জাতীয় দলের ব্যস্ততায় মিলছে না পছন্দের খেলোয়াড়
প্রিমিয়ার ক্রিকেট নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৬
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যস্ততার কারণে চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার ডিভিশনের জন্য স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারিশ্রামিক বেড়ে গেছে। তাই দল গড়তেও সমস্যায় পড়েছে বড় ক্লাবগুলো। এসব ক্লাব চাহিদামত খেলোয়াড় পাচ্ছে না বলেই মূলত প্রিমিয়ার লিগের দলবদল এবং খেলা শুরুর তারিখও নির্দিষ্ট করতে পারছে না ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম)।
যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পিতা রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে গত কয়েকদিনে শোকাবহ সময়েরও প্রভাব পড়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট তথা আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ শুরুর দিনক্ষণ ঠিক করার ব্যাপারে। সিসিডিএমের সদস্য সচিব রাকিব হায়দার পাভেল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর কারণে প্রিমিয়ার লিগের কাজকর্ম থেমে আছে। একই কারণে ক্লাবগুলোর নিজেদের মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও গত দুদিনে তা হয়ে ওঠেনি। আশা করছি এ সপ্তাহের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত হতে পারে।’
জানা গেছে, এ মাসের শেষদিকে অথবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দলবদল এবং আগামী মাসের মাঝামাঝিতে লিগ শুরু করতে চায় সিসিডিএম। তার আগে ক্রিকেটারদের বাড়তি দর হাঁকানোর কারণে খেলতে অনাগ্রহী শীর্ষ পাঁচ ক্লাবের সাথে অবশিষ্ট সাত ক্লাবের আলোচনায় বসার কথা। সভাশেষে ক্লাবগুলোর গৃহীত সিদ্ধান্ত সিসিডিএমকে জানানোর কথা ছিল বলে জানান প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। কিন্তু বৈঠকটি না হওয়াতে এ ব্যাপারে যেমন কোন অগ্রগতি হয়নি, তেমনি লিগ শুরু করা নিয়ে জটিলতাও কাটছে না।
সিসিডিএমের সদস্য সচিব এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় ক্লাবগুলো বিপাকে পড়েছে। আগে যে খেলোয়াড় মাত্র দুই ম্যাচ খেলেছে, সে এখন ১০ লাখ টাকা চাচ্ছে। আবার গতবার যে পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছে সে চাইছে ৪০ লাখ টাকা। এক খেলোয়াড় গতবার আট লাখ টাকায় খেললেও এবার চায় ২২ লাখ টাকা। এভাবে হলে তো ক্লাবগুলো দল গোছাতেই হিমশিম খাবে।’
জাতীয় দল এ মাসের শ্রীলংকা সফর শেষে দেশে ফিরলেও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে জিম্বাবুয়ে সফর। তাই বাস্তবে মে মাসের আগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাবে না প্রিমিয়ারের ক্লাবগুলো। এই কারণে শীর্ষ ক্লাবগুলো আছে বিপদে। তাই শেখ জামাল ধানমন্ডি, আবাহনী, মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া ও প্রাইম ব্যাংকের মত দলগুলো নিজেদের ঘর গোছাতে পারছে না বলে সিসিডিএমের কাছে প্রিমিয়ার ক্রিকেট পিছিয়ে দিতে লিখিতভাবে আবেদন করেছে।
কিন্তু মে মাসে লিগ শুরু হলেও বৃষ্টির মৌসুমের কারণে বার বার হোঁচট খাবে। সিসিডিএমের সদস্য সচিব তাই বলেন, ‘মে মাসে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। টানা দুইদিন যদি বৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে মাঠ আর খেলার উপযোগী থাকবে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি, এপ্রিলে লিগ শুরু করে দেয়ার।’
বিশ্বস্তসূত্র থেকে জানা গেছে, সিসিডিএম ১৩৫/৪০ জনের একটি খেলোয়াড় তালিকা তৈরি করে ক্লাবগুলোকে দিয়েছে। গতবার একটি ম্যাচ হলেও খেলেছে এমনদেরকেই রাখা হয়েছে তালিকাটিতে। এছাড়া প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দেরও রাখা হয়েছে সিসিডিএমের তালিকায়। বাদ দেয়া হয়েছে, গতবার যারা প্রিমিয়ার থেকে অবসর নিয়েছেন তাদের।
জাতীয় দলের সফরের পাশাপাশি এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শ্রীলংকা সফরও রয়েছে। তাই এই দলটির খেলোয়াড়দেরও পাচ্ছে না ক্লাবগুলো। খেলোয়াড় সংকট হলেও প্রিমিয়ারের শীর্ষ পাঁচ ক্লাব ছাড়া বাকি সাত দল চাচ্ছে দ্রুত লিগ শুরু করতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরকম এক ক্লাব কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই খেলা মাঠে গড়াক। জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সফর তো থাকবেই। আমরা তো গত মাসে এক সভায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছাড়াই লিগ খেলার সম্মতি দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাত্ করে আবার তাদের ছাড়া লিগ না খেলার কথা বলছি। এভাবে হলে তো লিগ শুরু করা যাবে না। এই যেমন আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রয়েছে। তখনও তো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে না। তাই বলে তো লিগ বন্ধ করা যাবে না।’
শীর্ষ ক্লাবগুলোর বাজেট সাধারণত দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা হয়ে থাকে। তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়াই ক্লাবগুলোর বাজেট যদি এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে দল গোছাতে হিমশিম খেতে হবে বলে উল্লেখ করেন গাজী ট্যাংকের এক কর্মকর্তা। তারপরও ধারণা করা হচ্ছে, ক্লাবগুলোর সাথে সিসিডিএমের আসন্ন সভাটি ফলপ্রসূ হলে আগামী মাসে প্রিমিয়ার ক্রিকেট মাঠে গড়াতে পারে।