অবশেষে আফ্রিদি ঝড়, কিন্তু...
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৩
দলে ঢুকেছিলেন মূলত লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা মূলত সেই ‘বুম বুম’ ব্যাটিংয়ের কারণে। প্রায় বছর তিনেক হল সেই ব্যাটিং যেন ভুলেই গিয়েছিলেন শহীদ খান আফ্রিদি। অবশেষে গত রবিবার জোহানেসবার্গে ফিরে এলো আফ্রিদির সেই বিধ্বংসী ব্যাটিং; ৪৮ বলে ৮৮ রানের ইনিংস খেললেন। কিন্তু তার এ দুর্দান্ত ইনিংসের দক্ষিণ আফ্রিকার রানপাহাড় পাড়ি দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব হয়নি পাকিস্তানের পক্ষে। হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেটি ৩৮ রানে জিতে নিয়ে স্বাগতিকরা সিরিজে এগিয়ে গেল ২-১ ব্যবধানে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইরফান ও ওয়াহাবের জোড়া আঘাতে ৪২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ডি ভিলিয়ার্স মাঠে নামার পরেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। হাশিম আমলাকে নিয়ে অসামান্য প্রতিআক্রমণ গড়ে তোলেন। পাকিস্তান তিন নম্বর উইকেট পায় ম্যাচের ৪৫তম ওভারে গিয়ে; ওয়াহাব রিয়াজের বলে আমলা মিসবাহকে ক্যাচ দিলে এ জুটির পতন ঘটে। তবে ততক্ষণে বেশ কিছু রেকর্ডকে নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন তারা দুজন। তাদের ২৩৪ রানের জুটিটিই এখন দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। আর শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড়কে দুইয়ে ঠেলে দিয়ে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও এখন তাদের দখলে। এ দুজনের বিদায়ের পরে ফ্যাফ দুই প্লেসিসের তিন ছয় এবং চারটি চারে করা ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ৩৪৩ রানের বড় সংগ্রহই গড়ে স্বাগতিকরা।
বড় রানের তাড়ায় নেমে শুরুতেই নাসির জামশেদকে হারায় পাকিস্তান। তবে এরপরে মোহাম্মদ হাফিজ এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অপর প্রান্তে তাকে যোগ্য সাহচার্য দিতে পারেননি কেউই। ফলে এক পর্যায়ে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ১৩২/৫। এ অবস্থায় উইকেটে আসেন আফ্রিদি। দলের এ অবস্থায়ও আফ্রিদি খেলতে শুরু করেন তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের তুলোধুনো করে মাত্র ৩১ বলেই ফিফটি তুলে নেন তিনি।দীর্ঘ এক বছর এবং ১৪টি ম্যাচ পরে আফ্রিদির ব্যাট থেকে ফিফটির দেখা পেলেন ভক্তরা। যতক্ষণ তিনি ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত জিতেও যেতে পারে পাকিস্তান। আফ্রিদির সাতটি ছয়ের মধ্যে কয়েকটি এতোটাই বিশাল ছিল যে, ধারাভাষ্যকাররা সেগুলোকে এই মাঠের ইতিহাসে সবচে বড় বলেন। সোতসোবের বলে সেঞ্চুরি থেকে ১২ রান দূরে থাকতে আফ্রিদি ফিরে গেলে পাকিস্তানের আশাও শেষ হয়ে যায়। বল হাতে দশ ওভারে ৯৩ রান দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে ওয়ানডেতে সবচে খরুচে বোলারের রেকর্ড করা ওয়াহাব রিয়াজের ৪৫ রানে ভর করে ৩০০ অতিক্রম করে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৩০৯ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২১ মার্চ ডারবানে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা:৩৪৩/৫ (৫০ ওভার) আমলা ১২২, ভিলিয়ার্স ১২৮, ইরফান ২/৩৪। পাকিস্তান:৩০৯ (অল আউট, ৪৮.১ ওভার) আফ্রিদি ৮৮, হাফিজ ৫৭, ম্যাকলারেন ৫৬/৩। ফল:দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৮ রানে জয়ী। সিরিজ:দক্ষিণ আফ্রিকা ২-১ এ এগিয়ে।
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: হাশিম আমলা এবং এবি ডি ভিলিয়ার্স।