তামিম ইকবালের প্রত্যাবর্তন
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৮
এক বাংলাদেশের ইনিংস চলা অবস্থায়ই দু’বার খেলা থেমে গেল। একবার মৌমাছির আক্রমণে কাবু হয়ে খেলোয়াড়রা সব শুয়ে পড়লেন মাঠে। আরেকবার ফ্লাড লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে হল। মনে হল যেন প্রকৃতিও বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাইছে।
কিন্তু বলের মুভমেন্ট বা প্রকৃতির বাধা; কোনো কিছুই আটকাতে পারল না তামিম ইকবালকে। প্রায় তিন বছর পর অবশেষে আরেকটি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ সালের সেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের টেস্ট সেঞ্চুরির পর তামিমের আরেকটি সেঞ্চুরিতেই মূলত এক প্রান্তে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরও ২৫৯ রানের একটা মান বাঁচানো স্কোর করতে পারল বাংলাদেশ। তবে এর মাঝে নাসির হোসেনের ৫৯ বলে ৭৩ রানের কৃতিত্বটাও ভুললে চলবে না।
শেষ বেলায় নাসিরের পাল্টা আক্রমণ বাংলাদেশের পুঁজিটাকে আরেকটু দৃষ্টিনন্দন করল; এটা সত্যি। কিন্তু তামিমের স্বভাববিরোধী এই সেঞ্চুরিটাকেই মানতে হবে বাংলাদেশের ইনিংসের মেরুদণ্ড বলে।
তামিম কতোটা স্বভাববিরোধী ইনিংস খেলেছেন; সেটা পরিসংখ্যানই বলতে পারবে। ওয়ানডেতে তার নিজের এই চতুর্থ সেঞ্চুরিটি, ক্যারিয়ারের স্লথতম সেঞ্চুরি। এর আগে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন ১২০, ১০৫ ও ৯৪ বলে। কালকেরটি এলো ১২৯ বলে!
তামিম শুরুটা ‘স্বভাববিরোধী’ভাবে নয়, নিজের মতোই করেছিলেন। পরপর কয়েকটা আক্রমণাত্মক শটে বাংলাদেশকেও শুরুতেও বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। ১০ ওভারেই শুধু এনামুল বিজয়ের উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ওই এনামুলের আউটের পর অন্য প্রান্তে যাওয়া-আসা করতে থাকা ব্যাটসম্যানদের আচরণই গুটিয়ে যেতে বাধ্য করেছে তামিমকে।
বিজয় ১৩ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর আশরাফুল ৫ বল খেলে কোনো রান না করে ফিরলেন, মুশফিক ১২ বল খেলে ৩ রান করলেন এবং মাহমুদউল্লাহ নিজের ফর্ম ফেরাতেই কি না, ২৯ রান করতে ৫৩ বল খরচ করে ফেললেন।
এই অবস্থায় তামিম স্রেফ ইনিংস তৈরি করে যাওয়াই কাজ বলে ঠিক করে নেন। পরে নাসিরকে সঙ্গী হিসেবে পেলেও তামিম সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর জন্য আরও সময় ব্যয় করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাথুসের বলে বাউন্ডারি মেরেই সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন তামিম। আর ফেটে পড়ে দারুণ উল্লাসে।
লর্ডস, ম্যানচেস্টারে টেস্ট সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে এতো উল্লাস কেন করলেন; তারও ব্যাখ্যা ওই বিরতি। গত তিন বছরে টেস্ট, ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলেছেন, ২০৮১ রান করেছেন, ১৮ বার ফিফটি পার করেছেন; কিন্তু কিছুতেই সেঞ্চুরি পাচ্ছিলেন না! ফলে উত্সব তো তিনি করবেনই।
আর তামিমের এই সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশেরও একটা খরা কাটল; শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পেল বাংলাদেশ!
তবে বাংলাদেশের গতকালকের ইনিংসটার ‘মেরুদণ্ড’ বললে, নাসিরকে বলতে হবে ইনিংসটার সৌন্দর্য। তামিমের এই ইনিংসও ১১২ রানে রান আউট হওয়ায় অপমৃত্যু হল। তারপর বাংলাদেশ আর ২৫০ রান দেখতে পাচ্ছিল না। অলরাউন্ডার হিসেবে নামা জিয়াউর রহমান শূন্য রানে আউট হয়ে হতাশ করলেন, হতাশ করলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে টুকটাক রান করার খ্যাতি থাকা সোহাগও। কিন্তু কোনো হতাশা পাত্তা পেতে দিলেন না নাসির। এক প্রান্তে শেষ দুই ব্যাটম্যানকে নিয়ে শেষ ১০ ওভারে ৮৩ রান এনে দিলেন বাংলাদেশকে। এর মধ্যে ৪২তম ওভারে ১০, ৪৩তম ওভারে ১১ এবং ৪৮তম ওভারে ১৭ রান নিয়েই বাংলাদেশকে পার করে দিলেন ২৫০ রানের ধাক্কা!