হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ থাকছে

দিল্লির বাসে গণধর্ষণের শিকার মেডিক্যাল ছাত্রীর মৃত্যুর পর ভারতীয় পুলিশ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে, যাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে। পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিপিআই বলেছে, অভিযোগপত্রে মোট ৩০জনকে সাক্ষী করা হচ্ছে, যার মধ্যে দিল্লি ও সিঙ্গাপুরের চিকিত্সকরাও থাকবেন। তবে প্রধান সাক্ষী হবেন সেই তরুণ, যিনি মেয়েটিকে বাঁচাতে গিয়ে ধর্ষকদের মারধরে গুরুতর আহত হন এবং রাতে যিনি তরুণীর চিকিত্সায় হাসপাতালে ছিলেন। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ এবং ব্যাপক মারধরের পর ২৩ বছরের ওই তরুণী ও তার সেই বন্ধুকে বাস থেকে ফেলে দেয় ছয় পাষণ্ড। ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যায় মেয়েটি। মেয়েটির প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করে সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বাসে সেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই তরুণী ধর্ষিত হওয়ার পর থেকে ভারত জুড়ে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন চলছে। দাবি উঠেছে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির। দিল্লি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকা অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দুইবার জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেই তরুণী। ধর্ষণের ওই ঘটনা এবং ধর্ষণকারীদের বিস্তারিত বর্ণনাও দিয়ে যান তিনি। ধর্ষণকারীদের যে বিচার চান, তাও ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছিলেন ওই তরুণী। দিল্লির পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, আইন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে অভিযোগপত্রটির খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যে ছয় আসামির বিরুদ্ধে এতে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাদের ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড চাইবে পুলিশ।