‘ফিসক্যাল ক্লিফ’ এড়ালেও ঝুঁকিমুক্ত নয় যুক্তরাষ্ট্র

শেষ মুহূর্তে ‘ফিসক্যাল ক্লিফ’ এড়াতে পারলেও স্বস্তিতে নেই যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একে স্বল্পমেয়াদী উপশম বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা,সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা। তাদের আশংকা, দেশটির অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফিসক্যাল ক্লিফ’ নিয়ে সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি উপশম। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে নতুন আইন পাস করে একটি সমস্যা সামাল দিয়েছে। কিন্তু এখন তাদেরকে বাজেট ঘাটতি সামলাতে হবে, যে ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেবল ‘অর্থনৈতিক খাদ’ নয় বরং ‘অতল অর্থনৈতিক গহ্বর’ হতে পারে। এদিকে,আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ‘ফিসক্যাল ক্লিফ’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছে না। এই পদক্ষেপ দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অথনৈতিক ঘাটতি এবং ঋণ সমস্যার সমাধানে বেশি কিছু করতে পারবে না বলে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে। আইএমএফের মুখপাত্র গ্যারি রাইস এক বিবৃতিতে আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অথনীতিকে একটা টেকসই রাস্তায় আনতে হলে আরো অনেক কিছু করার আছে। ‘ফিসক্যাল ক্লিফ’ এড়াতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা হলেও দেশটির অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যেই রয়ে গেছে-এই রকম মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এছাড়া, জেপি মর্গান বেসে’র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল ফেরোলি বলেছেন,এই সমঝোতা বড়জোর সমস্যা থামিয়ে রাখার একটি ব্যবস্থা।এতে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা-ভাবনার কোন প্রতিফলন নেই। মর্গান স্ট্যানলির প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ ভিনসেন্ট রিহার্ট বলেন, এই সমঝোতা বেকারত্ব কমাতে কোন ভূমিকা রাখবে না। পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই গত বুধবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেশকে সঙ্কট থেকে বাঁচানোয় নাটকীয় সাফল্যের প্রশংসা করলেও আগামীতে সরকারের ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে নতুন করে লড়াইয়ের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছেন। ওবামা বলেছেন,সরকারের ঋণসীমা বাড়াতে গত বছরের মতো অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তি এ বছর যাতে না হয় । সাম্প্রতিক সঙ্কট কাটানোর মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার আওতায় দেশ মাত্র এক ধাপ এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।