নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

ঝামেলাবিহীন নির্বাচনী উত্সব করতে চায় জনগণ উত্সবপ্রিয় বাংলাদেশের মানুষের জন্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আসে উত্সবের আমেজ। ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের মানুষের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে এই নির্বাচন। মানুষ তার আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি সবকিছুর সুফল চায় তার অন্যতম অধিকার ভোটের মাধ্যমে। অথচ এদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন ধাবিত হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তার দিকে। সরকারি দল ও অনেকগুলো বিরোধী দল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে প্রতিনিয়ত। বিগত চার বছরে সরকার অনেকগুলো নির্বাচন করেছে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। কয়েকটি ছাড়া সেগুলোতে জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়েছে তা সবারই জানা। কিন্তু অন্য নির্বাচনের সাথে জাতীয় নির্বাচনের তুলনা চলে না। কারণ এটিই দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে নৈরাজ্য প্রতিহত করার নামে কোন সেনা শাসনও চায় না জনগণ। আর তাই কোন কোন্দল নয় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতাই দেখতে চায় জনগণ। আর সমঝোতার সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা জাতীয় সংসদ। যদিও বিরোধী দলগুলো তা অনেকটা হারাম বলেই মনে করে। তবুও একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য এবং শান্তিময় ভবিষ্যতের জন্য অপ্রিয় হলেও আলোচনার মাধ্যমে একই মতে ও পথে আসার কোন বিকল্প হতে পারে না। মো. সাদ্দাম হোসেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট তৃতীয় বর্ষ, রোল নং ৩৫১০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ---- রাজনৈতিক সমঝোতার আলোকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ চাই বাংলাদেশে নির্বাচন আসা মানেই বিভিন্ন দাবিতে প্রতিবাদ প্রতিরোধ, হরতাল-হয়রানি, রাজনৈতিক হাওয়া উত্তপ্ত হওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সংকট আরো প্রকট। নির্বাচন প্রেক্ষিতে প্রধান দুই দলের অবস্থান এখন দুই মেরুতে। সরকারি দলের উচিত জনগণের আশা-প্রত্যাশার যথেষ্ট মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ উপহার দেয়া। আর বিরোধী দল (আমার ভাষায় বিরোধী নয় সহযোগী দল)-এর উচিত সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে সেই পরিবেশ আরো স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন করা। আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক যেহেতু ভালো নয় তাই সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। দেশে সৃষ্টি হবে নির্বাচন পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এক্ষেত্রে সরকারি দল ও সহযোগী দল (বিরোধী দল) কে অবশ্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সংঘাত থেকে দেশ ও জনগণকে বাঁচানো উচিত। কেননা জনগণ হরতাল, প্রতিরোধ, প্রতিবাদ অগ্নিসংযোগ চায় না। জনগন চায় একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একজন যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে। মাহদী হাসান লিখন শেরপুর সরকারি কলেজ, বি.বি.এস (অনার্স), ব্যবস্থাপনা বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ। ক্রমিক নং: ১৫২৭, শেরপুর। ---- তত্ত্বাবধায়ক নয়, চাই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন যে কোন দেশের নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত থাকে। যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান রয়েছে। অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক কোন ব্যক্তিকে যদি রাষ্ট্র পরিচালনার ও নির্বাচনের ভার দেয়া হয়, তাহলে চেয়ারে বসে আরাম খেতে খেতে ৯০০ দিন চলে গেলেও ক্ষমতা ছাড়তে চাইবে না। তাই তত্ত্বাবধায়ক নামে,দানব, স্বৈরশাসক, অগণতান্ত্রিক কাউকে ক্ষমতায় বসানো হলে ১/১১ নামের শব্দটার পুনরাবৃত্তি ঘটা অসম্ভব কিছু নয়। যা হবে স্বাধীন এ জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। তাই আন্দোলন নয়, সকলের আলোচনা ও সম্মতির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আশায় বুক পেতে রয়েছে এ জাতি। মো. জামালউদ্দিন আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ---- অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করা গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ তার মূল্যবান ভোট দিয়ে প্রতিনিধি হিসাবে সরকার গঠন করে। আমাদের দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সর্বত্র হিংসা বিরাজমান। সরকারি দল একটি ভালো কাজ করলে বিরোধী দলের তা হিংসা হয়। অপর পক্ষে, বিরোধী দল ভালো একটি কাজের আন্দোলন করলে সরকারি দল তা মেনে নিতে পারে না। এই যে দেশে সর্বত্র হিংসাত্মক রাজনীতির বাতাস বইছে, এই হিংসাত্মক রাজনীতি একটি দেশকে ধ্বংস ও গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে, উন্নত, ভালো ও সম্ভাবনার দিকে নয়। পরিশেষে বলতে পারি যে, সকল রাজনৈতিক দলকে হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করতে হবে ও দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশকে ভালোবেসে ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারি দলের উচিত প্রধান বিরোধী দল ও অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা মো. সিরাজুল ইসলাম অনার্স, ২য় বর্ষ দর্শন বিভাগ ঢাকা কলেজ, ঢাকা। ---- আগামী নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, তা না হলে দেশে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে আগামী নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশে সংঘাত সৃষ্টি হবে। নির্বাচন এলেই আমাদের দেশের দুই নেত্রীর মাথা একটু গরম হয়ে যায়। এই দুই নেত্রী আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পান। বিশেষ করে ভোটের সময়। কারণ দুই নেত্রী অবগত যে, বাংলার জনগণ বোকা নয়। নির্বাচন সামনে রেখে দু’দলের নেতা-কর্মীরা যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে তাতে করে জাতির জন্য অপেক্ষা করছে ঘোর অন্ধকার। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, জাতির জন্য কোন নির্বাচিত দল যে ভাবছে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, গণতান্ত্রিক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে কেউ ভাবে না। প্রতিটি নির্বাচনের আগে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-১৯৯৬ সালে দু’বার নির্বাচন করা হয়েছিল। একটি নির্বাচন করতে অনেক টাকা খরচ হয়। জনগণের ক্ষতি হয়। অমিতাভ কুমার বিশ্বাস ডিএইচএমএম/ ৪র্থ বর্ষ ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।