সাবাস ছাত্রলীগ!

পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রদের পাস করিয়ে দেবার দাবিতে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ব্যাপক ভাংচুর ও তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন তিন শিক্ষক ও সাধারণ কর্মচারীসহ ১০ জন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দিয়েছে (৭ জানুয়ারি ইত্তেফাক)। ওদিকে আর একটি পত্রিকার খবর হলো, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের একদল বহিরাগত কর্মী। তারা হামলা চালিয়ে অবস্থান ধর্মঘটের স্থান দখলে নিয়ে সেখানে সভামঞ্চ নির্মাণ করে। ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান ধর্মঘটে ব্যবহূত মাইক ভাংচুর করে। এ সময় মাইকের ব্যাটারির এসিড ছিটকে আন্দোলনরত দুই শিক্ষকের চোখে পড়ে। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন দিকে দিকে উচ্চারিত হচ্ছে দিনবদলের শ্লোগান। আমাদের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত সোনার ছেলেরাও দিনবদলের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মহাসমারোহে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তারা কত মহত্। ফেল করা ছাত্রদের পাস করিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করছে, ভাংচুর করছে। ফেল করা ছাত্রদের নিয়ে আমাদের সমাজে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। সবাই পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাথা ঘামায়। সেখানে ছাত্রলীগের কর্মীরা ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করেছে, ভাংচুর চালিয়েছে—তা কী সহজ কথা! ছাত্রলীগের এই ভূমিকা সত্যিই অনন্য এবং অসাধারণ। আবার রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ধরা যাক। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি-অনিয়ম ইত্যাদির প্রতিবাদে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যলয়ের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছিল, একই সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এখানেও আমরা ছাত্রলীগকে ত্রাতার ভূমিকায় দেখতে পাই। আন্দোলন দমনের কাজে তারা নিজ দায়িত্বে ভূমিকা পালন করেছে। এখানেও তারা তাদের সীমাহীন মহত্ত্ব দেখিয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঢাকায় বিশ্বজিেক যেভাবে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেভাবে শিক্ষা দিতে পারতো। কিন্তু তারা তেমনটি করেনি। যে দুই শিক্ষক মারাত্মক জখম হয়েছেন ব্যাটারি থেকে নির্গত এসিডে তাদের এই সর্বনাশ হয়েছে। চাইলে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা কি বিশুদ্ধ এসিডে আন্দোলনকারীদের মুখ ঝলসে দিতে পারতো না? কিন্তু তারা মহত্ বলেই এমন কাজ করেনি। অন্য সবাই যখন বেআদবের মতো উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন, তখন ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরাই মানির মান রাখতে এগিয়ে এসেছে। অবশ্য অজ্ঞাত কারণে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন সব সময় উপাচার্যকে ভীষণ সম্মান করে। উপাচার্যবিরোধী যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামকে দমন করাকে তারা কর্তব্য মনে করে। ছাত্রলীগও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আন্দোলন দমনে তাদের এই স্বেচ্ছাসেবী এবং এমন কর্তব্যনিষ্ঠ ভূমিকা জাতি নিশ্চয়ই মনে রাখবে। আমাদের সমাজের মূল্যবোধগুলোকে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা খুব দ্রুতই বদলে দিচ্ছে। তাদের বদৌলতে আমাদের সমাজে এখন ‘যত বড় পাঁঠা তত বড় আসন’। সুবোধ, শান্ত অথচ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছাত্রসমাজকেই আমরা যুগ যুগ ধরে চিনতাম। বহুকাল ধরে এদেশের শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের ছাত্রদেরই আনাগোনা ছিল। অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এ ছাত্রসমাজ গর্জে উঠেছে। মাতৃভাষা, মাতৃভূমি ও স্বদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জীবন উত্সর্গ করতে পর্যন্ত দ্বিধাবোধ করেনি। