নির্বাচন নিয়ে ভাবনা
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
গণতান্ত্রিক নির্বাচন যেন না হয় পূর্বপরিকল্পিত সিলেকশন
স্বাধীনতার পর থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই যে ক্ষমতায় স্থায়ীত্ব লাভের চেষ্টা করেছেন তা গত ৪১ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা থেকে সহজেই বোঝা সম্ভব। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে কি আমরা এই প্রত্যাশাটুকু করতে পারি না যে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা হোক, প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণ তাদের নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ, ভালো-মন্দ মতামত প্রকাশ করুক। সাধারণ জনগণ তো কখনোই তাদের সিদ্ধান্ত বা অভিযোগ সরাসরি সরকারের কাছে বলতে পারে না। তাই নির্বাচনই তাদের জাতীয়ভাবে মত প্রকাশের একমাত্র উপায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে ইলেকশন বা নির্বাচন পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে চায় নিজেদের স্বার্থে। নিজ দলীয় মতাদর্শের কাউকে নিয়োগ দিয়ে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা নিজেদের অনুকূলে রেখে গণতান্ত্রিক রায়কে পরোক্ষভাবে বর্জন করতেও দ্বিধা করে না। আগামী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হবে বলে জনগণ মনে করে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ চায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের রায়েই প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অবসান হোক। কিন্তু সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেও স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে নির্বাচনের অন্তরালে সিলেকটেড হওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করবে না এটাই সবার কাম্য।
মো. আমিরুল ইসলাম
৩য় বর্ষ (স্নাতক),
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০০০০০০০০
অবাধ, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক
অস্থিরতামুক্ত একটি সুন্দর
নির্বাচন চাই
আমাদের দেশে ভোট হচ্ছে একটি উত্সবের মতো। ঈদ পূজা কিংবা নববর্ষ আসার আগে যেমন আসছে আসছে বলে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঠিক তেমন ধরনের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘‘আগামী নির্বাচন’’। জনগণ নির্বাচনকে উত্সব মনে করলেও বড় দল দুটোর নির্বাচন বয়কটের ঘটনা কিন্তু খুব একটা কম নয়। কালের গহ্বরে হারিয়ে গেল দীর্ঘ চারটি বছর। বিগত বছরের ব্যর্থতা ও গ্লানি ভুলে আবার নতুন করে স্বপ্ন বুনেছে জনগণ। ২০১৩কে ঘিরে প্রত্যাশার কোন শেষ নেই। কেন না ঐ বছরে অনুষ্ঠিত হবে দেশের ১০তম জাতীয় নির্বাচন। দেশের জনগণ নির্বাচন পূর্ব কোন সহিংসতা দেখতে চায় না। চায় উভয় দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সমঝোতাপূর্ণ নির্বাচন। তাই সব ধরনের সংঘাত এড়াতে দু’নেত্রীর এক হয়ে সমঝোতা ও আদর্শের জ্ঞান শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অবহেলিত নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে কুসংস্কারমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার শান্তিময় দেশ গড়ে তোলা উচিত।
মো. সাইফুল ইসলাম (আজম)
অফিস সহকারী,
ইম্পালস প্রপার্টিজ লি:,
উত্তর খুলসী আ/এ, চট্টগ্রাম
০০০০০০০০০০০০০০
দেশের গণতন্ত্র রক্ষার্থে প্রয়োজন সুষ্ঠু রাজনীতি, নির্বাচনের
সঠিক রূপরেখা
দেশের প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ক্রমেই সংঘাতময় রাজনীতির দিকে এগোচ্ছে। এ সংঘাতময় রাজনীতি থেকে তারা আজও বাহির হতে পারেনি। বাংলাদেশ এখন অগণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি দল এবং একাধিক বিরোধী দল থাকাটাই স্বাভাবিক। দেশের প্রধান বিরোধী দল যখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির ১৮ দলীয় জোট একের পর এক হরতাল কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে তখন সরকার পুলিশকে দিয়ে তাদের কর্মসূচি বানচাল করে দিচ্ছে। এতে করে রাজনীতি আরও সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। গত চার বছরে দেখা গিয়েছে দেশের প্রধান দুই দলের দুই নেত্রী পরস্পরের প্রতি শত্রুতামূলক আচরণ, দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, রাজনীতি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব— সব মিলিয়ে আমরা নিঃসন্দেহে একটা সংকটময় পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছি। এই সংকট থেকে এখন সংঘাত দূরে নয়। তা সত্বেও আশা থাকবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে বড় দুটি দলের নেতারা আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে সে ব্যাপারে একটা সমঝোতায় পৌঁছা। কিভাবে দেশের জনগণকে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দিবেন।
সুমন আহমেদ (বিবিএ)
সিটি ইউনিভার্সিটি,
সাভার, ঢাকা
০০০০০০০০০০০০০০০০
বৈঠাবিহীন তরী কোথায় তার গন্তব্য
আমরা বাংলাদেশের জনগণ। অযুত, লক্ষ শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে জননী বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। এই অর্জন আজ আমাদের বিসর্জনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য, ক্ষমতা অর্জনের জন্য এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ নির্বিচারে নিরীহ মানুষের উপর স্ট্রীম রোলার চালিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করে নিচ্ছে। আর কতকাল এই বর্বরতা চলবে জাতির কাছে এবং বিবেকবান রাজনীতিবিদদের কাছে আমার প্রশ্ন। তাই আমি মনে করি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে উভয় দলই সমঝোতার মাধ্যমে কিভাবে নির্বাচন করলে ভালো হবে এরকম একটা সিদ্ধান্ত স্থির করতে হবে। যাতে করে আমরা আমেরিকা, জাপানের মতো একটি শান্ত-শিষ্ট বিশৃংখলাহীন নির্বাচন পাই আর তা না হলে বাংলাদেশ বৈঠাহীন তরীর মতো সাগরের অথৈ জলে ভাসতে থাকবে। কোন দিনও উন্নতির মুখ দেখবে না।
মো. রাজিব হোসেন (মাজেদ),
বি.এস.এস. (সম্মান) ২য় বর্ষ,
অর্থনীতি বিভাগ,
শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা
০০০০০০০০০০০০০০০
গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারে
নির্বাচনকে সুষ্ঠু সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য করার জন্য কোন দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়াটাই ভাল বলে আমি মনে করি। কারণ এখানে প্রশ্ন থেকে যায় যেহেতু একদলকে অন্যদল বিশ্বাস করতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরাজিত ব্যক্তি বিজয়ীকে স্বাগত জানায় এবং সমর্থনও দেয়। এমনটা আমাদের ইতিহাসে নজির নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি বিরোধিতা করছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতা করছে আওয়ামী লীগ। জানি না তাদের এই বিরোধিতার পিছনে কি স্বার্থ আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে সরকার এবং বিরোধীদল উভয়কে এক টেবিলে আলোচনায় বসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান না হলে গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারে। গণভোটের ফলাফলকে চূড়ান্ত হিসেবে সবার মেনে নেয়া উচিত বলে আমি করি।
মো. আবু ছালেহ,
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় বর্ষ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী