‘বার্থডে বয়’ হেরাথের কীর্তি

কাল ছিল তার জন্মদিন। পঁয়ত্রিশে পা রাখলেন তিনি। ক্রিকেটারদের জন্য ‘৩৫’ বুড়ো হয়ে যাওয়ার মতোই একটা বয়স। কিন্তু তার পারফরম্যান্স দেখে, কে তাকে ‘সিনিয়র’ বলবে? কাল নিজের জন্মদিনে আবার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন, ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেন, শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় বোলার হিসাবে ২০০ উইকেট শিকার করলেন। যেন সদ্য তারুণ্যে পা দেয়া এক ক্রিকেটারের মতো প্রতিটা সাফল্য উচ্ছ্বাস করে উদযাপন করলেন ৩৫ বছর বয়সী ‘তরুণ’ রঙ্গনা হেরাথ; শ্রীলঙ্কার নতুন মুরালিধরন। একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান দিলেন হেরাথের এই ‘মুরালিধরন’ হয়ে ওঠাটা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। মুরালির অবসরের পর গতকালকেরটি নিয়ে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৫টি টেস্ট জিতেছে। পাঁচটি টেস্টে হেরাথের বোলিংটা দেখে নিন—৯/১২৮, ১২/১৭১, ৫/১২১, ১১/১০৮ এবং ১২/১৫৭! এরপর আর কিছু বলার দরকার হয়? হেরাথ নিজে বেশি কথা বলার মানুষ বলে মনে হলো না। ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে নিজের বোলিং দর্শনটা খুব সরল করে তুলে ধরলেন। বললেন, ‘আমি কীরকম ডেলিভারি দিলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না; মানে দুসরা, তিসরা কিছু নিয়েই আমি ভাবি না। আমি ভাবি, দলের উইকেট দরকার, উইকেট নিতে হবে। ফলে সঠিক জায়গায় বল করে যাওয়াই আমার কাজ।’ এই ‘সরল দর্শন’-এর রঙ্গনা হেরাথের জাতীয় দলে প্রথম আগমন ১৯৯৯ সালে; সেই রানাতুঙ্গা, ডি সিলভাদের যুগে। ‘এ’ দলে ও বয়সভিত্তিক দলে অসামান্য পারফরম করেই জাতীয় দলে এসেছিলেন। কিন্তু অভিষেক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেট নেয়ার পরও দলে স্থায়ী হতে পারেননি। মুরালির উত্তরোত্তর ত্রাস হয়ে ওঠা এবং নিজেকে যথেষ্ট প্রমাণ করতে না পারায় প্রথম তিন টেস্ট খেলে বাদ পড়লেন, আবার ২০০৪ সালে এসে বছর দুয়েক যাতায়াতের মধ্যে থাকলেন। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আবার বড় বিরতি। ২০০৮ সালে ফেরার পর তিন টেস্ট খেলে বাদ। অবশেষে ২০০৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে গল টেস্টে ৫ উইকেট নিয়ে ফিরলেন। সেই থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৯ সালে ফেরার পর এ পর্যন্ত ২৬ টেস্টে তার সংগ্রহ ১৬১ উইকেট। এই সময়কালে হেরাথের চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন একমাত্র ইংলিশ স্পিনার সেয়ান; ৪৩ টেস্টে ১৭৮ উইকেট। তাহলে পরিসংখ্যানও বলছে, শ্রীলঙ্কানদের নতুন-মুরালি এই হেরাথই। কিন্তু সমস্যা একটাই—এই যে ৩৫ বছরে পা দিয়ে ফেললেন হেরাথ। ৩৫ বছর পূর্ণ করার দিনে ২০০তম উইকেট নেয়া বোলার আর কী করে ৮০০ উইকেটের মুরালি হওয়ার স্বপ্ন দেখবেন! রঙ্গনা হেরাথ টেস্ট : ৪৭ উইকেট : ২০০ ইনিংসে ৫ উইকেট : ১৬ বার কলম্বো টেস্ট ১ম ইনিংস : ৫/৬৮ ২য় ইনিংস : ৭/৮৯