নির্বাচন নিয়ে ভাবনা
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
সকলের অংশগ্রহণে
নিশ্চিত হোক সুষ্ঠু
নির্বাচন
নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম সৌন্দর্য। দেশে বিদ্যমান নিবন্ধকৃত সব বৈধ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়ে উঠে আনন্দ-উল্লাসের উত্স। জনরায়ের কাঠগড়ায় বিচার পাওয়া না পাওয়ার হিসেব বুঝিয়ে দেয় ভোটাররা। অতীত ইতিহাস আর দেশসেবার খতিয়ান যুক্ত হয় সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে। সংবিধান, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার আর আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা নিশ্চিত হয় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। ২০১৩ সাল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের বছর হলেও ক্ষমতার রাজনীতির দৌরাত্ম্যের কারণে অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে নির্বাচন বিষয়ক তর্ক-বিতর্ক। ক্ষমতাসীন জোট আর বিরোধী জোটের মধ্যে পার্থক্য দৃশ্যত স্পষ্ট হয়ে উঠছে সচেতন জনগণের মধ্যে। বিরোধীদল চাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, সরকারি দল তার উল্টো অবস্থানে। দই জোটের এ চাপায় পড়ে ত্রাহি অবস্থা জনগণের। হরতাল-অবরোধসহ নানাবিধ কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধীদল, তা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থাও নিয়েছে সরকার। ক্ষতিটা কার? জনগণকে অধিক দামে ভোগ্যপণ্য কিনতে হচ্ছে। জনগণের রাজনীতিকে যদি রাজনীতিকরা প্রাধান্য দিতেন তাহলে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের নেতারা বিভিন্ন দেশে যান, দেখে থাকেন তাদের নির্বাচনী সিস্টেম, কিন্তু তা দেশে প্রয়োগ করেন না। নিজ দল হারলেই শুরু হয়ে যায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপি হয়েছে ইত্যাদি স্লোগান। রাজনীতিকদের বুঝা উচিত তাদের বিদেশি প্রভুরা নির্বাচনে হারলে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। দেশের উন্নয়নে একাত্মতা পোষণ করেন। আমরা চাই সব রাজনৈতিক পক্ষের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য রক্ষা করবে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং দেশের আপামর জনসাধারণ।
এস ইলিয়াস বাবর
৩য় বর্ষ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।
-----
আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে চরম বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে
বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। আগামী ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। একদিকে সরকার বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অর্থাত্ বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হবে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। বিরোধীদলের ধারণা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহারের জন্য বিরোধীদল তাদের আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে সরকার বলছে, তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের কোন সুযোগ নেই। কারণ সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ও বিরোধীদলের মনোভাবের কোন পরিবর্তন আসেনি। তাই বুঝা যাচ্ছে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কারণ একদিকে বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল না করা হলে নির্বাচনে যাবে না। অন্যদিকে সরকার ও তার সিদ্ধান্তে অনড়। বিরোধদল বলছে কিছুদিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। সরকার ও বিরোধীদলের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে, প্রাণ হারাতে হচ্ছে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ পথিককে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের কারো প্রতি কোন বিশ্বাস নেই, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্যকোন দেশে মনে হয় এই ব্যবস্থা চালু নেই। আমাদের দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পরও যে দল হেরে বলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি, ভোট কারচুপি হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচন হউক সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ, এটাই আমাদের সাধারণ জনগণের চাওয়া।
রোমন খান (সুমন)
২য় বর্ষ, মানববিজ্ঞান বিভাগ, শাহপরান হল,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
----
গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন একটি
অন্যতম শর্ত
গণতন্ত্র বলতে জনগণের শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায়। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ (Democracy)। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রর মূল ও সর্বোচ্চ আইন হল সংবিধান। সংবিধানে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় দিক-নির্দেশনা। আজ স্বাধীনতার চার দশক পর এসেও আমাদের নেতারা কিভাবে নির্বাচন করবেন তা ঠিক করতে পারছেন না। অনেক আন্দোলন করে ১৯৯১ সালে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সংঘাতময় রাজনীতির কারণে তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে যখন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় তখন জনগণ আশা করেছিল যে পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে বড় দলগুলোর মধ্যে একটা পরিবর্তন আসবে কিন্তু তা আসেনি। সংঘাতময় পরিবেশের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনকে দিন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য করণীয় হলো:প্রথমত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক আদর্শ ও সমঝোতা সৃষ্টি। দ্বিতীয়ত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন। তৃতীয়ত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন। পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা খুবই কার্যকরী এবং এর গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্য নিম্নোক্ত উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য:Really it is a exemplary initiative for our Country.
সামিনা আক্তার রিয়া
একাদশ শ্রেণী মানবিক বিভাগ,
মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ।
-----
নির্বাচন হতে হবে
শান্তিময়
নির্বাচন আসলেই মারামারি, কাটাকাটি শুরু হয়ে যায় আমাদের দেশে। বিশ্বের তো আরো অনেক দেশে নির্বাচন হয় তাদেরও কি এই অবস্থা? নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে ততই কেমন যেন আতঙ্ক বিরাজ করে জনমনে। না জানি কখন কি হয়, না জানি কখন কোথায় মারামারি শুরু হয়ে যায়!! কেন? কেন জানি নির্বাচনটাকে কেউ সহজভাবে নিতে পারে না। আসলে এই আতঙ্কের কারণ কি? এটা কি জনমনে ভ্রান্ত ধারণা নাকি যারা নির্বাচন পরিচালনা করে তাদের গাফিলতি? প্রশ্নটা সবার কাছে থাকলো। বাংলাদেশে যদি কোন দল নির্বাচনে জয়ী হয় তাহলে অন্যদল কোনভাবেই এটা মেনে নিতে পারে না। এটা কেমন অবস্থা!!! হার জিত থাকবেই। কেউ যদি ক্ষমতা খাটিয়ে এককভাবে নির্বাচন করতে চায় তাহলে বুঝতে হবে সেই নির্বাচন দেশের মানুষের বিরুদ্ধে হয়েছে। অবশ্যই দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছার দাম দিতে হবে। কেননা গণতান্ত্রিক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স, এটা স্বীকার করতে হবে। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যে নির্বাচনে কোন মারামারি কাটাকাটি হবে না, সবাই মনের আনন্দে ভোট দিতে যাবে। আর এর জন্য দরকার হচ্ছে ভালো মানসিকতা, যে মানসিকতা দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকবে। করতে হবে পরস্পর পরস্পরকে সম্মান। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, আমরা শান্তি চাই। যেভাবে নির্বাচন করলে দেশের ও মানুষের কাছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন মনে হবে সেইভাবে নির্বাচন করতে হবে। কোন এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন করলে শান্তির বদলে অশান্তিই বেশি হবে।
কবির খন্দকার
রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।