ডিজেলে আর ভর্তুকি দেবে না ভারত

ডিজেলে ও এলপিজি থেকে ভর্তুকি তুলে দিতে যাচ্ছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে এই জ্বালানি থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে যাচ্ছে সরকার। তবে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে এখনই নয়। ১৮ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভর্তুকি উঠে যাবে। পেট্রোলিয়াম নীতি সংশোধন করে এই নিয়ম করা হয়েছে। এতে করে সাথে সাথে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। নতুন নিয়মে এখন থেকে যারা পাইকারি তেল কিনবে তারা কোনো ভর্তুকি পাবে না। কিছু দিন পাবে সাধারণ গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার মাঝ রাত থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো ডিজেল বিক্রির নীতিতে সংশোধন আনায় এই নিয়ম চালু হয়েছে। নীতি সংশোধনের ফলে তেল বিতরণকারী সংস্থাগুলো নিজেই দাম নির্ধারণ করবে। বৃহস্পতিবার রাতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তেল সংস্থাগুলোর বৈঠকেই ঠিক হয়, যারা পাইকারি ক্রেতা, তাদের এবার থেকে ভর্তুকি ছাড়াই ডিজেল কিনতে হবে। ফলে সাধারণ খুচরা ক্রেতার ক্ষেত্রে যেখানে লিটার প্রতি ৫০ পয়সা করে বাড়ল ডিজেলের দাম, পাইকারি ক্রেতার ক্ষেত্রে সেটা এক লাফে বেড়ে গেল লিটার প্রতি ৯ রুপি ২৫ পয়সা। পশ্চিমবঙ্গে তার সঙ্গে মূল্যসংযোজন কর যোগ করলে সেই বৃদ্ধি দাঁড়ায় ১১ রুপিতে। এরফলে রেল, ইস্পাত সংস্থা, বিদ্যুত্ উত্পাদনকারী সংস্থা, পরিবহনখাতকে ডিজেল বেশি দামে কিনতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার মনে করছে, পরিবহন খাতে বছরে খরচ বাড়বে ৪০ কোটি রুপি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখজনক এবং খুবই খারাপ ঘটনা। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় তেল সংস্থাগুলোর হাতে ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তুলে দিল। এতে সংস্থাগুলোর লোকসান কমবে। সরকারের ভর্তুকি কমবে। বিরোধীরা অবশ্য ডিজেলের এতটা দাম বাড়ানোর ফলে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। তাদের বক্তব্য, পাইকারি ক্রেতারাই কিন্তু মূলত বড় সেবা সংস্থা যেমন, রেল, কোল ইন্ডিয়া, সেল ইত্যাদি। এক ধাক্কায় পুরো ভর্তুকি তুলে নেয়ায় রেলের ভাড়া তো বাড়বেই, বাড়বে পণ্য মাসুল। বাড়বে ইস্পাত উত্পাদনের খরচ, তাপবিদ্যুত্ উত্পাদনের খরচ। এগুলোর সার্বিক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির উপরে। তাতে সব রকমের পণ্যের দাম বাড়বে এবং তার ফলে বাড়বে মূল্যবৃদ্ধির হারও। তবে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া বিরোধীদের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ভর্তুকি তুলে দাম বাড়ালে ক্রেতাকে বেশি পয়সা দিয়ে ডিজেল কিনতে হবে। ফলে তার হাতে টাকা কমবে। সে আর চট করে অন্য পণ্য কিনতে পারবে না। তাতে বাজারে অন্য পণ্যের দামের উপর থেকে চাপ কমবে। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১১ রুপি বেড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দফতর। রাজ্যের পাঁচটি পরিবহন সংস্থা মিলিয়ে দৈনিক এক লাখ লিটার ডিজেল কিনতে হয়। দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক ১১ লাখ রুপি খরচ বাড়ল। এক বছরে যা দাঁড়াবে অন্তত ৪০ কোটি রুপিতে। ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়াম— তিনটি সংস্থাই শুক্রবার জানিয়েছে, ভর্তুকি দিয়ে আর সিলিন্ডার দেবে না। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয়ের এটাই নির্দেশ। প্রসঙ্গত, এর আগে কেন্দ্র চলতি অর্থ বর্ষে ভর্তুকি মূল্যে ৩টি সিলিন্ডার দেয়ার কথা জানায়। বৃহস্পতিবারই তা বাড়িয়ে ৫টি করা হয়। বৃহস্পতিবার নয়া সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, একটি আর্থিক বছরে ভর্তুকি সিলিন্ডারের সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৯টি। তবে এ বার ৩টির পাশাপাশি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে আরো ২টি ভর্তুকি সিলিন্ডার পাবেন গ্রাহকরা।