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। এখনকার ছাত্র রাজনীতির সোনার সন্তানেরা ইতিহাস ‘রচনা’ করে; কিন্তু পাঠ করে না। তাইতো এখন শিক্ষাঙ্গন মানেই হচ্ছে দলীয় রাজনীতি—ছাত্রলীগ, ছাত্রদল অথবা ছাত্রশিবির। ছাত্র হিসেবে নয়, দলের ‘ক্যাডার’ হিসেবেই তাদের পরিচয়। এসব দলে এখন আর কোনো নেতাকর্মী নেই, সবাই ক্যাডার। বই-খাতা-কলম কিংবা মহত্ কোনো আদর্শ নয়, নগদ-নারায়ণই হচ্ছে এই ক্যাডারদের অনুষঙ্গ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ছাত্র কিংবা গণমানুষের অধিকার নয়, প্রতিপক্ষ দমন ও দলীয় কোন্দলে অংশগ্রহণ করাই তাদের প্রধান আদর্শ ও লক্ষ্য। অন্য কারো জন্য নয়, নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই তারা লড়ে এবং মরে। অবৈধভাবে ছাত্র ভর্তি করিয়ে টাকা কামানো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলবাজি, নিজেদের প্রভাববলয় বৃদ্ধির জন্য হল দখল, সিট দখল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, খুন-হত্যা এমনকি ছিনতাই পর্যন্ত বর্তমান যুগের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সোনার ছেলেদের আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বৃহত্ রাজনৈতিক দলের সমর্থনে ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্র রাজনীতির এই সোনার ছেলেরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জাহান্নামের পথে নিজেদের, পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়াটাই অবশ্য বড় কথা। তা সে জাহান্নামের পথেই হোক, আর হাবিয়ার পথেই হোক (ছাত্র রাজনীতির এ দুঃসাহসিক কাণ্ডারীদের অভিযাত্রাকে সমাজের মানুষগুলো মেনে নিয়েছে। (তা না হলে ছাত্র রাজনীতির নামে এদেশে যা হচ্ছে, যা চলছে এর জন্য থানা-পুলিশ বা আইনের দরকার হতো না, গণপিটুনিতেই এতদিনে তাদের হাড়-মাংস একাকার হয়ে যেত। তা যখন হচ্ছে না, তখন ধরেই নেয়া যায় যে, এদেশের সাধারণ মানুষও এখন তাদেরকে ‘ন্যায় জ্ঞান’ করে মেনে নিয়েছে)! প্রায়ই প্রকাশিত হচ্ছে তাদের আদিম হিংস্র প্রবৃত্তি। একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়ছে, একে অপরের ওপর হিংস্র কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাদের হুঙ্কার ও হিংস্রতায় শিক্ষাঙ্গনগুলো কেঁপে উঠছে। শিক্ষাঙ্গনের সবুজ চত্বর এখন ছাত্র রাজনীতির আচ্ছাদনে ঢাকা। এই ‘বীর নওজোয়ানদের’ উদ্ধত পদচারণায় মুখর। শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় এসব বীরের অবদান সভ্যতার অভিযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন শিক্ষাঙ্গন মানেই হচ্ছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল অথবা ছাত্রশিবিরের দখলদারিত্ব, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ। অথবা ভাগবাঁটোয়ারা কিংবা কর্তৃত্ব নিয়ে নিজেদের মধ্যেই গুঁতোগুঁতি। শিক্ষাঙ্গন এখন আর লেখাপড়া, জ্ঞান, তত্ত্বের চর্চা ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ নেই। জ্ঞানের ব্যাপ্তি বেড়েছে, বিদ্যার সীমান্তও বিস্তৃত হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াতের দলীয় রাজনীতির ওপর অন্ধ আনুগত্য এবং এই রাজনীতি প্রসারের জন্য প্রাণপাত করাই হচ্ছে ‘জ্ঞান’। চাঁদাবাজি-টেণ্ডারবাজি, খুন-হত্যা, হল দখল, সিট দখল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টি, অপহরণ, ছিনতাই, ডাইনিংয়ে-ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া, সংঘাত-সংঘর্ষে অংশগ্রহণ, উপদলীয় সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, হাসিনা-খালেদার নামে মাতম, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টিই হচ্ছে ‘নলেজ’। বিদ্যাচর্চায় ও জ্ঞান অনুশীলনে এগুলোই মূল সিলেবাস। এই পাঠ যারা আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করছে, সমাজে তারাই সফল হচ্ছে। তারা এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত বনে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি দেশকে আর কিছু দিতে না পারুক তাদের অভিনব এই ছাত্র ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে ঠিকই পালটে দিতে পেরেছে। তাদের ক্যাডার বাহিনী বদলে দিয়েছে শিক্ষাঙ্গনের চেহারা। তারা যুদ্ধবিদ্যায় এতটা পারদর্শিতা দেখিয়েছে যে, কোনো নিয়মিত বাহিনীর পক্ষেও সম্ভবত এতটা দক্ষতা দেখানো সম্ভব নয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে লেখাপড়ার মতো ফালতু বিষয় নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামানো হয় না। একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দখল করে নেয়। শক্ত প্রতিপক্ষ না মিললে নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে তাই সারাক্ষণ বিরাজ করে টানটান উত্তেজনা। এই বুঝি প্রতিপক্ষ আক্রমণ করে বসে। এখনকার শিক্ষার মজাই আলাদা। কিছুদিন পরপরই অনির্ধারিত বিশাল ছুটি। সিনেমা বা