দামেস্কে পেট্রোল পাম্পে বোমায় নিহত ১১

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি জনাকীর্ণ পেট্রোল পাম্পে গাড়ি বোমা হামলায় কমপক্ষে ১১জন নিহত ও ৪০জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দামেস্কের বারজেহ আল-বালাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। এদিকে, সিরিয়ায় অপহূত মার্কিন সাংবাদিকদের এখন পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি। সিরিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত আল-ইকবরিয়া টেলিভিশন স্টেশন থেকে সম্প্রচারিত খবরে দগ্ধ ১০টি লাশ দেখানো ছাড়াও ঘটনাস্থলে আরো হতাহতের সন্ধানে রেডক্রিসেন্ট কর্মীদের তত্পরতা চালাতে দেখা গেছে। একটি গাড়ির ভিতর পেতে রাখা বোমার কারণে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে দামেস্কের সরকারবিরোধী রেভ্যুলেশন লিডারশিপ কাউন্সিল। কারা এ হামলা চালিয়েছে তাত্ক্ষণিকভাবে তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বাজারেহ আল-বালাদ এলাকাটি সুন্নি অধ্যুষিত হলেও এখানে অন্যান্য ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু মানুষজনও বসবাস করে। গত ২১ মাস ধরে চলা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-বিদ্রোহের কারণে দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট চলছে। ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনবরত ভিড় লেগে থাকে। চলতি সপ্তাহে দামেস্কের পেট্রোল পাম্পে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। বুধবার আরেকটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির জন্য ভিড় করা লোকজনের উপর বিমান হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছিল সরকারবিরোধী সূত্রগুলো। গত ২১ মাস ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে, সংঘাতপূর্ণ সিরিয়ায় একজন মার্কিন সাংবাদিক অপহূত হয়েছেন বুধবার তার পরিবার জানিয়েছে । তিনি ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি’র হয়ে চিত্রগ্রহণের (ভিডিও) কাজ করছিলেন। গত ছয় সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই সাংবাদিকের কোনো খোঁজ মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত ২২ নভেম্বর জেমস ফোলেই নামে ৩৯ বছর বয়সী ঐ অভিজ্ঞ সাংবাদিক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিব থেকে অপহূত হন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ফোলেইর নিখোঁজ থাকার সংবাদ জানায় তার পরিবার। জানা গেছে, তাফতানাজ সামরিক ঘাঁটির কাছে ফোলেইর গাড়িচালক ও দোভাষী সহকারীকেও আটক করা হয় ঐ সময়। তবে কিছুক্ষণ পরই সেই দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। ফোলেই অপহরণের ঘটনা সরকার বা বিদ্রোহী কোনো পক্ষই দায় স্বীকার করেনি।