আকাশে জমে থাকা ধূসর কালো মেঘ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সেই সাথে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা তারপরও ঘরে বসে ছিলেন না সুইজারল্যান্ডের উৎসব প্রিয় প্রবাসী বাঙালিরা। দুপুর না হতেই দেশীয় সাজ সজ্জায় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে তারা আসতে শুরু করেন জুরিখ শহরে ।সকল ভেদাভেদ ভুলে উৎসবের রঙে শামিল হয়েছেন বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণে।
পান্তা-ইলিশ, শোভাযাত্রা, ঢাক-ঢোল, নাচ-গান, ব্যানার, ফেস্টুন, রং আর উল্লাসের সব আয়োজনই ছিল উৎসবে। রবিবার এই বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করে সুইস-বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিটি।
দুই পর্বের এ অনুষ্ঠানের প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ আনোয়ার।
প্রথম পর্ব পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিকু বাদল ও উপস্হাপনা করেন কবির মোল্লা । সাংস্কৃতিক পর্বে শুরুতেই শশী খানের পরিচালনায় পুনম ইসলাম, গৌরিচরন রিমি, জলি চৌধুরী, আশরাফুল ইসলাম আজাদ ও সসীম গৌরিচরনের অংশগ্রহনে এসো হে বৈশাখ এসো এসো সমবেত সংগিত ও শিশু শিল্পী সোনাইনা চৌধুরীর মনমাতানো নৃত্যের মধ্যেদিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা করে ইয়ূথ বাংলা কালচারাল ফোরাম সুইজারল্যান্ড । সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেনেভা, জুরিখ ও অন্যান্য শহরের জনপ্রিয় শিল্পীরা ।বাংলাদেশ থেকে আগত চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠের জনপ্রিয় সংঙ্গীত শিল্পী ইমরান মাহমুদুল । পাওয়ার ভয়েজ খ্যাতনামা শিল্পী তাসনিম তামান্না আনিকা ও কলকাতার সা-রে-গা-মা-পা কৌশানী ঘোষ ।
দেশের বাইরে কনসার্টের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সংঙ্গীত শিল্পীরা বলেন, দেশের বাইরে এত মানুষ দেখে আমরা অভিভূত । মহাদেশে এত মানুষ আমাদের কনসার্টে আসবে তা আমরা ভাবতেই পারিনি ।কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল একখন্ড বাংলাদেশ ।সবার উপস্হিতি দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি ।
উৎসবে দেশীয় খাবার ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মেলা সাজিয়ে বসেন প্রবাসী বাঙ্গালীরা । এ ধরনের উৎসব প্রবাসে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে জানান আয়োজকরা ।
অনুষ্ঠানটির চলচিত্র, স্থির চিত্র, সংবাদ সংগ্রহ ও আলোর নিয়ন্ত্রণ করেন শাহ আলম এগার ও নিজাম উদ্দীন।
ইত্তেফাক/বিএএফ