‘বিরোধী দল না এলেও নির্বাচন হবেই’
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৭
কেউ আসুক না আসুক নির্বাচন সময়মত হবে কিন্তু বিরোধীদল যদি চিন্তা করে রাজাকারদের নিয়ে দেশে অস্থিরতা করবে তাহলে ১৯৭১-এর কথা মনে রাখতে হবে।
মো. জিয়াউদ্দিন, লালবাগ, ঢাকা
সরকারের উচিত হবে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন করা। বিশেষ করে বিরোধীদলের যে দাবি নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা, সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। বিরোধীদলের বর্জনের মাধ্যমে যদি নির্বাচন হয় তাহলে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আগামীতে এ ধরনের নির্বাচন হলে দেশে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হবে। সর্বোপরি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আবুল কাসেম হায়দার,
গুলশান-১, ঢাকা
বাংলাদেশে নির্বাচন হবে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী। সরকারের চেষ্টা থাকবে বিরোধীদলগুলোকে নিয়ে নির্বাচন করা। তারপর যদি কোন বিরোধীদল নির্বাচনে না যায় তখন সরকারের কি-বা করার আছে। বাংলাদেশের সংবিধান তো আর কোন বিশেষ দলের জন্য নয়। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
মোহাম্মদ পারভেজ তালুকদার,
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অশনি সংকেতের বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশময়। রাজনীতির অস্থিরতা, সহিংসতা, নৈরাজ্যের পথে দেশ এগিয়ে চলেছে যা কোনক্রমেই কারোরই কাম্য নয়। নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন শুভকর হবে না। সরকারি দল বলছে দলীয় সরকারের অধীনে এবং প্রধান বিরোধীদল বলছে দলীয় সরকার নয় নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। পরস্পর সাংঘর্ষিক বক্তব্য কাম্য নয়। দুই বৃহত্ রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ— আপনারা বসুন, সংলাপ করুন, গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেশকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে যেতে ভূমিকা রাখুন। নচেত্ উভয়দলই জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন না।
মঞ্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা
বাংলাদেশের মানুষ সেই আগের মত নেই- তারা চায় পরিবর্তন। আমরা বড় দুদলের মধ্যে অতি শিগগিরই সমঝোতা দেখতে চাই। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে।
মোস্তান সিরুন, ধানমন্ডি, ঢাকা
সত্যিকার অর্থে রাজনীতি অত্যন্ত পবিত্র বিষয়। মানব সভ্যতায় যার গুরুত্ব অপরিসীম। যেহেতু রাজনীতির মাধ্যমেই দেশের সরকার গঠন হয়, তাই আগামী নির্বাচন আমরা চাই সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
হোসনে আরা,
এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা
সব দলের অংশগ্রহণে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সেই নির্বাচন স্বতঃস্ফূর্ত ও গ্রহণযোগ্যতা পাবে। এটাই হবে ফেয়ার নির্বাচন।
মনির হোসেন,
ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডি, ঢাকা
একটা দেশের নির্বাচন বিরোধীদল ছাড়া হলে গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বিরোধীদলকে সংসদে বসে সকল সমস্যার সমাধান করতে বলেছেন। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শাসকদল ও বিরোধীদলের উদার ও সমমনা হওয়া আবশ্যক। আমাদের দেশে উদারপন্থি রাজনীতির তীব্র অভাব বিদ্যমান। উভয় দল একত্রে বসে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি সম্মান দেখালেই হয়তো ভালো করবেন। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে উভয় দল সাড়া দিয়ে নির্বাচন করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো,
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
দুই নেত্রীকে এক সঙ্গে কে বসাবেন? বিড়ালের গলায় ঘণ্টা কে পরাবেন সেটাই এখন প্রধান বিষয়। দেশে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু তৈরি হয়েছে— আর সেগুলোর আলোচনা কখন কবে হবে আমরা জানি না। গত ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জের একই ছাদের নিচে একই এলাকায় বসে কেউ কোন কুশল বিনিময় ও মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত করেননি। তাহলে গণতন্ত্র কোথা থেকে আসবে? দুই নেত্রীকে একসঙ্গে বসতে হবে এবং দীর্ঘ সময় আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক গণতান্ত্রিক দেশে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়ে থাকে এটাই নিয়ম। সুতরাং বিরোধীদল বর্জন করলেও নির্বাচন হবে কথাটি এভাবে না বলে তাদের নিয়ে নির্বাচন হবে শুনতে ভালো লাগবে সবার।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী,
কবিরহাট, নোয়াখালী
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্ধারিত সময় নির্বাচন হওয়া উচিত। সংবিধান অনুযায়ী সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। দেশবাসী চায় সকল দলের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনা হোক। কিন্তু আমাদের দেশে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক দলগুলো হিংস্র হয়ে দেশের সম্পদ নষ্ট করে। দেশবাসীকে নানাভাবে নির্যাতন করে। সরকারের পতন ঘটাতে ধ্বংসাত্মক মনোভাব সৃষ্টি করে। নির্বাচনে সরকার বদল হবেই। দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতির সুফল আনার প্রয়োজনে সরকার গঠন করতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনে সফল দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং সরকারি দল ও বিরোধীদল একত্রিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তাদের একান্ত দায়িত্ব। দৃঢ়তা ও সততার মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কাজে সচেতন থাকলে দেশবাসী তা অবশ্যই মেনে নেবে। নির্বাচন সময়মত হবেই।
আশা এলিজাবেত গোমেজ,
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার দ্বারা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সমস্ত নির্বাচন বুথ রক্ষা করতে হবে সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা। যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
মেজর হুদা, খিলগাঁও, ঢাকা
আগামী নির্বাচনে দুই নেত্রীর অবস্থান একত্রে অপরিহার্য। কাজেই এখন উচিত দুই নেত্রীর মধ্যে সদিচ্ছা ও একে অপরের প্রতি আক্রমণ ত্যাগ করা।
বিপ্লব আলম, উদু রোড, লালবাগ, ঢাকা
১৬ কোটি জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে গায়ের জোরে নির্বাচন করলে এ নির্বাচন কখনও দেশবাসী মেনে নেবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কোন জরিপের মাপকাঠিতে ধরে নিয়েছে যে, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে? এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন তখনই ফুরাবে, যখন সরকারি দল— বিরোধী দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, দেশের স্বার্থে যখন-তখন তারা এক হবে, রাজনৈতিক মঞ্চে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবে না। দ্বন্দ্ব থাকলে দলীয় মিটিং-এর মাধ্যমে তা সমাধান করবে। মন্ত্রীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল বাতিল করার পর প্রায়ই বলেন যে, বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের মতোই আমাদের দেশের নির্বাচন হবে। কিন্তু তারা এ কথা বলার আগে একবারও কি চিন্তা করেছেন যে, আমরা কি দেশের উন্নয়নে, মেজাজ-মর্জিতে তাদের মতো উন্নত হতে পেরেছি? তাদের দেশের সংসদ কি চলে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে? তাদের দেশের প্রশাসনের সর্বস্তরে কি হয় দলীয়করণ? বিসিএস পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষারপ্রশ্ন কি ফাঁস হয় তাদের দেশে? সরকারি অফিসে কি প্রতি টেবিলে টেবিলে চলে ঘুষের লেনদেন? খুনের আসামি কি মুক্তি পায় সাধারণ ক্ষমায়? পদ্মা সেতুর মতো বৃহত্ ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ শুরুর আগেই দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয়ে কি সারা বিশ্বের পত্র-পত্রিকায় খবর ছাপা হয়? আধিপত্য বিস্তারের জন্য পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়ার জন্য গোলাগুলি, মারামারি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি বন্ধ থাকে মাসের পর মাস? কাজেই তারা কোথায় ও আমরা কোথায়? নির্বাচন হবেই— এ দাম্ভিকতা কখনো জয় বা সুফল বয়ে আনতে পারে না।
ডা. মর্জিনা আক্তার,
বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার,
নদ্দা, গুলশান, ঢাকা
বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক দাবির ইস্যুতে আন্দোলন করছে। তারা নাকি নির্বাচনে যাবে না। তারা যদি নির্বাচনে না যায় তাহলে কি নির্বাচন হবে না? যেহেতু নির্বাচন করতে হবে, নতুন সরকার আসবে, তাই নির্বাচন জনগণও চাচ্ছে। যদি বিরোধী দল নির্বাচনে নাও যায় তাহলেও নির্বাচন যে হবে এটা প্রায় নিশ্চিত।
ফারুক আহমেদ, বাঘমারা, রাজশাহী
সরকারি দল আমার মতে ভুল করবে।
আবদুল্লাহ আল নোমান, নবাবপুর, ঢাকা
বিরোধী দল বর্জন করলেও নির্বাচন হবে। এটা যেমন সরকারের গোয়ার্তুমির বহিঃপ্রকাশ তেমনি কোন দলীয় সরকারের অধীনে বিরোধী দল নির্বাচনে যাবে না, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হতেও দেয়া হবে না তেমনি বিরোধী দলেরও স্বৈরাচারি মনোভাব বলে আমি মনে করি। এমপি পদ লাভজনক হলে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতেও সমস্যা হবে। বর্তমান এমপিরা নির্বাচন করতে পারবে না, কারণ একটি লাভজনক পদে থেকে আরেকটি পদে নির্বাচনের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে নির্বাচন প্রশ্নে দুই দলেরই আলোচনায় বসা উচিত বলে মনে করি।
এ কে এম শাহজাহান,
সভাপতি, বিজ্ঞান সমিতি, নরসিংদী
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কমপক্ষে আর একবার রাখা প্রয়োজন এবং যিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে আসবেন তাকেই এ বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে যাবেন। আর তখন সব দলই সংলাপে থাকবে বলে আমি মনে করি।
আল মাসুদ,
বরিশাল
এই বছরই নির্বাচন হবে। সরকার এ ব্যাপারে অনড়। আবার বিরোধী দলও অনড়। তবে সরকারের এই অবস্থানকে জনগণ যেভাবেই দেখে না কেন তাতে সরকারের কিছু আসে যায় না। কারণ রাষ্ট্রের অভিভাবক হলো সরকার। কোন দলের নয়। কিন্তু আমাদের দেশে সরকার হন বিশেষ বিশেষ দলের। তাই আমার একান্ত ইচ্ছা সরকার যেন সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটান। কারণ সরকারই আমাদের অভিভাবক।
ওয়ায়দুল ইসলাম, মংলা, বাগেরহাট
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য সহজ সমাধানের পথে না গিয়ে সরকারের এই অবস্থান তাদের জেদ বলে মনে করি। তাই জানমাল এবং জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের আলামত আঁচ করতে পেরে আমরা সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। ভারতীয় একটি ছায়াছবির সংলাপের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই— ডুবে যাক তরী, ভেসে যাক প্রাণ, রাজনীতির অসত্ নীতির আর অসত্ উদ্দেশ্য পুড়ে হোক খান খান।
মো. লুত্ফুর রহমান, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না।
মেজবাউর রহমান, ফার্মগেট, ঢাকা
আগামী দিনে বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করলেও এদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। কিন্তু একতরফা জাতীয় নির্বাচন কেন? যে কোন সাধারণ নির্বাচনেরই গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কাজেই এতবড় একটা জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা দেশে এবং বিদেশে জনগণের ভাবমূর্তির উপর একদলীয় সরকারের প্রভাব কিছু না কিছু থেকেই যেতে পারে। অতীতেও ছিল, কাজেই নিরপেক্ষ নির্বাচনে সুব্যবস্থা হলো- সকল দলমত নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের একান্ত কর্তব্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। আমাদের দেশকে যদি আদর্শ জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে দেশে বিদেশে পরিচিতি লাভ করতে হয় তাহলে শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় কোনদিনই সম্ভব নয়। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে অতীতের যাবতীয় ভুল-ভ্রান্তি ভুলে গিয়ে জাতীয় উন্নয়নের জন্য সত্যিকার অর্থে হিংসাকে ভুলে আত্মনিয়োগ করি তথা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী হিফজু,
হাউজিং স্ট্রেট, রাজশাহী
নির্বাচন হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার। কোন একক দল একা একা নির্বাচন করতে পারে না। আর সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতাও হারায়। তাই আমাদের দেশের সব দলেরই উচিত সংলাপের মাধ্যমে, একগুয়েমি ভাব পরিহার করে বলিষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে দেশের উন্নয়নে সহায়তা করা।
ডা. মো. হাসনাত আনোয়ার,
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিক্যাল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
এভাবে নির্বাচন করলে দেশের জন্য কল্যাণকর না হয়ে বরং রাজনৈতিক অরাজকতা বৃদ্ধি করবে। সেটা দেশের জন্য আরও ক্ষতিকর হবে। দেশের অধিকাংশ মানুষ এটা সমর্থন করবে না। তাই সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার।
সুলতান আহমদ,
রোড-২৭, বাড়ি-৬৬, ধানমন্ডি, ঢাকা
বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার কোন সুযোগ নেই। কাজেই সরকারের উচিত হবে বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনার জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা এবং বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে যদি একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করা হয় তাতে দেশে সংঘাত, সংঘর্ষ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হবে। যা দেশবাসী চায় না। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের উপরই বর্তাবে।
মোস্তাফিজুর রহমান,
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা
বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠান সুফল বয়ে আনবে না। কারণ দেশ উন্নয়নের জন্য বিরোধী দল এবং সরকারি দলকে একযোগে কাজ করতে হয়। এর ব্যতিক্রম হলে সমস্যা দিন দিন বাড়ে। এ কারণে সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাজারে তেজিভাব এবং নানা দপ্তরে নানা ধরনের অনিয়ম চলার সুযোগ ঘটে। আমরা অবশ্যই চাই সকল রাজনৈতিক দল নিয়ে সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য একটা সাধারণ নির্বাচন। বিরোধী দলের দাবি-দাওয়া সরকারকে সহনশীল হয়ে আস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কৌশলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আমরা ভীত হই দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাস, অনাস্থা থেকে তৃতীয় শক্তি এসে ক্ষমতায় ভাগ বসাতে পারে, যা কোনভাবেই কোন দলের জন্য শুভ বার্তা বয়ে আনবে না। আমরা অতীতে ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না।
ওয়াহিদ মুরাদ, স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
বর্তমান সরকারের একদলীয় নির্বাচনের প্রচেষ্টা মূলত তাদের ক্ষমতা ও দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। এ নির্বাচন জনগণ মানবে না। অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায়, একদলীয় নির্বাচন কখনও শুভ ফল বয়ে আনে না।
মো. ফকরুল ইসলাম টিপু,
সেনবাগ, নোয়াখালী
সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। তা হলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে।
দিলোয়ার হোসেন দিলু,
নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ
বর্তমান সরকার যেভাবে বলছে তা ঠিক নয়। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেয়া খুবই জরুরি।
হাফিজুর রহমান সাইমন,
ইতিহাস বিভাগ, ২য় বর্ষ,
সরকারি সাদত কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল
নির্দলীয় সরকার গঠন করে যদি নির্বাচন দেয় তাহলে তা বিশ্বের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতো। বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি হতো না।
মো. আবু জাফর,
বুশাইরহাট, শরীয়তপুর
একদলীয় নির্বাচনের বাক্য ব্যয় রাজনৈতিক নেতাদের মুখে নতুন কিছুই নয়। ৮৬ এবং ৯৬ সালেও একদলীয় নির্বাচন হয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে তা মেনে নেয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও মেনে নেয়া হবে না। বর্তমান সরকার ৯৬-এর কথা ভুলে গেছেন। তাই এখনও সময় আছে সব দলকে নির্বাচন করার মতো পরিবেশ তৈরি করে জাতিকে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিন। পুরোনো ঘণ্টা বাজিয়ে লাভ নেই।
রহিমা আক্তার, তেজগাঁও, ঢাকা
প্রধান বিরোধী দল ব্যতিরেকে নির্বাচন করলে বাংলাদেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। সারা বাংলাদেশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন করলে ভালো হয়।
মো. রফিকুল ইসলাম, রংপুর
বিরোধী দল নির্বাচন যদি না করে এবং নির্বাচন হয়েই যায় তাহলে তা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মতো হবে। দেশে অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে।
শুব্রত দাস খোকন,
কলাবাগান ১ম লেন, ঢাকা
দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে তাহলে আমাদের অবস্থা পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের মতো হবে। মিয়ানমার তো আমাদের দেশের চেয়ে আয়তনে অনেক বড়। তাদের প্রাকৃতিক সম্পদও আমাদের দেশের চেয়ে অনেক বেশি। শুধুমাত্র গণতন্ত্র না থাকার কারণেই অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে আছে। এজন্য যদি আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হয় তাহলে দেশে গণতন্ত্র আর থাকবে না।
শফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ
বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল বা জোট নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা কোনক্রমেই ঠিক হবে না বলে মনে করি। এ ব্যাপারে জাপানের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা প্রয়োজনে বিরোধীদলকে প্রধানমন্ত্রিত্ব দিয়েও সরকার গঠন করে। তবুও মধ্যবর্তী বা একতরফা নির্বাচনে যায় না। আমাদের সংসদ ও সরকার এখনও বিদ্যমান। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যান।
এম মতিউর রহমান,
৫/এ, আমিনাবাদ কলোনি, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা
এটা সম্ভব নয়। বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না।
আবদুস সালাম
বুয়েট স্টাফ কোয়ার্টার, ঢাকা
অত্যন্ত দুঃখজনক যে, স্বাধীনতার চার দশক পরেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারিনি। যার ফলে প্রতিটি সরকার পরিবর্তনের সময় অনিশ্চয়তা আর সংঘাতও সরে যায়নি।
মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা
দেশের প্রতি দরদ কিংবা ত্যাগী মানসিকতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে কোন সংকটই থাকবে না। দেশাত্মবোধই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ,
মিরপুর-১, ঢাকা
দিন যতই যাচ্ছে বর্তমান রাজনীতি ততই গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই অবস্থায় সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমরা মনে করি দু’দল একত্রে বসে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অতি দ্রুত আলোচনা করবে।
এস কে মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
এই মুহূর্তে প্রয়োজন গণভোট। যদিও দেশের বিদ্যমান সংবিধানে গণভোটের কোন সুযোগ নেই। ফলে জনমত যাচাইয়ের কোন সুযোগ হচ্ছে না।
নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর-১, ঢাকা
বিদ্যমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ জন্ম নিচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় উভয় দলকে সমস্যা সমাধান করে নির্বাচন করা।
ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা
বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন করলে বা চেষ্টা করলে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ এর মতো পরিস্থিতি হবে। এতে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। এমনকি আরো একটি ১/১১ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে।
আজহারুল ইসলাম সরদার,
সহ-সভাপতি, রায়পুরা প্রেসক্লাব, নরসিংদী
বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন যদি সরকার করেন তাহলে ঠিক হবে না। নির্বাচন হলে দেশে সিরিয়ার মত গৃহযুদ্ধ লেগে যাবে, দেশে আর মোটেই শান্তি থাকবে না। আমরা ২২ বছর এই দুই মহিলার শাসন দেখেছি। কোথাও কি কোন উন্নতি হয়েছে? কিংবা শান্তি হয়েছে? চারিদিকে শুধু রেষারেষি ও অশান্তির আগুন জ্বলছে। সত্যিকার বলতে কি দেশের জনগণ সামনে তৃতীয় পক্ষ একজন ভালো মানুষকে ক্ষমতায় দেখতে চাই।
তাহমিনা আক্তার মিনু,
পিরোজপুর হাউস, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা
নির্বাচন নিয়ে সরকার যে উক্তি করেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে এটা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। এটা সরকারের একঘেয়েমির বহিঃপ্রকাশ।
মো. শাহ আলম, মংলা, বাগেরহাট
স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা কি সত্যিকারের স্বাধীনতা পেয়েছি? ৪১ বছরে ১৫ বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি রাজনৈতিক সংস্থার। তাই আমরা আর রেষারেষি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে রাজি নই। একটি সত্য সুন্দর উন্নত রাজনৈতিক পরিবেশ দেখতে চাই। কারণ বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমরা বলি। সুতরাং সরকারকে হতে হবে সর্বদলীয়।
লাডলা, পিলখানা, ঢাকা
সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া মানে ক্ষমতার অপব্যবহার করা।
মো. শহীদুল ইসলাম,
খুলনা সদর, খুলনা
