ্চি ত্র ]
‘টেলিভিশন’-এর জয়ধ্বনি ‘শুনতে কি পাও’
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৬
গত এক দশকে চলচ্চিত্র নিয়ে নিরাশার কথা শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ অনেকটাই আশা হারিয়ে ফেলেছে। শুধু সাধারণ কেনো, খোদ চলচ্চিত্রের সঙ্গে ভালোভাবে সংশ্লিষ্ট অনেককেই দেখছি চলচ্চিত্র নিয়ে এখন তরুণদের স্বপ্ন দেখাতেও ভয় পান। এক সময় যারা জীবন-মান সবটুকু দিয়ে চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেছিলেন, তারা অনেকেই জীবনের তাগিদে ‘টেলিভিশন করে খাচ্ছেন’, কেউ দধি-সেমাইয়ের ব্যবসা ধরেছেন নয়তো বাজারি সমাজের তাবেদারি পণ্য বানিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছেন। এগুলো কোনোটাই দোষের সেটি আমি মোটেও বলছি না, বলতে চাইও না। কিন্তু সমস্যা হলো, এতো কিছুর পরও কেনো জানি সিনেমা নিয়ে স্বপ্ন দেখা এতোটুকুও থামেনি। এই দেশে দৃশ্যত চলচ্চিত্র নিয়ে স্বপ্ন দেখার হয়তো কিছুই নেই—সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন আসলেই কি কিছুই নেই? প্রশ্নটা নিজেকে করি, আর তরুণদের স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে থাকি।
তবে আমি ভেবে খুব আশ্চর্য হই, চলচ্চিত্র মাধ্যমটির অনিশ্চয়তার মধ্যে নিশ্চয়তা থাকার বৈশিষ্ট্যের কথা মনে করে। অনেকে হয়তো গ্রিফিথ-এর কথা শুনে থাকবেন। আমেরিকার সেই বিখ্যাত পরিচালক ডেভিড লিউলিন ওয়ার্ক গ্রিফিথ (১৮৭৫-১৯৪৮)। সে এক মারাত্মক স্বপ্নবান মানুষ। মারাত্মক স্বপ্নবান বলছি এ কারণে যে, ভাবুন ১৯ শতকের শুরুতে সবাই যখন এক থেকে ২০ মিনিটের চলচ্চিত্র বানাতে অস্থির—ঠিক সেই সময় তিনি বানালেন ১৬০ মিনিটের বিশাল এক চলচ্চিত্র ‘বার্থ অব এ নেশন’ (১৯১৫)। স্বপ্ন ধীরে ধীরে পোক্ত হয় শুনেছি, কিন্তু একলাফে এতো পথ অতিক্রমের উদাহরণ খুব কমই আছে। তবে একথা ঠিক, স্বপ্ন দেখে তিনি যে ভুল করেননি ‘বার্থ অব এ নেশন’ মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল তার প্রমাণ দিয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি তৈরিতে সে সময় খরচ হয়েছিল এক লাখ ১০ হাজার ডলার। বিপরীতে আয় করেছিলো দুই কোটি ডলার। এই টাকার প্রায় পুরোটা দিয়েই গ্রিফিথ বানিয়েছিলেন তার পরের ছবি ‘ইনটলারেন্স’ (১৯১৬)। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, যাকে ব্যবসা বলে এই সিনেমাটি তা আর করেনি। যদিও মহামতি লেলিন এই চলচ্চিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে এই ধরনের সিনেমা বানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তার দেশের পরিচালকদের। যাক সেটা অন্য কথা। গ্রিফিথে ফিরে আসি, এরপর তিনি একে একে অনেকগুলো চলচ্চিত্রই নির্মাণ করেন; কিন্তু সেই ‘ব্যবসা’ আর হয়নি। ফলে চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধতা, অস্ত্রের ঝনঝনানি দূর করে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দেয়ার স্বপ্ন দেখা সেই মানুষটি শেষ জীবন সুন্দরভাবে কাটাতে পারেননি। শেষেরদিকে চলচ্চিত্র তৈরি করতে গিয়ে ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েন গ্রিফিথ। মৃত্যুর এক বছর আগে তিনি উঠেন একটি হোটেলে। দিনের পর দিন কারো সঙ্গে তিনি একটি কথাও বলতেন না। হোটেলের লেটারবক্সে বিখ্যাত, জনপ্রিয় এই পরিচালকের নামে হাজার হাজার চিঠি আসতো; কিন্তু কোনোদিন সেগুলো ছুঁয়েও দেখেননি গ্রিফিথ। কী যেনো এক অভিমান গ্রিফিথকে ছুঁয়েছিলো। মহান এই চলচ্চিত্রকার ১৯৪৮ সালের ২৩ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার টেম্পল হাসপাতালে ইহলোক ত্যাগ করেন। নিঃসঙ্গ এই মানুষটির পাশে তখন পাওয়া গিয়েছিলো শুধু তার প্রিয় ছড়িটি। প্রশ্ন, তাহলে কি গ্রিফিথ কিছুই রেখে যাননি?
উত্তরে সুখবর যেটা, সেটা হলো— ১৯১৫ থেকে ২০১২ প্রায় ১০০ বছর পরও চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলতে গেলে গ্রিফিথের কথা বলতে হয়; আরও এক হাজার বছর পরও হয়তো তাকে স্মরণ করতেই হবে। চলচ্চিত্রের এই ১০০ বছরের ইতিহাসে সুপার-ডুপার ব্যবসা করা সিনেমার সংখ্যা কম নয়; কিন্তু পরিচালক-প্রযোজক হিসেবে তাদের অনেকের নাম হয়তো চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি বাক্যেও লেখা থাকবে না। আগেই বলেছিলাম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিশ্চয়তা—এই নিশ্চয়তা টিকে থাকার; অনিশ্চয়তা ‘ব্যবসা’র। এখন পরিচালক হিসেবে আপনি কোনিট বেছে নেবেন সেটা আপনার ব্যাপার। তবে দু’টোর সমন্বয় একেবারে যে ঘটেনি, তাও ঠিক নয়।
শুরুতে ছিলাম আমাদের চলচ্চিত্রের দুর্দশা নিয়ে। কথা হচ্ছিল কিছু স্বপ্নবানের ‘স্বপ্নভঙ্গের’ গল্প; একইসঙ্গে নতুন স্বপ্নবানদের স্বপ্ন নিয়ে। মাঝখানে যোগ হয় মারাত্মক স্বপ্নবান এক পরিচালকের টিকে থাকার গল্প। আজ আমার ইচ্ছে নতুন কয়েক স্বপ্নবানের স্বপ্ন ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের গল্প বলার। ৪ থেকে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান শহরে অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক পুসান চলচ্চিত্র উত্সব। অন্যবার সংবাদপত্রে কেবল উত্সবের শুরু আর শেষের সংবাদ পড়ে আশ্বস্ত থাকতে হতো; কিন্তু এবার নতুন পথের যাত্রা শুরু। উত্সব শুরুর একমাস আগে থেকেই আলোচনায় পুসান। কারণ স্বপ্নবান মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ ও আবু শাহেদ ইমনের ‘দ্য কনটেইনার’। বিশ্বের শীর্ষ ১০ চলচ্চিত্র উত্সবের অন্যতম পুসানে আমাদের এই অবস্থান স্বপ্নের। উত্সবের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে প্রতিযোগিতা করেছে ‘দ্য কনটেইনার’। অন্যদিকে এতো বড় উত্সবের সমাপনী প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয় ‘টেলিভিশন’। যতখানি ইতিহাস জানা যায়, এ ধরনের শীর্ষ কোনো উত্সবে সমাপনী চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য এই প্রথম। ভাবুন, এর আগে এই উত্সবে সমাপনী প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়েছিল মহসিন মাখমালবাফের ছবি ‘দ্য সাইলেন্স’, কিওশি কুরোশাওয়ার ‘ডপলগ্যাংগার’, লি চ্যাঙ ডংয়ের ‘পিপারমেন্ট ক্যান্ডি’ কিম কি দুকের ‘দ্য কোস্ট গার্ড’ এবং ওং কার ওয়াইয়ের ‘ইন দ্য মুড ফর লাফ’ ও ‘২০৪৬’-এর মতো চলচ্চিত্র। পুসান উত্সবের প্রোগ্রাম পরিচালক কিম জি শুক ‘টেলিভিশন’-এর প্রশংসা করেছিলেন ঠিক এভাবে—‘বাংলাদেশি চলচ্চিত্র এখনও আন্তর্জাতিক মূল ধারায় আসতে পারেনি। কিন্তু আমি জানি, বাংলাদেশি তরুণ নির্মাতারা বিশ্ব চলচ্চিত্রে একটি নতুন ধারা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে গভীর সম্ভাবনা আছে। টেলিভিশন একটি ভালো উদাহরণ এবং এ বছর এশিয়ায় প্রযোজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি।’
