যত্নআত্তি
গোছানোর মন্ত্র
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১০
মানুষ ঘরে ফেরে শান্তির খোঁজে। আর সেই ঘর যদি হয় গোছানো ও পরিপাটি, তা হলে তো কথাই নেই। ঘরের হাজারো ঝামেলা সামলে ঘর গোছানোর সময় বের করা খুব কষ্টকর। সংসারে সবার প্রতি খেয়াল রাখা, বাচ্চার স্কুল ও হাজব্যান্ডের অফিস যাওয়া থেকে শুরু করে সব দায়িত্ব বর্তায় যার উপর, তিনি হচ্ছেন হাউজওয়াইফ। আর যদি ওয়ার্কিং ওম্যান হন, তা হলে ঝামেলা দ্বিগুণ। এসব কিছুর মাঝেই আপনার ঘর গোছানোর সমস্যার সমাধান করতে হয়। এই নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।
একটি সুন্দর সাজানো ঘরের স্বপ্ন সবার মধ্যেই থাকে। ঘর সাজানোর মধ্যে একটা নান্দনিক বিষয় রয়েছে। আর তাই ঘর সাজাতে নান্দনিক জ্ঞান আর রুচির প্রয়োজনীয়তাটাও বেশি। ঘর সাজানোর আগে ভাবতে হবে ঘরটি কী জন্য ব্যবহার করা হয় এবং এটি কত বড়। এখানে আরও একটা ব্যাপার বলে রাখা দরকার, আপনার ঘরের সবার রুচি, পছন্দ এবং চাহিদার কথা বিবেচনায় এনে ঘর সাজানোর পরিকল্পনা করতে হবে। নিজের পছন্দ অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করুন কোন ঘর কেমন করে সাজানো হবে। আকৃতি বুঝে ঘরের রঙ নির্বাচন করুন। ছোট ঘরে এমন হালকা রঙ ব্যবহার করুন যাতে আলোর খেলাটা খুব স্পষ্ট হয়। আবার বড় ঘরে গাঢ় রঙেও ক্ষতি নেই। ঘরের ফার্নিচার ঐতিহ্যবাহী, দেশী বা আধুনিক যেমনই হোক না কেন তা হতে হবে সবার থেকে আলাদা। এখানে, অতিথিকে চমকে দেবেন আপনার রুচি আর সৃজনশীলতায়। সে ক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে ঘর বিভিন্ন রকম হতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করে আপনার বাড়িটি কোথায় অবস্থিত। আর সব কিছুর সঙ্গে সঙ্গতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘর সাজানোর আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি পরিকল্পনা করুন। এবার সেই অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে নিন, যাতে এক নজরে আপনি দেখে নিতে পারেন কী কী প্রয়োজন। এ নিয়ে কিছু পরামর্শ—
আপনি যদি হাউজওয়াইফ হন, তা হলে সবাই অফিস বা স্কুল-কলেজে বেরিয়ে যাওয়ার পর পুরো বাড়ির কোথায় কোথায় গোছানো প্রয়োজন, দেখে হিসাব করে নিন।
একেকদিন ঘরের একেক জায়গা বেছে নিন। সব একদিনে করতে যাবেন না।
ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন, যাতে বেশি খুঁজতে না হয়।
আপনার সন্তানের আলমারি নিজে না গুছিয়ে ছুটির দিনে ওদের দিয়েই গোছান। এতে গোছানোর অভ্যাস হবে। প্রয়োজনে আপনি সাহায্য করুন।
আপনি যদি ওয়ার্কিং ওম্যান হন, তা হলে কাজের গুরুত্ব সেট করুন। সে অনুযায়ী পরপর গোছান।
যার রুম গোছাচ্ছেন তার রুচিকে প্রাধান্য দিন।
আপনি ঘরে থাকছেন বলে সব আপনার একার সামলোতে হবে—এমন নয়, বাড়ির অন্য সদস্যদের উপরও দায়িত্ব দিন। চাপ বেশি হলে তাদের সাথে প্রয়োজনে খোলামেলা কথা বলে নিতে পারেন।
প্রতিদিন ঘর গোছানো সম্ভব না হলে যেকোনো ২-৩টি ছুটির দিন বেছে নিন।
