নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সফল করুন নির্বাচন নিয়ে আমরা আর কী ভাববো? এটা যাদের ভাবা দরকার তারাই ভাবতে থাক। আমরা তো আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না। এমন অভিমানী কত কথা বের হয়ে আসে আপামর জনগণের মুখ থেকে। কথাটা সত্য বলে যথেষ্ট মনে করি। কেননা, নির্বাচন নিয়ে যে কার্যকলাপ চলে, তা দেখে দেখে বেসামাল আর অস্থির হয়ে পড়েছে দেশের জনগণ। আর এমনটা দেখেই তারা নির্বাচন নিয়ে ভাবতে নারাজ। দেশের মানুষের মনের মতো করে নির্বাচনে অংশ নেয় না দলগুলো। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতায় চলে যায় দলগুলো। আর এদিকে সমর্থিত দল ক্ষমতায় না গেলে ক্ষোভ আর আফসোসে ফেটে পড়ে দেশের জনশক্তি। আর তখনি শুরু হয় নানা হাঙ্গামা। জনগণের হূদয়ের একান্ত কামনা থাকে সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের। এমন সুস্থ নির্বাচন আমিও চাই। কিন্তু আমার একার চাওয়া সম্ভব না। তবুও দেশের নাগরিক হিসেবে এমন ভালো প্রত্যাশা করা সবারই কাম্য। শুধু জনগণ আর ভোটাররা সুস্থ ভাবা ভাববে এমন নয়। ভাবতে হবে গোটা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে। কারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই করা সবার মৌলিক অধিকার। হাজার হাজার জনতার সাথে আগামী নির্বাচনকে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারি দল আর বিরোধী দলগুলোকে ভাবতে হবে গভীর করে। যেভাবে তাদের তাণ্ডবলীলা শুরু হয়েছে, তাতে আগামী নির্বাচন যে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে সেটাই এখন প্রশ্ন। তবুও আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষ, দলগুলোকে অনুরোধ করছি। শুধু দেশের মানুষগুলোই নয়, সফররত বিদেশি, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন, রবার্ট ব্লেকের মতো বড় বড় প্রতিনিধিরাও। তাই বাংলার গণমানুষ আগামী নির্বাচন নিয়ে বড়ই আশাবাদী। তাদের প্রাণের দাবি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে এবং দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, রাজনীতিকে কলুষিত না করে, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সফল করুন। মো. নূরুল ইসলাম বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড বিভাগ, প্রথম বর্ষ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ----- দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কাম্য যখন বাংলাদেশের রাজনীতির রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করি তখন মনে বড় কষ্ট পাই। বাংলাদেশের রাজনীতি যে কোনিদকে যাচ্ছে তা আমাদের সকলেরই জানা আছে। আসলে এসকল রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের কি দিয়েছে? স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪১ বছর পরও আমরা এখনও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আছি। যে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসে তারাই ক্ষমতার মায়া ছেড়ে যেতে চান না। কোন না কোন অজুহাতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান। আমরা জনগণ এখন অসহায়। যেভাবে রাস্তায় কোন কোন সময় চলাচল করার সময় দেখি মা তার বাচ্চাকে রেখে অসহায় অবস্থায় ফেলে ভিক্ষা করতে চলে যায় তেমনিভাবে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থা। ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে চাচ্ছেন। এতে বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন রেডিও-টেলিভিশনের খবরগুলো শুনতে আর ভালো লাগে না। এক রাজনৈতিক দলগুলো অন্যদলকে দারুণভাবে দোষারোপ করছে। একদল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন বিরোধী দলে যে থাকে সে উঠে-পড়ে লেগে যায় ক্ষমতাসীন দলের সাথে। কিন্তু বিরোধী দল যদি জনগণের ভাল চাইত এবং বলত সংসদে যোগ দিয়ে যে আমরাও আপনাদের সাথে আছি। যত সহযোগিতা লাগে আমরা সরকারকে করবো এবং নিজেদের দলের কর্মীদের যদি সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিত তাহলে আজ রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতো না এবং নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা হতো না। আমাদের দেখার খুব শখ যে তিন রাজনৈতিক দল এক টেবিলে বসে চা পান করছেন এবং খুব খুশ মেজাজে আছেন। এটা বললে হবে না যে উনি তো স্বৈরাচার। কারণ আপনাদের দুই আমলেও কম যাননি। এবার এসব ভুলে গিয়ে একটি টেবিলে বসেন। শোনেন এবং স্মরণ করেন। বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। এখানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলবে না। ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পবিত্র কোরআনে আছে-লা-ইকরা ফিদ্দিন অর্থাত্ ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করছি প্রচণ্ডভাবে। ২০১৩ সালে তাই আমাদের ভাবনা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে দল জয়ী হবে, সেই দল ক্ষমতায় আসুক। মোহাম্মদ এহিয়া মিরপুর ল’ কলেজ, মিরপুর, ঢাকা। --- নির্বাচন নিয়ে দুই জোটের মধ্যে একটি মীমাংসা না হবে, ততক্ষণ সংঘাত হ্রাসের কোন সম্ভাবনা নেই স্বাধীনতার পর বিগত ৪১ বছরে আমাদের দেশে যেরকম উন্নতি হওয়ার কথা তা হয়নি । এর অন্যতম কারণ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া। স্বাধীনতার পর দেশকে বহুবার স্বৈর শাসনের শিকার হতে হয়েছে। যার ফলে দেশ যেমন কাঙ্ক্ষিত উন্নতি লাভ করেনি তেমনি দেশের মানুষও পায়নি তাদের অধিকার। আর এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। তাদের নানান রাজনৈতিক ভুল এবং ক্ষমতার লোভে নিজেদের দ্বন্দ্ব্ব যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন সেই সুযোগে স্বৈর শাসকেরা ক্ষমতা দখল করে। আমাদের দেশে সবসময়েই দেখা গেছে যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসে ততই সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যায়। বর্তমান সময়ে এসে আমরা আবারো সেই একই ভুলের কবলে পড়ছি। যতক্ষণ দুটি জোটের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একটি মীমাংসা না হবে, ততক্ষণ সংঘাত হ্রাসের কোন সম্ভাবনা দেখি না। এ রকম মুখোমুখি অবস্থায় দুটি জোটের কেউ কাউকে ছাড় দেবে বলে মনে হয় না। যা নিয়ে আমরা তরুণ প্রজন্ম খুবই চিন্তিত। নির্বাচন নিয়ে যে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার মীমাংসা করার জন্য যদি, দেশের সুশীল সমাজ বা তৃতীয় কোন পক্ষ এগিয়ে আসে তাহলে তা ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি। যদিও আমাদের দুই প্রধান দল কারো কোন তত্ত্বকেই মূল্য দিচ্ছে না। কিন্তু তাদের একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হবে, না হলে কোন অপশক্তি তাদের সেই দ্বন্দ্বের সুযোগ নিবে। ফলে দেশ আবার পিছিয়ে যাবে আর জাতিকে তার চরম মূল্য দিতে হবে। শামীম মোহাম্মাদ মাসুদ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (৩য় বর্ষ), সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা। ---- আগামী নির্বাচনে তরুণরা এগিয়ে আসবে— এই আমাদের প্রত্যাশা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণরাই ছিল ‘টার্গেট গ্রুপ’ সেবার এদেশের মোট ভোটারের ৩২ শতাংশই প্রথমবারের মত জাতীয় নির্বাচনে রায় দেয়। চার বছর পর তরুণদের প্রত্যয়, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির অসম সমীকরণের হিসেব কষে এবারের নির্বাচনী সমীকরণে সেই তরুণরাই এক্স ফ্যাক্টর বা ধ্রুব ফ্যাক্টর। আর সে কারণেই তরুণদের মধ্যে রাজনীতি ভীতি বা রাজনীতি প্রীতি যাই থাক না কেন আজকের তরুণরা যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিসচেতন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনে অঙ্গীকারাবদ্ধ সেটি ফেসবুকে, ব্লগে, টুইটারে বা বিভিন্ন প্লাটফর্মে তরুণদের বক্তব্য শুনে সহজেই বোঝা যায়। শুধু সরকার বদলের জন্যেই তরুণ ভোটাররা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রায় দেয়নি বরং অনেক কিছু বদলে দেবার প্রত্যয়ে অনেক প্রত্যাশা ও উত্সাহে ‘দিন বদলের আহবানে’ সাড়া দিয়েছিলো। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিঃসন্দেহে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণদের ডেকে স্বপক্ষে রায় নিয়ে মহাজোট সফল কিন্তু এর সুফল কি তরুণরা পেয়েছে? স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, দলীয় ক্যাডারভীতি কিংবা সরকারের একতরফা নীতির কাছে নতি স্বীকার করে স্বদেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন নির্বিকার বেকার তরুণরা। দেশে ও প্রবাসে চাকরির বাজারের দ্রুত সংকোচন, শেয়ার বাজারের অস্বাভাবিক দরপতন আর নিত্যবাজারের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি তরুণদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে, জাগিয়ে তুলছে! এ জাগরণ বিশ্বময় সার্বজনীন। কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রলোভন, প্রতিশ্রুতি বা ডাকাডাকিতে নয়, সময়ের প্রয়োজনে সব সময়ের মত তরুণরা নিজে থেকেই এবারেও জেগে উঠবে। তরুণবান্ধব কিনা সে সন্দেহ থাকাটা অমূলক নয়। এরকম কঠিন ও করুণ অবস্থায় তরুণরা কি তাদের ডাকে সাড়া দেবে? কথায় আছে “গোয়াল পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়”। মো. নাজমুল হুদা ফার্মেসি ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।