চট্টগ্রাম আবাহনীতে আটকে গেল মুক্তিযোদ্ধা
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৭
এমনিতেই দল হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার তুলনায় চট্টগ্রাম আবাহনী একটু ‘আন্ডারডগ’। তার ওপর আবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অদ্ভূত নিয়মের পাল্লায় পড়ে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারছে না তারা। ফলে চট্টগ্রামের দলটিকে মুক্তিযোদ্ধা হেসে খেলে হারাবে, এমনটা অনুমান করা যাচ্ছিল। কিন্তু সেই অনুমান ভুল প্রমাণ করে স্বাধীনতা কাপে দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকার ‘পরাশক্তি’ মুক্তিযোদ্ধাকে কাল গোলশূন্য ড্র করে আটকে দিল চট্টগ্রাম আবাহনী।
নিয়মটা হল, পেশাদার লিগের দল হলে তারা বিদেশি ফুটবলার নিয়ে খেলতে পারবেন। আর বাইরের দল হলে সেক্ষেত্রে বিদেশি খেলোয়াড় পাবেন না। পেশাদার লিগের দল মুক্তিযোদ্ধায় খেলেছেন চার বিদেশি ফুটবলার। চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সি গায়ে বিদেশি ফুটবলার ছিলেন না। দৃশ্যত এই বৈষম্য নিয়েও মুক্তিযোদ্ধাকে আটকে দিয়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনী।
ম্যাচ শেষে মানিক হতাশ হয়ে ডাগআউটে বসে রইলেন। আর পাশের ডাগআউটে চট্টগ্রামের কোচ লেদুর চোখেমুখে, কথায় উল্লাস, ‘এটা আমাদের জন্য ম্যাচ জয়ের চেয়েও বেশি।’
মুক্তিযোদ্ধার কোচ মানিক হতাশ হয়েছেন তার খেলোয়াড়দের উপর। কারণ তার কাছে ম্যাচটা হারের চেয়েও বেশি। নাইজেরিয়া, ব্রাজিল, গাম্বিয়াসহ চার বিদেশি ফুটবলার নিয়ে গোল করতে না পারার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন কোচ। বলছেন, যেভাবে গোল মিস করেছেন ব্রাজিলীয়ান ফরোয়ার্ড টাইসন সিলভা, নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ডার্লিংটন, মোঃ ইউসুফ; তা ছিল অমার্জনীয়। কোচ মানিক বলছেন, ‘গোল না করতে পারলে প্রতিপক্ষ একসময় তার সুবিধা নেবেই। চট্টগ্রাম আবাহনী সেটাই করেছে।’
মানিক অবশ্য দাবি করলেন পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ডার্লিংটন বল নিয়ে গোল মুখে ঢুকতে গেলে চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক শওকত তাকে বাধা দেয়ায় পড়ে যান। এতে পেনাল্টিও দাবি করেন ডার্লিংটন। সে দাবিতে রেফারি কান না দিলেও পেনাল্টির দাবি কোচের।
এই ম্যাচে শুধু ড্র নয়; জয় নিয়েও মাঠ ছাড়তে পারত চট্টগ্রাম আবাহনী। রাজুর গড়ানো শট পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর জাহেদ। তিনি পলাশের ক্রস করা বলে হেড করলে বল গোলকিপার জিয়ার হাতে জমা পড়ে। বেঁচে যায় মুক্তিযোদ্ধা।
আজকের খেলা ঃ
মোহামেডান—সকার ক্লাব; কমলাপুর স্টেডিয়াম (৩টা ১৫ মিনিট)।