সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল

জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ততটা প্রভাব পড়েনি। গতকাল সোমবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। শিক্ষকরাও প্রায় সবাই উপস্থিতি ছিলেন। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়েই ক্লাস হয়েছে। যারা স্কুলে আসেননি তাদের স্কুলে না আসার কারণ ছিল নিরাপত্তার অভাব বোধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র একই। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলোও যথারীতি খোলা ছিল। ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম বলেন, সোমবার এ প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। শিক্ষকরাও সবাই এসেছেন। যে সব শিক্ষার্থী স্কুল থেকে দূরে থাকে, তারা স্কুলে আসতে পারেনি। তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সোমবার স্কুলে ক্লাস হয়েছে। এছাড়া শাহবাগে আন্দোলনরতদের সাথে সংহতি জানিয়ে স্কুলগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এদেশের নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির আহূত হরতাল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কোন হরতালে এই প্রথম স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত হয়েছে, ক্লাস হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা হরতালের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দলমত, ধর্ম-বর্ণ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে প্রগতিশীল সকল মানুষ এ হরতালকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সকল রাজাকারের উপযুক্ত বিচার চায়, সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চায়। তিনি বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নতুন প্রজন্ম জেগে উঠেছে। ওদের জয় হবেই। তিনি বলেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শতাধিক সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। সকল শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত হছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি কোনো প্রতিষ্ঠানে ৮০ ভাগ, কোথাও তার থেকে কম। ক্লাস হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্মের বিপথগামী কিছু শিক্ষার্থী ঘৃণ্য রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের ১৯৭১’এ খুন-হত্যা, গুম, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজসহ নষ্ট উত্তরাধিকারের সাথে নিজেদের যুক্ত করেছে। তারা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বাধীনতার মূলধারায় ফিরে আসতে পারে। তিনি যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।