নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক না বিরোধী দলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপের প্রেক্ষাপটেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না বিরোধী দলকে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে তা নিয়ে এ দুইদলের বিরোধ এখন এমন সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে, যা দেশের মানুষকে শংকিত করে তুলেছে। সচেতন সব মানুষ কষ্টার্জিত গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ নিয়ে হয়ে পড়েছে দারুণ চিন্তিত। একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে তত্কালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও অন্য দুই বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর দুর্বার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তত্কালীন বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করে। বিরোধী দল বা জনগণের কোনো দাবি ছাড়াই ২০১১ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির বিলোপ সাধন করে। এর ফলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য সুশীল সমাজ, মিডিয়া ও বিদেশি বন্ধুরা বারবার এ দু’দলকে তাগিদ দিলেও সংলাপের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কখনও কখনও সংলাপ অনুষ্ঠানের কিছুটা আভাস দেখা দিলেও তা’ শীঘ্র মরীচিকার মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান বাধাগুলো হলো-এক. আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থান। বিএনপি বলছে, সংসদ নির্বাচনকালে সরকার ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমান সরকারের সময়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা বাতিলকৃত নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে বিএনপি গত দেড় বছরে রাজধানী ঢাকা এবং সারাদেশে লংমার্চ, হরতাল, অবরোধ, গণসমাবেশ করেছে। বিএনপির অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা করেছে। বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কথা বলে আসছে। দলটি সংসদ নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালে সংসদে বিল আনতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা এবং প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে সংসদের ভেতরে বা বাইরে যে কোনো স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বিএনপি রাজি আছে বলেও জানিয়েছে। এরূপ নির্দলীয় সরকারকে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলে আখ্যায়িত করতেও বিএনপির আপত্তি নেই। দুই. সংসদ বহাল রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিএনপির আপত্তি। দলটি বলেছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার। কাউকে সংসদ সদস্যপদে বহাল রেখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেয়া এ বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশধোনীতে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে [অনুচ্ছেদ ১২৩(৩)]। এর ফলে বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ নব্বই দিনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিধানটি আসলে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান থেকে নেয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে উপর্যুক্ত নব্বই দিনের স্থলে একশত আশি দিন করা হয়। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দলের দাবি ও আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের মার্চে বিএনপি সরকার সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার (পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা বিলুপ্ত) পদ্ধতির প্রবর্তন করে। ত্রয়োদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদেও সংশোধনী আনা হয়। এতে বলা হয়, মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংশোধনী বিলুপ্ত করার আগ পর্যন্ত এ বিধান কার্যকর ছিল। তিন. বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গ্রেফতার ও কারাগারে অন্তরীণ। অবরোধে গাড়ি ভাংচুরের দুই মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে নেয়া হয়। সমপ্রতি হাইকোর্ট এ দু’টি মামলায় তাকে জামিন মঞ্জুর করলেও অন্য দু’টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলছেন, সংলাপ নিয়ে সরকারি দলের আগ্রহে সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে আবারও গ্রেফতার করায় সংলাপের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলেছেন। দলের মহাসচিবকে কারাগারে রেখে বিএনপি কাকে নিয়ে সংলাপে বসবে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংলাপের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নেই। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ নির্বাচনকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালে বিএনপির দাবি একাধিকবার নাকচ করে দিয়ে বিরোধী দলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রস্তাব করেছেন। সংকট সমাধানের উপায় হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ জুলাই লন্ডনে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে নির্বাচনকালে বিরোধী দলের সমন্বয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভায় বিএনপিও অংশগ্রহণ করতে পারবে। নির্বাচনের সময় সরকার গঠনে বিরোধী দল যদি অংশীদারিত্ব চায় সেটা দিতে পারি। সবাই মিলে আমরা নির্বাচন করতে পারি। একটা ছোট মন্ত্রিসভা করে ইলেকশন করতে পারি।’ এজন্য সংসদে এসে বিএনপিকে প্রস্তাব দেয়ার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। যদিও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে বলে মাঝে মাঝে বক্তব্য দেন, এটি তাদের রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে হয়। বিএনপির প্রতিনিধির সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের আগের প্রস্তাব থেকে সরে যায়নি। ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিএনপির সদস্য সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিরোধী দল ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দলগুলোর দাবিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রশ্নোত্তরপর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদ নির্বাচন করা সংক্রান্ত বিএনপির দাবিটি পূরণ হতে যাচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সম্মানিত ব্যক্তি। হাইকোর্ট থেকে জামিন মঞ্জুরির আদেশের পর তার জামিনে নতুন করে কোনো বাধা সৃষ্টি না করাই হবে সরকারের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। আলোচনার পরিবেশ তৈরির স্বার্থেই সরকারের তা করা উচিত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সংসদ নির্বাচনকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না বিরোধী দলকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহাল থাকবে? এ প্রশ্নের সমাধান সরকারি দল ও বিরোধী দল বিএনপিকেই খুঁজে বের করতে হবে এবং সেজন্যই আলোচনায় বসতে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও আমাদের বিদেশি সুহূদরা এ দু’দলকে চাপ দিয়ে আসছে। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সংক্ষিপ্ত রায় প্রদান করে। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের মেজরিটি সদস্যের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের রায়ে মূল কথাটি হচ্ছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুধু জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যগণ দ্বারা গঠিত হবে। ১০ মে আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশেও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনকারী সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন, ১৯৯৬ বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থি বলে ঘোষণা দেয়া হয়। অবশ্য সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশের পর সে রায়ের আলোকে গত বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে গৃহীত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্যান্যের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায় সরকারকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করে বাতিল ঘোষণা করেছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুধু জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যগণ দ্বারা গঠিত হবে বলে রায় দিয়েছে, সেহেতু যারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চান, তারা সংসদ নির্বাচনকালে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন। উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক (যিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হতে অনাপত্তি জানিয়েছিলেন এবং যার ওই পদে আসীনে বিএনপির সমর্থন ছিল) বলেছিলেন, বিএনপির প্রতিনিধি সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাঠামোর ওপর বিএনপির পক্ষ হতে রূপরেখা আসা বাঞ্ছনীয়। বেগম খালেদা জিয়ারও উচিত হবে বিরোধী দলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তার প্রতি সম্মতি প্রদান করা। তাকে মনে রাখতে হবে, ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম বিরোধী দলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন, যদিও তত্কালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের অসহযোগিতার কারণে সে উদ্যোগটি সফল হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা কী হবে, সরকার প্রধান কে হবেন ইত্যাদি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। আলোচনার সুবিধার্থে গত ১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে একটি নিবন্ধে আমি এ প্রসঙ্গে প্রস্তাব রেখেছিলাম। প্রস্তাবে বলেছিলাম, সমস্যাটির সমাধান হতে পারে দু’ভাবে--এক. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত ১০ জন মন্ত্রী থাকবেন, যাদের ৫ জন সরকারি দলের এবং ৫ জন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হবেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রিসভার তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হবেন। তবে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থাকবে বিরোধী দলের মন্ত্রীদের অধীনে। দুই. সরকারি দলের ৫ জন এবং বিরোধী দলের ৫ জন করে সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন। বিরোধী দল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্য কোনো একজন সংসদ সদস্যকে ওই মন্ত্রিসভার তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মনোনীত করবেন। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আমি এ প্রস্তাবটি পুনর্ব্যক্ত করছি। সবশেষে যা বলা দরকার তা হলো, বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপিকে সংসদ নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। তবে বিরোধী দলের নিকট গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ প্রচেষ্টা সফল হলে তা’ আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট হতে পারে। লেখক :সাবেক সচিব E-mail: latifm43¦gmail.com