টিভি পর্দায় নয়, সামনাসামনি বন্দুকযুদ্ধ দেখার দুর্লভ সুযোগ। সমরবিদ্যায় আমাদের দেশের বৃহত্ ছাত্র সংগঠনগুলো যতটা এগিয়েছে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তেমনটি ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠন তো বটেই, নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপরও তারা হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কারো সাথে বনিবনা না হলে কিংবা স্বার্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে বাধা বলে বিবেচিত হলে তাদের ‘শত্রু’ মনে করে নির্দয়ভাবে হত্যা করার মহান ভূমিকাতে অবতীর্ণ হচ্ছে। অবশ্য যুদ্ধবিদ্যায় শত্রু নিধন অত্যন্ত জরুরি কাজ (জগদ্বিখ্যাত বীর আলেকজান্ডার শৌর্য-বীর্য-জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ ছিলেন বলেই প্রায় অর্ধেক দুনিয়া জয় করতে পেরেছিলেন। আমাদের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মহান বীরেরাও আলেকজান্ডারের পথ অনুসরণ করছে)! তবে বর্তমানে অন্য সব ক্যাডারকে ছাড়িয়ে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা সারাদেশে অনন্য কৃতিত্বের রেকর্ড গড়েছে। তারা দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, হত্যা, দখলদারিসহ নানারকম বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। তাদের মহান কর্মতত্পরতার উত্সবের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ছুটি পেয়েছেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এমন অবসর বিনোদনের ব্যবস্থা করে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা সত্যিই কৃতজ্ঞভাজন হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সবাইকে উচিত শিক্ষা দিয়ে শিক্ষাঙ্গন থেকে ‘শিক্ষা’ মোটামুটি বিদায় হতে বসেছে। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন হওয়ার পর যে কায়দায় শিক্ষাঙ্গনগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করে ছাত্রদল একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিল, ঠিক একই কায়দায় বর্তমানে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে বিতাড়িত করছে। দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিতে এখন ছাত্রলীগ অপ্রতিদ্বন্দ্বী, নাম্বার ওয়ান। তাদের দাপটের কাছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। তাদের গতিবিধি সীমিত হয়ে পড়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। মোটের ওপর শিক্ষার বারোটা বাজাতে ছাত্রলীগ বর্তমানে অপরিমেয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এজন্য ছাত্রলীগের বীর যোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মানের ব্যবস্থা করা উচিত। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে কিছুদিন পরপরই বাংলাদেশের নাগরিকদের মৃত্যু ঘটছে। এ নিয়ে ভারতের প্রতি আমাদের রাগ-ক্ষোভ-অভিমানের শেষ নেই। এ পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বিজিবির পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। তাছাড়া বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় আমাদের দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। জঙ্গি আক্রমণ, প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসন ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তোলা একান্তভাবেই দরকার। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সংগঠনের ক্যাডার ভাইয়েরা গোয়েন্দাগিরিতেও অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছে। কারণ বীর ছাত্র সৈনিকেরা নিজস্ব গোয়েন্দা মারফত আগেই জেনে যায় পুলিশের আগমন বার্তা। সে অনুযায়ী তারা দ্রুতই সটকে পড়তে সক্ষম হয়। তাদের এ কৃতিত্বকে মোটেই খাটো করে দেখা যাবে না। তাছাড়া পুলিশও তাদের সমীহ করে চলেন। পুলিশ সহজে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ক্যাডারকে কখনও ঘাঁটাতে সাহস পান না। দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য সেনানী হিসেবেই তারা গড়ে উঠছে। ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হল দখলের ব্যাপারে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহল চিন্তা-ভাবনা করে দেখতে পারেন। দেশ-জাতির স্বার্থে না হোক, নিজেদের ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা যে পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, তাতে করে তাদের সাব্বাসি দিতেই হয়। লেখক : কলামিস্ট