ভারতে নতুন অধ্যাদেশ : চরম নারী নির্যাতনের শাস্তি ফাঁসি বা যাবজ্জীবন
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
নারী নির্যাতন রোধে নতুন অধ্যাদেশ ্আনলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ঐ অধ্যাদেশে চরম নির্যাতনের ঘটনায় ফাঁসি অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। গণধর্ষণের ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। নতুন অধ্যাদেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা বদলে একাধিক ধরনের নির্যাতনকে যৌন নিগ্রহের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। জে এস ভার্মা কমিশনের সুপারিশ খতিয়ে দেখে শুক্রবার রাতে এই নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। —খবর বাসসের
দিল্লিতে গণধর্ষণ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের কঠোরতম শাস্তির দাবি ওঠে। এর ফলে যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে শাস্তি নিয়ে আইন সংশোধনের ব্যাপারে উদ্যোগী হয় কেন্দ্র। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন বিচারপতি জে এস ভার্মার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। ঊনত্রিশ দিনের মাথায় কমিটি গত ২৩ জানুয়ারি সেই রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। রিপোর্টে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বেশ কিছু আইন সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সুপারিশ কার্যকর করতে এবার অধ্যাদেশ জারি করলো কেন্দ্রীয় সরকার। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে ধর্ষণের সঙ্গেই একাধিক ধরনের নির্যাতনকে যৌন নির্যাতনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অ্যাসিড হামলাও।
এছাড়া মেয়েদের পিছু নেয়া বা উত্ত্যক্ত করা (ইভটিজিং), অশালীন ইঙ্গিত, শীলতাহানি বা অন্য কোনভাবে তাদের হেনস্থা করাকেও অপরাধের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভার্মা কমিশনের সুপারিশ খতিয়ে দেখে এই নতুন অধ্যাদেশে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে দিল্লিতে গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণের ক্ষেত্রে সাবালকত্বের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার যে দাবি উঠেছিল রিপোর্টে সে সম্পর্কে কোন সুপারিশ করেনি ভার্মা কমিশন।