এ কেমন বর্বরতা?
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩১
এ যেন একাত্তরকে হার মানানোর ধর্ষণ যুদ্ধ দেশব্যাপী বয়ে চলছে। ওরে বর্বর নরপশুরা যে প্লেটে অন্ন ভক্ষণ করলি, সেই অন্ন সাজানো প্লেট বহনকারী একজন নাবালিকা শিশুকে কি করে ধর্ষণের পর হত্যা করলি, তা তো কোন সভ্য মানবজাতির বোধগম্য হচ্ছে না।
এ রাজধানী শহরের কেন্দ্রস্থল পল্টন মোড়ে, সেখানে বহুতল ভবনের নাম ট্রপিক্যাল টাওয়ারে গত ১৪ জানুয়ারি সোমবার এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটলো। ঐ টাওয়ারের ৪র্থতলায় “রিতু” নামের নাবালিকা শিশু ৪ জনের খাবার ৪টি টিফিন ক্যারিয়ারের মাধ্যমে দুপুরে সরবরাহ করেছে। এটা ছিল তার দৈনিক কাজ মানে তার মাকে সহযোগিতা করা। নিত্যদিনের মতো সন্ধ্যার দিকে টিফিন ক্যারিয়ার ফেরত আনতে গিয়ে “রিতু” নিখোঁজ হয়ে যায়। “রিতুকে” যথাসময়ে তার মা-বোন ফেরত না পেয়ে তারা হন্যে হয়ে ঐ ট্রপিক্যাল টাওয়ারের ৪র্থতলায় খোঁজ করে। সেখানকার লোকজন বলে দেয় রিতু এখানে আসে নাই। মেয়েটির মা এবং বোন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ-খবর নিতো। মেয়েকে না পেয়ে অস্থির হয়ে থানায় ডাইরি করে। দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ পাঁচদিন পর গত ১৯ জানুয়ারি শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেই ট্রপিক্যাল টাওয়ারের চারতলায় যেখানে ঐ নাবালিকা খাবার সরবরাহ করতো সেই তলার বাথরুমে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। তার দেহে আঘাত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ৩ জন যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে। যাদের গ্রেফতার করেছে এসব আসামি রাতে অফিসেই ঘুমাতো। শিশুটির লাশ যেদিন পাওয়া গেল সেদিন ঐ এলাকার লোকজন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে পুরানা পল্টনের রাস্তা অবরোধ করে “রিতুর” মা, বোন এবং স্বজনরাসহ কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ করে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এত বড় জঘন্য অপরাধ করে সেই কঠোর বিচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়ে কিভাবে এসব লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ চুপসে যায়?
বলতে এবং লিখতে খুবই কষ্ট লাগে, এজন্যই কি রক্ত ঝরিয়ে একাত্তরে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে? ও আমার বিবেকবান বাঙালি ভাইয়েরা এই কি তোমার-আমার মায়ের জন্মভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ? এরকম মর্মান্তিক ধর্ষণ থেকে হত্যা, পুকুর চুরি থেকে সাগর সমান ডাকাতি, গুম, দুর্নীতি হলমার্ক মার্কা সরকারি ব্যাংকের আমানত লুটতরাজ আর কতকাল দেশবাসী শুধু দেখবে আর দেখবে। সকল কিছুর, সকল বিষয়ের একটা সীমা আছে। সীমা ছাড়িয়ে গেলে এদেশের মুক্তিসেনারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজ রক্ষা, নিত্যদিনের অসামান্য ধর্ষণ থেকে রক্ষা, আত্মহত্যা থেকে রক্ষা, সর্ববিষয় রক্ষা করতে হলে আবার একাত্তরের মতো মুক্তিপাগল সেনারা গর্জে উঠবে। যেহেতু দেশের অনেক নিরীহ লোক আজ অসহায় হয়ে পড়েছে এ স্বাধীন বাংলাদেশের অগণিত কুলাঙ্গারের হাতে। তথ্য গবেষণা করে দেখতে পাবেন বেশিরভাগ অত্যাচারী, জুলুমকারী, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ধর্ষণকারী তত্সঙ্গে তাদেরকে হত্যা করেছে এসবের মূল হোতারা কিংবা তাদের পূর্বপুরুষ এ দেশে একাত্তরে কোন ভূমিকা রাখে নাই এবং ভালো কোন কাজ করে নাই। দেশে সঠিক বিচারকার্য নাই বলে মনে হচ্ছে। বহু আগ থেকে শুনেছি এসিড নিক্ষেপকারীদের ফাঁসি হওয়া উচিত; কিন্তু আদৌ তা হয়নি। এ দেশে বহু নারী— কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী, কারো মা এসিড হামলার কারণে আল্লাহর দেয়া চেহারামণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। সমাজে ঐ নারী জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে না বাঁচার মতো। এমনকি এসিডদগ্ধ হয়ে বহু নারী অত্যন্ত বেদনাদায়ক কষ্ট নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাতে কাতরাতে পরিবারের সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ও আমার স্বাধীন দেশের দেশপ্রেমিক নীতিনির্ধারক ভাই ও বিচারকগণ, এ দেশের সাধারণ মানুষ কি দ্রুত আইনের মাধ্যমে কুখ্যাত, বিখ্যাত সন্ত্রাসী, ধর্ষণকারী, ধর্ষণের পর হত্যাকারী এবং এসিড নিক্ষেপকারী এসব কুলাঙ্গারের আদৌ কোন বিচার দেখতে পাবে না? আমি ও আমার এদেশের মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা বর্তমান সরকারের কাছে আশা করবো, নারীধর্ষণ, নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস থেকে দেশ ও জাতিকে নিরাপত্তা বিধানে কঠোর আইনের প্রয়োগ করা হোক।
লেখক :বীর মুক্তিযোদ্ধা