বান্ধবীদের নিয়ে সমস্যায় ম্যারাডোনা
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৬
সাবেক গার্লফ্রেন্ডের সাথে যখন আইনি লড়াই চলছে সাবেক স্ত্রীর, সেই সময়ে কিনা নতুন গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে ফেলেছেন তিনি! এমন কাজ বোধহয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার পক্ষেই সম্ভব। তবে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর কথা এখনো পুরোপুরি স্বীকার করেননি আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তী।
আর্জেন্টিনার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই তোলপাড় চলছে ২২ বছর বয়সী এক নারীর নানা সংবাদ আর ছবি নিয়ে। আর যাকে ঘিরে এই আলোচনা তার নাম রোসিও জেরাল্ডিন অলিভা। তিনি ম্যারাডোনার নতুন বান্ধবী। তবে ম্যারাডোনাকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেননি দুইজনের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্কের কথা। আবার একেবারে উড়িয়েও দেননি দুইজনের চেনা-জানার ব্যাপারটা। তবে ম্যারাডোনার যুক্তি বোধ হয় ধোপে টিকছে না। কারণ আর্জেন্টিনার সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এমন কয়েকটা ছবি প্রকাশিত হয়েছে যাতে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে নিজের চেয়ে প্রায় ৩০ বছরের ছোট এই তরুণীর প্রেমে ভালই মজেছেন ফুটবল ঈশ্বর। একটি ছবিতে দেখা যায় ম্যারাডোনা হাতে একটি পোস্টার উচিয়ে আছেন যাতে লেখা, ‘রোসিও, আমি তোমাকে ভালবাসি (রোসিও তে আমো)।’ আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে শ্যাম্পেনের গ্লাস হাতে পরস্পরের সান্নিধ্যে সময় কাটাতে। তবে রোসিওর অবস্থান কিন্তু ম্যারাডোনার ঠিক উল্টো পাশে। মনে হচ্ছে প্রেমে লুকোছাপা একদমই পছন্দ করেন না তিনি। কারণ ম্যারাডোনার প্রতি নিজের ভালবাসার কথা জানাতে এতটুকু দ্বিধা করেননি রোসিও। একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই ভাল আছি, শান্তিতে আছি এবং অবশ্যই ডিয়েগোর (ম্যারাডোনা) প্রেমে মজে আছি। অন্য সবাই কি বলছে সে সম্পর্কে আমি মোটেই উদ্বিগ্ন নই।’
সপ্তাহ দুইয়েক আগে ম্যারাডোনার সাবেক বান্ধবী ভেরোনিকা ওজেদা সন্তান সম্ভবা অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমবারের মতো ম্যারাডোনার নতুন সম্পর্কে জড়ানোর খবর জানা যায়। হাসপাতালে ওজেদা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলে পঞ্চমবারের মতো পিতৃত্বের স্বাদ পান আর্জেন্টিনার ’৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। তবে এর মধ্যে দুইটি সন্তানকে ম্যারাডোনা তার নিজের বলে মানতে নারাজ। যদিও কোর্ট তাদেরকে ম্যারাডোনার ঔরসজাত বলেই রায় দিয়েছে।
ম্যারাডোনার সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের নাম রাখা হয়েছে ডিয়েগো ফার্নান্দো। বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত ম্যারাডোনা এখনো পর্যন্ত দেখতে পাননি নবজাতকের মুখ। তবে তার নতুন সম্পর্কের কথা শুনে বিস্মিতই মনে হলো ওজেদাকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে মাত্র মাস কয়েক হলো। আমাদের সন্তানই এখন দুইজনের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র কারণ।’ সন্তান ধারণ নিয়ে দুইজনের মতানৈক্যই বিচ্ছেদের কারণ বলেও জানান ওজেদা। এদিকে ওজেদা ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী এবং তার দুই কন্যা সন্তানের মা ক্লদিয়া ভিলাফেইনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন আইনি লড়াইয়ে। গর্ভপাত করার জন্য ভিলাফেইন তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওজেদা। তার এই অভিযোগকে আমলে নিয়ে আদালত ভিলাফেইনকে বলেছে ওজেদার কাছ থেকে দূরে থাকতে।