নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

একটাই আশা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান ১৯৭১ সালে আমরা ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জন করি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ দেশ প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর। কিন্তু বর্তমানে এই স্বাধীন দেশে গণতন্ত্রের নামে চলছে খুন, গুম, দুর্নীতি ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রম যা দেশ ও জাতির জন্য মোটেও কাম্য নয়। বর্তমানে দেশের প্রধান দুটি দল তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। তাদের এই অবস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ, দেশের সম্পদ ও জাতি। দেশকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে এবং দুই দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে ২০১৩ সালে সঠিক সময়ে নির্বাচন সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের মতো দেশের মানুষ আবারও দেশকে স্বাধীন করতে চায় খুন, গুম, দুর্নীতি ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। এখন এই স্বাধীন বাংলার মানুষের একটাই আশা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ২০১৩ সালে সঠিক সময়ে নির্বাচন। যা দেশ ও জাতির কল্যাণে সহায়ক। মাসুম বিল্লাহ এম,এস-সি, রসায়ন কারমাইকেল কলেজ, রংপুর। সমস্যা সমাধানের জন্য রাজনীতিবিদদের একযোগে কাজ করতে হবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই দেশ পরিচালনা করে। আমাদের দেশে ৫ বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ চার বছর শেষ হয়ে গেছে। অর্থাত্ আর এক বছর পরই নির্বাচন। কিন্তু এ নিয়ে শুরু হয়েছে এক জটিলতা, একদিকে সরকার বলছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবে না। ফলে এ নিয়ে দেশে শুরু হয়েছে হরতাল, অবরোধ-এর মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি। আমাদের দেশে হরতাল মানে গাড়ি পোড়ানো আর গাড়ি ভাংচুর, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কয়েক বছর আগে তত্কালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমান বলেছিলেন, ‘একবার হরতাল মানে প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকা ক্ষতি, যা আমাদের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের উন্নতির প্রধান অন্তরায়। কিন্তু আমরা তরুণ প্রজন্ম এই অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই। আর রাজনীতিবিদরাই পারবে এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে। রাজনীতিবিদদের উচিত সব সংকীর্ণতা পরিহার করে একযোগে কাজ করা এবং একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা; কারণ আমরা চাই সফল ও সুন্দর বাংলাদেশ, যে দেশের জন্য আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। নয়ন কান্তি দাশ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৪র্থ বর্ষ সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম। চাই সুন্দর পরিবেশ ও বাস্তবধর্মী ইশতেহার আমরা সবাই ভালো করে জানি, যেকোন কাজ সুন্দরভাবে করার পূর্বশর্ত হল একটি সুন্দর পরিবেশ। তাই আগামী নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ সরকারের উচিত একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা, আর এজন্য বিরোধী দল ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক নেতারা একই মঞ্চে দাঁড়াবেন। সরকারি দল বিরোধী দলকে সম্মান দেখাবেন। বিরোধী দল, সরকারি দলকে অভিনন্দন জানাবেন এবং সর্বপ্রকার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিবেন। ২০১৩ সালের নির্বাচন উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আগাম অনুরোধ করবো যে, আপনারা এমন কোন প্রতিশ্রুতি দিবেন না, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। অগণিত প্রতিশ্রুতির দরকার নেই। শুধু এতটুকু নিশ্চয়তা দিবেন যে, সকল ব্যক্তি তার নিজস্ব পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে। মিথ্যা যেমন সকল পাপের মূল, তেমনি দুর্নীতি সকল উন্নয়ন রোধের চাবিকাঠি। অতএব আপনারা যে দলই ক্ষমতায় আসবেন তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, ‘দুর্নীতি থামান’। সবশেষে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কামনা করছি এবং বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করে এখানেই শেষ করছি। মো. আবদুর রহমান (২য় বর্ষ) শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একজন ভাল মানুষের নির্বাচন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ আমরা জনগণ চাই দেশের উন্নতি, দেশের মানুষ চায় ভালোভাবে বেঁচে থাকতে। এটাই তো জনগণের চাওয়া। আর একটা বিষয় হলো, আওয়ামী লীগের কথাই বলুন আর বিএনপির কথাই বলুন। তারা কে নির্বাচিত হবেন, জনগণ কাকে চায় তা ডিপেন্ড করবে কাজের ওপর, তাদের উন্নয়ন-এর ওপর, তাদের কাজের গুণের ওপর। তারা নিজেরা যদি ঠিক করতে চান কে নির্বাচিত হবেন তাহলে দেশের বারোটা বেজে যাবে। আর তারা নিজেরা যদি ঠিক করে থাকেন তাহলে নির্বাচনের দরকার কি? নিজে-নিজেই হয়ে যাক, কিন্তু অন্য দেশে দেখেছেন যে একসাথে দুবার নির্বাচিত হয়েছেন। কেন হয়েছেন? ক্ষমতার গুণে নয়, দেশের উন্নয়ন-এর কারণে, জনগণের ভালবাসার কারণে নির্বাচিত হতে পেরেছেন। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাবান মন্ত্রীরা নির্বাচন আসলে তাদের দেখা মেলে এবং তারপরে তাদের আর খবর থাকে না। আর যে সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা দিয়ে যান তার এক বিন্দুও পালন করেন না। বর্তমানে চলছে রাজারা রাজার মতো বাঁচবেন, আর গরিব যারা তারা না খেয়ে মারা যাবেন। তাই আমি দুপক্ষকেই বলবো হরতাল হাঙ্গামা বন্ধ করুন। দেশের নির্বাচন জনগণের হাতে ছেড়ে দিন। আপনারা চিন্তামুক্ত থাকুন। আল্লাহ্ যাকে ভালো মনে করবেন তাকে নির্বাচিত করবেন এবং আমি আল্লাহ্র কাছে বলি যে, হে দয়াময় একজন ভালো মানুষ নির্বাচিত করো, যাতে গরিব দুখী মানুষ খেয়ে পরে বাঁচতে পারে। মো. মোসারেফ মো. সোহাগ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ২য় বর্ষ রোল- ৭৩ ষোলশহর ফরেস্ট অফিস, চট্টগ্রাম।