পুসানে সমাদৃত হওয়ার পর থেমে থাকেনি ‘টেলিভিশন’। ৯-১৬ ডিসেম্বর নবম দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য ‘টেলিভিশন’ নির্বাচিত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৫টি ছবি বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০ লাখ টাকা সমমানের সম্মানির সেরা ছবির পুরস্কার ‘মোহর অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য লড়বে। খবর আরও আছে ৫৫তম এশিয়া প্যাসিফিক চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ‘টেলিভিশন’ দুটি ও হুমায়ূন আহমেদের ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ একটি বিভাগে মনোনীত হয়েছে। ১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর হংকংয়ের ম্যাকাওয়ে-তে বসবে পুরস্কার প্রদানের আসর। খবরগুলো স্বপ্ন জাগায়, স্বপ্নের বাস্তবায়নের উদাহরণ তৈরি করে। আমরা কি তা শুনতে পাই?
এ প্রশ্নের উত্তর দেন তরুণ নির্মাতা কামার আহমেদ সাইমন ও সারা আফরিন তাদের ‘শুনতে কি পাও’ চলচ্চিত্র দিয়ে। ২৯ অক্টোবর বিশ্বের প্রাচীনতম প্রামাণ্যচিত্র উত্সব জার্মানির ‘ডক-লাইপজিগ’-এর উদ্বোধনী ছবি হিসেবে প্রদর্শিত হয় ‘শুনতে কি পাও’। জার্মানির লাইপজিগেতে ১৯৫৫ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে প্রামাণ্যচিত্রের এ উত্সব। এ উত্সবের লোগো নকশা করেছিলেন পাবলো পিকাসো নিজে। ‘শুনতে কি পাও’ এ বছর সেই উত্সবের ‘মূল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা’ বিভাগে সারাবিশ্ব থেকে বাছাই করা মাত্র ১২টি ছবির মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে। সুন্দরবনের ছোট একটি গ্রামের রোজকার গল্প নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র দেখে উত্সব পরিচালক ও নির্বাচক কমিটির প্রধান ক্লজ ড্যানিয়েলসন বলছিলেন এভাবে— ‘ছবিটি দেখে আমি অভিভূত। এর চিত্রায়ন ও প্রকাশভঙ্গি দর্শককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।’ এরপর ‘শুনতে কি পাও’ আমন্ত্রিত হয় বিশ্বের বৃহত্তম প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের আসর নেদারল্যান্ডসের ‘ইডফা’-এর রজতজয়ন্তী আসরে। বিশ্বের প্রথম সারির নির্মাতাদের ছবি নিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া ইডফা সৃজনশীল ও নিরীক্ষাধর্মী ছবি প্রদর্শনের জন্য সুপরিচিত। ইডফায় ‘শুনতে কি পাও’ চিত্রনাট্য ও প্রযোজনার জন্য দুটি প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারও জিতে নেয়। এর বাইরে ২০১২ সালের শুরুতে বার্লিন চলচ্চিত্র উত্সবের বিশেষ আসর ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসের সম্পাদনা ল্যাবে আমন্ত্রণ পায় ‘শুনতে কি পাও’। সম্পাদনার জন্য পুরস্কার জেতে সুইজারল্যান্ডের ‘ভিশন সুদ ইস্ট’ থেকে। এর আগে কামার সাইমনের প্রথম চিত্রনাট্য ‘শঙ্খধ্বনি’ গোটেবার্গ চলচ্চিত্র উত্সবে পুরস্কৃত হয়। ফারুকীর ‘টেলিভিশন’-এর চিত্রনাট্যও এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছিলো।
এবার আর একটু পিছনে গিয়ে দু’একজন তরুণের স্বপ্নের বাস্তবায়নের গল্প আপনাদের শোনাই। ২০১১ সালের অক্টোবরে ‘সেকেন্ড লন্ডন ফেস্টিভ্যাল’-এ অংশ নেয় ও প্রশংসিত হয় আনিসুল ইসলাম হিরুর প্রামাণ্যচিত্র ‘রিফ্লেকশন’। এছাড়া একই বছরের অক্টোবরে এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেট থেকে অনুদান পায় আবু শাহেদ ইমনের ‘দ্য টেল অব অ্যা পুলিশম্যান’ ও ইশতিয়াক জিকোর ‘সাউথইস্ট লাভ’ নামে দুটি চলচ্চিত্র। এখানেই থামছি, অবশ্য না থেমে উপায়ও নেই। কারণ স্বপ্ন জাগানিয়া অর্জন তো আর খুব বেশি হয় না। বেশি, কম যাই হোক—এই অর্জন স্বপ্ন জয়ের, স্বপ্ন বাস্তবায়নের। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ৪০টি সিনেমা করে গিয়েছিলেন বিখ্যাত পরিচালক আলফ্রেড হিচকক। তারপর আজকের হিচকক, হিচকক হয়ে উঠেছিলেন। এর আগে তার এসব সিনেমার কোনো মূল্যায়নই পাননি তিনি। নতুন যে একটি ধারা তৈরি করছেন তাও হয়তো তিনি বা অন্যরা বুঝতেই পারেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই বুঝেছিলো, আজও বুঝছে। তার মানে ধরে থাকা, আঁকড়ে ধরে থাকা—অনেকটা গ্রাম্য ভাষায় চিনে জোঁকের মতো। যে কোনো প্রাণীর গায়ে ধরে থাকো, ধরে থাকলে খাবার হিসেবে রক্ত আসবেই।
শেষ করছি সদ্য স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দেয়া সিনেমাপাগল আমার এক ছাত্রের মুঠোফোনের একটা বার্তা দিয়ে। পড়াশুনা শেষ, সে এখন চাকরি না করে সিনেমা বানাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার এই ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্তে পরিবারের সবাই হতবাক। প্রায় দিনই সে আমাকে এই কথা বলে, আমি তার স্বপ্নের কথা শুনি, আর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। ২৭ নভেম্বর বিভাগ থেকে তাদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেদিন রাত ১১টা ৪৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে তার একটি মুঠোফোন-বার্তা পাই আমি। বার্তার শেষ অংশটা এমন—‘স্যার আবারও বলছি, সিনেমা বানানোর কথা শুনে আমাকে অনেকে পাগল বলছে। স্যার আপনিই বলেন, ফিল্ম নিয়ে আমার স্বপ্ন কি পাগলামি?’ আমি এতোদিন তার কোনো কথার উত্তর করিনি। সেদিন, বিদায় বেলায় তার এই আকুতি আমাকে উত্তর দিতে বাধ্য করলো।
স্বপ্নহীন, কাঠামোর মধ্যে বেড়ে উঠা এই আমি তার এই সিদ্ধান্তকে সেদিন পাগলামো বলতে পারিনি। আমি তাকে ফিরতি বার্তায় লিখেছিলাম ‘দেখো পাগলামি না করলে স্বপ্ন ধরা দেয় না। তবে মনে রেখো পাগলামিটা আজীবন ধরে রাখতে হবে। ভালো থেকো।’ আমি জানি না তার স্বপ্নের, পাগলামির সঙ্গী হওয়া আমি ঠিক করেছি কিনা? কিন্তু আমি তো কারো স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রাখি না। বাংলাদেশের তথা সারাবিশ্বে সিনেমা নিয়ে এমন স্বপ্নবান তরুণের সংখ্যা কোটি কোটি। তাছাড়া কম দামে কেনা নন-ব্র্যান্ডের মাল্টিমিডিয়া মোবাইল ফোন নিয়ে আমার ছাত্ররা যা পায় তারই ছবি তোলে কেনো? এটা সামর্থ্য-অসামর্থ্যের ব্যাপার নয়, এটা ফ্যাশন—এটা থাকতে হয়। এটা না থাকলে মানুষ এগোতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই স্বপ্নবান মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই।
লেখক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক