ইরাকে প্রধানমন্ত্রী মালিকির বিরুদ্ধে সুন্নিদের বিক্ষোভ

ইরাকে হাজার হাজার সুন্নী মুসলমান বুধবার সেদেশের শিয়া প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। চতুর্থদিনের মতো চলা এই বিক্ষোভে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। দেশটির আনবার প্রদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সিরিয়া ও জর্ডান সীমান্তের কাছে আনবার প্রদেশে দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক রুটে বিক্ষোভকালে তারা প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা কেউ কেউ শ্লোগান দেয় এই বলে যে,তারা মালিকির নেতৃত্বাধীন এই সরকারের পতন চায়। এতে করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিল। দেশটির অর্থমন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় সুন্নী কর্মকর্তা রাফিয়া আল-ইসাওয়ীর দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করার এক সপ্তাহ পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়। তার এই গ্রেফতারের পরপরই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন অশান্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশটিতে শিয়া-সুন্নীর মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য দায়ী করেন। তারা বলেন, বর্তমানে দেশে যে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই দায়ী। আর আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। তারা আরো বলেন, আমাদের সঙ্গে যে অন্যায় করা হচ্ছে তার অবিলম্বে অবসান চাই। একজন সুন্নী নেতা বলেন, দেশের জাতীয় ব্যক্তিত্বদের গ্রেফতার করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তিনি দেশে সামপ্রদায়িক সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন। এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে এরফলে অতিদ্রুত শিয়া-সুন্নী সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য। সমপ্রতি ইরাকের নির্বাসিত ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আল হাশিমি আল জাজিরার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে ঠিক একই কথা বলেছেন। তিনি মালিকি সরকারের বিরুদ্ধে শিয়া-সুন্নী সংঘাত সৃষ্টির জন্য অভিযোগ করেন। হাশিমি এখন তুর্কিতে নির্বাসিত আছেন। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের পর এটাই দেশটিতে সর্ববৃহত্ বিক্ষোভ। এর আগেও দেশটির কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকি শিয়া মতাবলম্বী দল ইসলামিক দাওয়া পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল।