আলেপ্পোর নদী থেকে ৭১টি মৃতদেহ উদ্ধার

সিরিয়া সংঘাত নজিরবিহীন বিভীষিকায় পৌঁছেছে

সিরিয়ার সংঘাত ‘নজীরবিহীন স্তরের বিভীষিকায়’ পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ ও আরব লিগের শান্তিদূত লাখদার ব্রাহিমি। তিনি আরো বলেছেন,বিস্তৃত অঞ্চলের উপর গুরুতর প্রভাবসহ সিরিয়া একটু একটু করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেপ্পোয় নতুন করে গণহত্যার প্রমাণ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার পর ব্রাহিমি এ মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার আলেপ্পোর বুসতান আল কাসর জেলার একটি নদী থেকে কমপক্ষে ৭১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশের হাত পেছনের দিক থেকে বাঁধা এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ। এ গণহত্যার জন্য সরকার ও বিদ্রোহীরা পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তবে মৃতদেহগুলো এমন এক জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যে এলাকাটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃতদেহগুলো বিদ্রোহীদের হাতে অপহূত মানুষদের। এ রকম অবস্থায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাহিমি বলেন, ওই অঞ্চলে মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সিরিয়া। প্রত্যেকের চোখের সামনে দেশটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। একমাত্র আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ই পারে সিরিয়ার সহিংসতা বন্ধ করতে। প্রথম এবং সর্বাগ্রে নিরাপত্তা পরিষদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। কূটনীতিকরা জানিয়েছে, ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে লাখদার ব্রাহিমি বলেন, সিরিয়ার সংঘাত নজীরবিহীন স্তরের বিভীষিকায় পৌঁছেছে। এই ট্রাজেডির শেষ নেই। নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের ব্রাহিমি বলেন, সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীরা সিরিয়াকে ‘ধীরে ধীরে’ ধ্বংস করছে। ওই অঞ্চলকে চরম খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিরিয়ায় ২০১১ সালে সহিংসতা শুরুর পর ৬০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০১২ সালের জুনে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে গৃহীত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরিয়ার সংকটের সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন লাখদার ব্রাহিমি।