সমালোচনার মুখে ক্যামেরন

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না থাকা নিয়ে বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের গণভোটের প্রতিশ্রুতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউ’র সদস্য দেশের নেতারা, এমনকী নিজের দেশের অনেকেও তার এই ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টির বিজয়ের উপর নির্ভর করছে এই গণভোট। গণভোটের ব্যাপারে ক্যামেরনের ঘোষণাকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফাবিয়া। তিনি বলেন, ফ্রান্স চায়, যুক্তরাজ্য ইইউর ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ইউরোপকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া যাবে না। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, জার্মানি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমিও চাই ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও সক্রিয় সদস্য হিসেবে থাকুক। ব্রিটেনের প্রত্যাশাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে অন্যান্য দেশেরও যে প্রত্যাশা রয়েছে, সেটাও মনে রাখতে হবে। বিবিসির ব্রাসেলস সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাকে ইউরোপে অনেকেই একটি জুয়াখেলা হিসেবে দেখছেন এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন। ইউরোপের পাশাপাশি ব্রিটেনেও ক্যামেরনের এই ঘোষণা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছেন, ব্রিটেনে যারা চায় তাদের দেশ একুশ শতকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভালো ভূমিকা রাখুক, বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় বাজারে প্রবেশ করুক ক্যামেরন তাদের আশাহত করেছেন। ব্রিটেনের বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যামেরনের জোট সরকারের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা নিক ক্লেগও গণভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। জানা গেছে, গণভোট নিয়ে ক্যামেরনের নিজের দলের ভেতরও বিভেদ রয়েছে।