কাজ ভাগ করে নিতে পারেন, একেকজন একেক রুম গোছাতে পারেন।
অফিসের কাজের মতো ঘর গুছিয়ে রাখা নিয়ে টেনশন করবেন না। ব্যাপারটা এনজয় করুন।
অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আলমারির একেবারে পেছনে রাখুন। যাতে সহজে এগুলো নাড়াচাড়া করতে না হয়।
ঘর গোছানোর ব্যাপারে বাড়ির সবার মতামত চান, তা হলে ওরা ব্যাপারটা এনজয় করবে এবং নিজেদের ইনভলভ করতে পারবে।
মনে রাখবেন, কখনোই নিজের রুচি অন্যের উপর চাপিয়ে দেবেন না। তাদের রুচির প্রাধান্য দিন। বাইরে যান বলে ঘর গোছানোর সময় পান না—এই অজুহাতটা কিন্তু ঠিক নয়।
কিছু টিপস
প্রথমেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন। সব সময় সবকিছুর ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। মন চাইবে সমস্যার দিকে, নেতিবাচক দিকগুলোর দিকে ঝুঁকতে। তবে সেগুলো পাত্তা দেওয়া যাবে না।
সমস্যা সমাধানের কথা ভাবতে হবে, সমস্যা নিয়ে ভাবলে জটিলতা বাড়ে।
ঠাণ্ডা ও উচ্ছ্বসিত গান শোনা যেতে পারে।
পারলে মজাদার কিছু হাস্যরসাত্মক নাটক, ডেইলি জোকস দেখা যেতে পারে।
প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে হলেও নিজেকে অনুপ্রেরণামূলক বই কিংবা পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করে নিতে পারলে ভালো।
নিজের চিন্তাভাবনার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। যখনই মনে নেতিবাচক চিন্তা আসবে, তখনই জীবনের সুখকর দিকগুলোর দিকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে হবে।
আপনি সারাদিনে কী করেছেন অথবা কী করছেন না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যা করেননি বা করতে পারেননি, সেসব নিয়ে ভেবে কোনো লাভ নেই। আমরা সেসব কথা ভেবে মন খারাপ করে বসে থাকি। অথচ যা করতে পারলাম সেগুলোর কথা ভাবতে গেলে দেখা যায়, ইচ্ছাগুলোর অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছি। যা কিছুটা হলেও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রতিদিন নিজের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা অন্তত করা উচিত। এই যেমন—বই পড়ার অভ্যাস থাকলে পছন্দের লেখকের বই কেনা যেতে পারে, কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে নিজের পছন্দের কিছু খাওয়া যেতে পারে। বাসায় ফিরে প্রিয় কোনো সিনেমা, নাটক দেখা যেতে পারে। অথবা নিজের প্রিয় কোনো জায়গা থেকে ঘুরে আসা যায়। তাতে জীবনের একঘেয়েমি কিছুটা হলেও কাটানো সম্ভব।
অনেক সময় অন্যের জন্য কিছু করতে পারলেও আনন্দ পাওয়া যায়। কারও দুঃখের সময় পাশে থাকা, কাউকে ছোট হলেও কিছু একটা উপহার দেওয়া, বাসে কারও জন্য সিট ছেড়ে দেওয়া। এসবই আনন্দের কারণ হতে পারে।
যারা ভালো আছে তাদের দেখে আমরা অনেক সময় ঈর্ষাবোধ করি। কিন্তু আমাদের ঠিক উল্টোটা করা উচিত।
সব সময় যে ভালো কিছু ঘটে তা নয়। খারাপ ঘটতে পারে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে না ভেবে মনকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। তাতে অনেক কিছুর সমাধান সহজে পাওয়া যায়।