নির্বাচন নিয়ে ভাবনা
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২১
সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হল নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা
বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি নির্বাচনকালীন এবং তত্পরবর্তী সময়েই এ দেশের রাজনৈতিক মাঠ সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন ‘নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা’ মিডিয়ার নিয়মিত শিরোনামে পরিণত হয়। এ জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশেষত আমাদের দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার জন্য কোন অঘটন ছাড়াই অনুমোদিত (বৈধ) পন্থায় সরকার পরিবর্তন তথা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তাতে কোন ব্যক্তি বা দল কিংবা তাদের আজ্ঞাবহ সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে তা জনগণ এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারছে না। আজ অবধি সরকার ও বিরোধী দল উভয় শিবিরই স্ব স্ব অবস্থানে অনড়। সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন এ ভূখণ্ডে বসে তারা নিজেদের মতামতের সামান্যতম ছাড় দিতেও রাজি নয়। যা জনসাধারণের মনে দিন দিন উদ্বেগ ও শংকা বৃদ্ধি করে চলছে। যেখানে বিগত নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা (ড. ইয়াজউদ্দীন) নিয়ে আস্থাহীনতার দরুন তত্কালীন বিরোধী দল সে সরকারের উপর সুষ্ঠু নির্বাচনের ভরসা রাখতে পারেনি, সেখানে আর কোন দলীয় কিংবা তাদের আজ্ঞাবহ সরকারের অধীনে আদৌ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব কিনা সে সন্দেহ বরাবরই রয়ে যাচ্ছে, বরং তা যেন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ, ইতোমধ্যে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দু’দলের অব্যাহত দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের গণতন্ত্রের ভাগ্যাকাশে আবারো ১/১১-র মত কালো মেঘের ঘনঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সুতরাং, দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার স্বার্থে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অত্যাবশ্যক। আর এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বশর্তই হল দলীয় প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা এবং এটি যেকোন নামে হতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে দু’নেত্রীকে সমঝোতায় পৌঁছা উচিত। অন্যথায় সুষ্ঠ নির্বাচন তো হবেই না বরং দেশের গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় যেকোন দুর্ঘটনার জন্য দু’নেত্রীই জনগণের নিকট দায়ী হবেন। আমরা প্রতীক্ষা করছি এ সংকট উত্তরণে শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট সকলের বোধোদয় হবে।
নূরুল্লাহ মুহিত
৫ম সেমিস্টার, ৩য় বর্ষ
আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশের নির্বাচন যথাসময়ে দেয়াই উচিত
কোন কোন রাজনীতিবিদ তো দেশের কথা ভাবেনই না, বরং ভাবেন শুধু তার নিজের ব্যাংকে অবৈধ উপায়ে কত টাকা জমা হলো। নিজের ব্যাংক একাউন্টে কোটি টাকা জমাতে সাধারণ মানুষের জীবন নিতেও প্রস্তুত। তাহলে বুঝতে তো পারছেন, যারা অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করে মানুষকে বাঁচানোর দায়-দায়িত্ব নেয়, তারাই মানুষকে মারতে কখনও দ্বিধাবোধ করে না। সাধারণত রাজনীতিবিদরা রাজনীতিকে আজকাল দাবার কাঠির চাল বলে গণ্য করে থাকে। যার যেমন ইচ্ছা সে সে রকমভাবে খেলে থাকে। কিন্তু তাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সব ক্ষমতার উত্স হল জনগণ। এই কথার ভিত্তিতে বলা যায়, যার যেদিন ইচ্ছা সে সেদিন দেশে হরতাল ডাকবে, অবরোধ করবে, কিন্তু একবারও তারা ভাবে না দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা। বিরোধীদল ও সরকারের মধ্যে যে শত্রুতার জের ধরে নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে, এবং যাবে তা যেন তারা একসাথে বসে ঠিক করে নেয়। কেননা তাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে তারা যত বড় বড় রাজনীতিবিদই হোন না কেন তারা সবাই দেশের, এবং দেশের জনগণের জন্যই কাজ করে থাকেন।
মো. শহিদুল ইসলাম
বাণিজ্য বিভাগ: লাঙ্গলবাঁধ আদিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ।
সমঝোতার মাধ্যমে সম্ভব সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন
আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? আমরা কি স্বৈরশাসনে পিষ্ট অধিকারহীন দেশ চাই, নাকি গণতান্ত্রিক চর্চার বহুমাত্রিক সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ চাই?
আমরা কি রাজনীতিকে ব্যবসায় ও দুর্বৃত্তায়ন চাই, নাকি আদর্শের চর্চা চাই? আমরা কি উন্নয়ন ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ চাই, নাকি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য চাই। এই সিদ্ধান্ত দু’নেত্রীর সমঝোতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গঠন করতে পারে। আর তারা যদি সুশাসনের গণতান্ত্রিক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাসমৃদ্ধ স্বদেশ চাই তাহলে সব ভেদাভেদ, মান-অভিমান ভুলে দু’নেত্রীর এক হয়ে কাজ করতে হবে। আজ এ দেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার হচ্ছে ভূ-লুণ্ঠিত। তাই সর্বপ্রথম দেশের ও জনগণের কথা বিবেচনা করে ক্ষমতার নির্বাচন পরিহার করে দেশের কথা ভেবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা উচিত।
মো. সাইফুল ইসলাম (আজম)
সরকারি সিটি কলেজ,
বি.বি.এস (স্নাতক) পাস কোর্স,
১ম বর্ষ (ব্যবসায় শিক্ষা শাখা),
আইস ফ্যাক্টরি রোড, চট্টগ্রাম।
নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ
নির্বাচন চাই
নির্বাচন হল জনগণ কর্তৃক বাছাইয়ের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে প্রতিনিধি বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রকাশ পায় এবং সরকার জনসাধারণের প্রয়োজন অনুযায়ী শাসন সংক্রান্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্যে নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচনের কর্মতত্পরতায় বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতার সৃষ্টি হয় এবং সচেতন রাজনীতিক বিকাশ ঘটে। নির্বাচন ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধনের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে ভোটাধিকার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক না কেন আমরা চাই নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আমার মতে, নির্বাচনে রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনসাধারণের ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনে সহায়তা করবে। সরকার পরিবর্তনের জন্য বিপ্লব বা বিদ্রোহের প্রয়োজন হয় না। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যেন গণবিরোধী কাজে লিপ্ত না হয়, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেদিকে বিরোধী দলসহ সকলকেই দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে বিরোধী দলই বিকল্প সরকার। নির্বাচনের ভোট দেয়ার সময় যোগ্য, সত্ ও শিক্ষিত প্রার্থীকে জয়ী করার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পরিশেষে দেশকে ভালবেসে, জনগণকে ভালবেসে নির্মল পরিবেশ বজায় রাখতে কলুষিত রাজনীতি ছুঁড়ে ফেলে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে মারামারি, কাটাকাটি দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা সংঘবদ্ধভাবে ও নিরপেক্ষভাবে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আমাদের উপহার দিবে— এটাই দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা।
তরিকুল ইসলাম রাসেল
শিক্ষার্থী, মানবিক বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।