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছি সেই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের কথা। বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন পাগল এবং শিশু ছাড়া দেশে কোন নিরপেক্ষ লোক নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুরূপ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের শতকরা ৭৫% মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেই জনদাবি উপেক্ষা করে নির্বাচন দিতে চাচ্ছেন। সরকারের স্মরণ রাখা উচিত ক্ষমতা কারোর চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতা এবং কারাগার পাশাপাশি অবস্থান করে। শেখ হাসিনা এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ১৭৬ দিন রাজপথে হরতাল করেছেন। কিন্তু এতো ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন আওয়ামী লীগ বর্জন করল এটা জাতির কাছে আমার প্রশ্ন। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। আধুনিক বিশ্বে আমেরিকা এবং বৃটেনকে বলা হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং বৃটেন আমেরিকার গণতন্ত্র এক নয়। এটা প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছিল। দলীয় সরকারের অধীনে ১৯৭২ সাল থেকে কোন বিরোধী দলই ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই দেশের কথা, দেশের সম্পদের কথা, দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে বর্তমান সরকারকে একতরফা নির্বাচন করার হীনমনোভাব পরিহার করতে হবে।
হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন,
১/১৭/বি শিকদার রিয়েল স্টেট
টালি অফিস, ঢাকা
দেশের প্রধান বিরোধী দলকে ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন কতটা যুক্তিযুক্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে কিনা সে বিষয়ে সংশয় আছে।
বিপ্লব কুমার বর্মণ, ডেমরা, ঢাকা।
দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ বড় অসহায়। তারা চায় বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা অথচ এর কোন লক্ষণ নেই বা দেখা দিচ্ছে না। দিন দিন একে অন্যের প্রতি দূরত্ব বাড়ছে। সুতরাং নির্বাচন হবেই সরকারের উক্তি ঠিক আছে কিন্তু উভয়কেই সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
মো. মোজাহারুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা
নির্বাচন হবে। তবে কিভাবে হবে সেটাই এখন সবার প্রশ্ন। বর্তমান সংবিধানে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে নির্বাচন সম্ভব নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পরবর্তী ১৫ বছর অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা সরকারের পর পরবর্তীসময়ে হ্যাঁ-না গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে ব্যবহারের মাধ্যমে রায়কে নিজেদের পক্ষে নেয়। তাই প্রয়োজনে গণভোটের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
মাসুম আহাম্মদ,
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২
বিরোধীদল নির্বাচন না করলেও নির্বাচন হবে সরকারের এই ঘোষণা সঠিক। কিন্তু সরকারের উচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। অন্যদিকে বিরোধীদলের উচিত নির্বাচনে আসা। এবং যুদ্ধাপরাধীদের কাছ থেকে দূরে থাকা। তাদের নিয়ে নির্বাচন করলে বিরোধী দলের ভরাডুবি হবে।
সৈয়দ হায়দার আলী, মহাখালি, ঢাকা
এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়াটা অতি জরুরী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন দরকার নেই।
মজিবর রহমান, জুরাইন, ঢাকা
আমি মনে করি সময়মতো নির্বাচন করা সরকারের ভালো উদ্যোগ। তবে বিরোধীদলকে সাথে নিয়ে সাংবিধানিক নিয়মে নির্বাচন করা উচিত। যদি তারা নির্বাচনে না আসে তাহলে বিরোধীদলের কাজটা করা ঠিক হবে না। সময়মত নির্বাচন করা উচিত।
ফিরোজ শেখ, ১০৪ খালিশপুর, খুলনা
বিরোধীদলকে ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটা একতরফা হবে। তাহলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যাবে। সংসদকে কার্যকর রাখা হবে বলে নির্বাচনের আগে উভয় দল অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বর্তমানে বিরোধীদলও বিস্মৃত হয়েছে, সরকারি দলও সংসদকে উপেক্ষা করে চলেছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়।
মো. শওকত আলী শাহীন,
ক্রিয়েটিভ আউট সোর্সিং সলুশান লি.
মহাখালি, ঢাকা
সরকার বলছেন নির্বাচন হবেই। অন্যদিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধীদল নির্বাচনে যাবে না, এমনকি তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশে কোন একতরফা নির্বাচনও হতে দেয়া হবে না। সুতরাং বিরোধীদলকে বর্জন করে নির্বাচন করা কোনক্রমেই ঠিক হবে না।
কাউসার আকন্দ, মতিঝিল, ঢাকা
বিরোধীদলকে বর্জন করলে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে না এবং দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন একান্ত প্রয়োজন।
মোহাম্মদ শাহীন, শরিয়তপুর
বিরোধীদল বর্জন করলেও নির্বাচন হবে— সরকারের এই উক্তি ঠিক নয়। জরিপে জানা গেছে, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ নির্দলীয় সরকারের পক্ষে। সুতরাং সরকার যদি জনমত উপেক্ষা করে একতরফা কোন নির্বাচন করতে চায় তাহলে জনগণই তা মেনে নেবে না। অন্যদিকে বিরোধীদল বার বার পরিষ্কার করে বলছে, যে কোন অবস্থাতেই বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না। সুতরাং এর পরে আর কোন কথা আসে না।
মজিব, উত্তরা, ঢাকা
বর্তমানে দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা একেবারেই আশংকাজনক বলা যায়। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি নির্দলীয় সরকারের জন্য আন্দোলন করছে। আর তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার বলছে বিরোধীদল বর্জন করলেও নির্বাচন হবে। কিন্তু এটা ঠিক হবে না, তাদেরকে নিয়ে নির্বাচন হতে হবে। সেটাই হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যেমনি করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকা ও ব্রিটেনে। এখানে জয়-পরাজয় যে দলই হোক প্রত্যেকে সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। তাই নির্বাচন হতে হবে আমাদের দেশে নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এতে করে দেশের মানুষ স্বস্তি ও শান্তি পাবে।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা,
স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক
নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ বিষয়ে আলোচনা করে বড় দু’দলকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
সৈয়দা পারভীন সুলতানা,
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
এ দেশীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চায় যারা সংগ্রাম করে তাদেরকেই দলীয় শীর্ষ নেতারা কোন্ঠাসা করে রাখছে। ফলে বর্তমান সরকার মেধাশূন্যতায় ভুগছে না তাদের স্মৃতিশক্তিও লোপ পেয়েছে। কারণ বিরোধীদলকে উপেক্ষা করে ’৮৮ সালে স্বৈরাচার এরশাদ নির্বাচন করে ’৯০-এর গণআন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আবার ’৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মার্কা নির্বাচনে বিএনপি ও ঠিক একই অবস্থা হয়েছিল। তাই এই স্মৃতিটুকু অন্তত সরকারের মনে রাখা দরকার। এজন্য আমরা চাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
মিরাজুল ইসলাম মাহির,
রাম গোপালপুর,
রিকাবি বাজার, মুন্সীগঞ্জ
আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো হোক সে দল সরকারি নতুবা বিরোধী দল কেউই সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে দেশ ও দেশের জনগণকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ স্বার্থের কারণে রাজনীতি করে থাকে। কেননা রাজনীতিই একমাত্র পথ যার মাধ্যমে অর্থ এবং ক্ষমতা দুটোই অতি সহজে হাসিল করা যায়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যদি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতো তাহলে বিরোধী দল কোনদিনও নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবতো না। আবার সরকারি দলও কোনদিন একথা বলতে পারতো না যে, বিরোধী দল ছাড়াই নির্বাচন হবে। আসলে রাজনৈতিক দলগুলোর সকলেই ক্ষমতার লোভে এমন সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিরল ঘটনা। তবে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন আর তা হলো বিরোধী দল যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে কি দেশবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? আর সরকারি দল যদি প্রধান বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা করেন তা কতটুকু নিরপেক্ষ হবে? নাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সকল সদস্যই নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য নির্বাচনকে একটি খেলায় রূপান্তরিত করবে?
আফরিন জামান মমিতা,
দনিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা