সৌদি আরব যাওয়ার এক মাস ছয় দিন পরই লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন পাকুন্দিয়ার জুয়েল মিয়া (৩৫)। গত ২ মে দাম্মাম থেকে নিয়োগকৃত আল হাবীব কোম্পানির গাড়িযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় হঠাৎ চাকা ফেটে গেলে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে জুয়েল মিয়াসহ ১০ বাংলাদেশি নিহত হন।
গাড়িটিতে মোট ১৬/১৭ জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। ওইদিন রাতে একই কোম্পানির অধীনে কর্মরত এলাকার মিজান মোবাইলে জুয়েল মিয়ার মৃত্যু সংবাদ বাড়িতে জানালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের আহাজারিতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
আরও পড়ুন: নারীসহ চারজনের পেটে সাড়ে ৬ হাজার ইয়াবা
রবিবার দুপুরে জুয়েল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে কান্নার সঙ্গে বিলাপ করতে দেখা যায়। জুয়েল মিয়া দেশে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করতো। স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে তার অভাবের সংসার। বড় মেয়ে জ্যোতি (৯) স্থানীয় কিন্ডারগার্টেনে পড়ে ও ছোট মেয়ে ইভা (৫) এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি।
সংসারের অভাব-অনটন মেটাতে ও মেয়েদের লেখাপড়ার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি বিদেশ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঋণ করে ও শ্বশুর বাড়ি থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে তিনি গত ২৩ মার্চ সৌদি আরবে পাড়ি দেন। জুয়েলের লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে তার স্ত্রী নাজমা বেগমের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