মিসরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট মুরসি
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১২
নতুন সংবিধানকে সমর্থন দেয়ার পর দেশের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। সেইসাথে বিরোধীদলগুলোকে সংলাপে বসার কথা বলেছেন তিনি। বুধবার জাতির উদ্দেশ টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। এর আগে ভোটে পাস হওয়া নতুন সংবিধান কার্যকর করতে তাতে সই করেছেন মুরসি।
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মুরসি বলেন, এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। মিসরের এখন এমন একটি সংবিধান রয়েছে, যেটি কোনও দখলদার, রাজা কিংবা কোনও প্রেসিডেন্ট চাপিয়ে দেয়নি। এটা এমন এক সংবিধান, যেটা মিসরের মানুষ তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন করেছে। তিনি আরো বলেন, হয়তো অনেকেই গণভোটে না ভোট দিয়েছেন। কিন্তু দেশ গড়ার জন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এর জন্য এখন একটি সংলাপ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেটা ছাড়া একযোগে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে বিরোধী জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট সংলাপে বসার মুরসির এই আহবান নাকচ করে দিয়েছে। বিরোধীরা বলছে, তারা এই সংবিধানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। নির্বাচনী প্রচারণায় এমনকি পার্লামেন্টেও বিরোধিতা তারা করবে, বলছে বিরোধী দলগুলো। নতুন সংবিধানে আগামী দু’মাসের মধ্যে মিসরে একটি পার্লামেন্ট নির্বাচন হবার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণভোটে নতুন সংবিধানের পাস হওয়ার পর মিসরের রাজনৈতিক সংকট নিরসন না হয়ে বরং তা আরও সুদূরপ্রসারী হয়েছে। অবশ্য দেশটির পাঁচ কোটি বিশ লাখ ভোটারের অন্তত দুই তৃতীয়াংশই এই গণভোটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি।
রাষ্ট্র পরিচালিত টেলিভিশনে মঙ্গলবার চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় দেখা যায়, ১৫ ও ২২ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোটে দুই পর্বে খসড়া সংবিধানের পক্ষে মোট ৬৩ দশমিক আট শতাংশ ভোট পড়েছে। বামপন্থি ও উদারপন্থিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নতুন সংবিধানের পক্ষে যাওয়ায় দেশটিতে ইসলামপন্থিদের শাসনের প্রতিই জনসমর্থন প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফল ঘোষণার পরই মুরসি সংবিধানটি কার্যকর করে একটি ডিক্রিতে সই করেন। স্বৈরশাসক মুবারকের পতনের পর এটি মিসরের প্রথম সংবিধান। সমালোচকরা বলছেন, এ সংবিধান ইসলামপন্থিদের অনুকূলে গেছে। উদারপন্থি, বামপন্থি ও সংখ্যালঘু খ্রিস্টানরা এই সংবিধানে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু ও নারীদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে । প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে প্রগতিশীল ও বামপন্থিদের নেতৃত্বে পরিচালিত গণআন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারগুলোর পতন ঘটে। কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশগুলোর ক্ষমতা ইসলামপন্থি দলগুলোর হাতে চলে যায়।