নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

দুই নেত্রী একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব দলীয় স্বার্থে বিরোধী নয় জাতীয় স্বার্থে সমঝোতায় আসুন তাহলে জনগণের কোনো ক্ষতি হবে না, তাই দুই নেত্রী একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। কেন না তা না হলে দু’দলই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবং আগামীতেও হতে হবে বলে মনে হয়। কারণ জনগণ তাদের দুই নেত্রীর কর্মকাণ্ড দেখে তারা দিনে দিনে পিছু চলে আসছে। এটা দু’দলের জন্যই ক্ষতিকর অবস্থা। আগে দেশের স্বার্থের জন্য যে একটা ভালবাসা ছিল তা দিনে-দিনে কমতে বসেছে। তাই দু’পক্ষকে জনগণের ভালবাসার প্রতি খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে করি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হাতের আওতায় থাকলেই মানুষ বেশি খুশি থাকবে বলে মনে হয়। তাহলে সাধারণ জনগণের জীবন-যাপন করতে কোন সমস্যা থাকবে বলে মনে হয় না। তাই দু’পক্ষকেই বলবো নিজের স্বার্থে নয় জনগণের স্বার্থে কাজ করুন, দু’পক্ষ একত্রে বসে কাজ করুন, তাহলে বাংলাদেশকে আগামীতে গরিব দেশ হিসাবে গণনা করতে হবে না এবং আগামীতে যে সংসদ নির্বাচন হবে, তাতে কোন বাধাগ্রস্ত হতে হবে না। আগামীদিনের বাংলাদেশ ভালো একটা পজিশনে যেতে পারবে এবং দেশের মানুষ ভালো থাকবে, মাছে-ভাতে বাঙালির মতোই জীবন-যাপন করতে পারবে। সবার মুখে হাসি থাকবে খেয়ে-পরে খুশি হবে, আল্লাহর রহমতে সুখী হবে বাংলাদেশের মানুষ। সুন্দর একটা দেশ হিসাবে বাংলাদেশ সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারবে। মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ষোলশহর ফরেস্ট অফিস বাঁশ বাগান, চট্টগ্রাম। দেশের স্বার্থে দু’জোটের ঐকমত্য অপরিহার্য আমাদের দেশে রাজনীতি দু’টি গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে মহাজোট এবং অপরটি বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ঐক্যজোট। মূলত এ দু’টি জোটের সিংহভাগ দখল করে আছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গত চার বছরে এ দু’টি জোটের বিরোধের কারণে বহু সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এ বিরোধ চরম পর্যায়ে। একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, আমাদের দেশের বেশিরভাগ রাজনীতিবিদের মধ্যে দেশপ্রেমের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। দেশপ্রেমতো দূরের কথা, অনেক রাজনীতিবিদের নিজ দলের প্রতিও আন্তরিকতা নেই, তাঁরা শুধু ব্যক্তিগত অবস্থান সুদৃঢ় করা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলশ্রুতিতে দেশপ্রেমের বদলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিংসা-বিদ্বেষ, লুটতরাজ, সন্ত্রাস ইত্যাদি ন্যক্কারজনক ও জঘন্যতম কাজের আধিক্য ঘটছে। কিন্তু এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে চলে যাবে। আর এসব সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সম্ভব যদি দু’জোট দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একীভূত হতে পারে। দেশের স্বার্থে দু’জোটের ঐকমত্য অপরিহার্য। দেশের সুশীল সমাজ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। দু’জোটকে এক টেবিলে বসিয়ে আগামী নির্বাচনের একটা সঠিক পথ বের করতে হবে। নতুবা দেশ সহিংসতার দিকে এগুতে থাকবে—যা সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আগামী নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আর তজ্জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার তাত্পর্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে দু’জোটের একই অবস্থানে আসা জরুরি। ফারিহা আলদিন চৌধুরী প্রথম বর্ষ বিজ্ঞান শাখা খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ আমিশপাড়া, নোয়াখালী। যে যায় লংকায়, সেই হয় রাবণ বাংলাদেশে পাগল এবং শিশু ব্যতীত সবাই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত। তাহলে সবাই যখন রাজনৈতিক দলের সমর্থনপুষ্ট, তাহলে বলা যায় কেউ নিরপেক্ষ নয়। তাহলে কার হাতে তুলে দিবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব? বর্তমান সরকার সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। সেই ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য বিরোধী দল লাগাতার কর্মসূচি দিচ্ছে। আমার মনে হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বাতিল করা হোক এবং ক্ষমতাসীন দলের অধীন থেকেও নির্বাচনকে মুক্ত করা হোক। এমন কোন পদ্ধতি বের করা হোক যার মাধ্যমে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত অন্য কোন পন্থা অবলম্বনের জন্য জনমত যাচাই করা যেতে পারে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নির্বাচন দেয়া যেতে পারে। সর্বোপরি ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে জনগণের স্বার্থে কাজ করার মনোভাব থাকলে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। মো. আমিনুল ইসলাম ২য় বর্ষ, উর্দু বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নির্বাচন নয়, সংঘাতের দিকে এগুচ্ছে বাংলাদেশ বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আজ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে। বিরোধী দল বিএনপির দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এখানে উল্লেখ করার বিষয়, দুই দলই তাদের নিজ নিজ দাবিতে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে, কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইছে না। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে সংঘাতের সৃষ্টি হবে। যা আমাদের দেশের গণতন্ত্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে। বর্তমানে প্রধান দুই দলের মধ্যে সে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব তৈরি হয়েছে তা দেশের জন্য অকল্যাণকর। তাই আমি বলছি, এই বিদ্বেষ ত্যাগ করে সমঝোতায় আসা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ বিএনপি’র মধ্যে যে বিদ্বেষের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তা থেকে ওঠে আসতে দু’পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে। যার কোন লক্ষণই আমি দেখছি না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়ে সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান দুই দলের উদ্দেশে একটা কথা বলতে চাই যে কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের জনগণ। তাই আপনাদের উচিত জনগণকে ভয় করা, যারা একটা দেশ চালানোর মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আপনাদের হাতে তুলে দেয়। যদিও আপনারা এটা করেন না তারপরেও বলছি, দেশের জনগণের দিকে তাকিয়ে এই সংকটময় সময় থেকে উত্তরণের জন্য নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করুন। অন্যথায় যে সংঘাতের সৃষ্টি হবে তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। সৌরভ দাস শ্রেণি-দ্বাদশ বিভাগ-বিজ্ঞান সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট।