গণমাধ্যমে নৃশংসতার বর্ননা
দিলেন মেয়েটির বন্ধু
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি গণ-ধর্ষণের শিকার ভারতীয় ছাত্রীটির সঙ্গে থাকা গুরুতর আহত ছেলে বন্ধুটি প্রথমবারের মতো জি নিউজ টেনওয়ার্ককে গত শুক্রবার দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল এতই নৃশংস যা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়.....এমনকি পশুরাও এ ধরনের আচরণ করে না।’ নিপীড়করা লোহার রড দিয়ে মারতে থাকায় আমি জ্ঞান হারাই। গণধর্ষণের পর এ অবস্থায় আমাদের রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা করা হয়। ছেলেবন্ধুটি বলেন, ‘কয়েকজন পথচারী আশপাশে জড়ো হলেও কেউ আমাদের সাহায্য করেনি। পুলিশ আসার আগে আমি সাহায্যের জন্য প্রাণপণ চিত্কার করতে থাকি, কিন্তু পাশ দিয়ে যেতে থাকা অটোরিকশা, প্রাইভটেকার-কোনোটাই থামেনি।’ ৪৫ মিনিটের বেশি সময় রাস্তায় পড়ে থাকার পর একটি পুলিশের গাড়িতে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা আসেন। আমরা তাদের লক্ষ্য করে চিত্কার করে বলি, ‘দয়া করে আমাদের কিছু কাপড়-চোপড় দিন,’ কিন্তু কর্ণপাত না করে ঘটনা কোন থানার আওতায় পড়েছে তা নিয়ে তারা তর্ক করতে থাকেন। এবং এর ঘন্টাদেড়েক পর আমাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে রাজন ভগত জানান- জিপিএফ রেকর্ড অনুযায়ী খবর পাওয়ার মিনিট চারেকের মধ্যে পুলিশের প্রথম গাড়িটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এরপর ২৪ মিনিটের মধ্যে আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এক ছেলেবন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে ফেরার সময় নয়াদিল্লিতে একটি গণ-পরিবহনে গণধর্ষণের শিকার হন ২৩ বছর বয়সি ভারতীয় ঐ ছাত্রী। ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ধর্ষণ বন্ধে সরকারের
নতুন চিন্তা-ভাবনা
এদিকে গণধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নারী নির্যাতন বন্ধে করণীয় নিয়ে গত শুক্রবার সব রাজ্যের মুখ্য সচিব ও পুলিশ-প্রধানের সঙ্গে আলোচনা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডে বলেন, নারীদের ওপর অপরাধ বন্ধ কতে ভারতের পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনার ঘাটতি রয়েছে। নারীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। এ জন্য কঠোরতর আইন তৈরির প্রয়োজন।