‘নতুন’ মারাকানায় ব্রাজিল-ইংল্যান্ড লড়াই আজ
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৩, ২২:১২
খেলা হবে কি হবে না, এ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এক নাটকের পর শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল-ইংল্যান্ড প্রীতিম্যাচ দিয়েই আজ রবিবার নতুনভাবে যাত্রা শুরু করছে ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়াম। প্রায় ৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে ব্যাপক সংস্কার কাজের জন্য আড়াই বছর বন্ধ থাকা ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর এই স্টেডিয়ামে এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচ।
ব্রাজিলে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মারাকানায়। তার আগে আগামী মাসের কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালসহ মোট ১১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে। সেই লক্ষ্যেই নেয়া হচ্ছিল প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে মূল আয়োজনের আগে একাধিক প্রীতিম্যাচ আয়োজন করে স্টেডিয়ামটির কার্যক্ষমতা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সংস্কারের পরেও মারাকানার সেই বিখ্যাত বৃত্তাকার আকৃতি এবং শৈলিক আবরণেই থাকছে। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ব্রাজিলের জার্সির হলুদ, আকাশী, নীল রঙের সিট। তবে আগের দুই লাখ দর্শকাসনের ক্ষমতাকে কমিয়ে আনা হয়েছে ৭৮,৮৩৮ সিটে।
মাঠের বিষয় ঠিকঠাক থাকলেও গত বৃহস্পতিবার আইনি ঝামেলার মধ্যে পড়ে ম্যাচটি। কেননা এই মুহূর্তে মারাকানায় কোন ম্যাচ হতে পারবে না বলে রুল জারি করে স্থানীয় একটি আদালত। কারণ হিসেবে আদালত বলে, একটি ম্যাচ আয়োজন করতে হলে ন্যূনতম যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন মারাকানায় সেটা নেই। তবে নগর কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করলে আদালত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।
তাই সব ঝামেলা মিটিয়ে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে নতুন মারাকানার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। ২০০২ সালে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ লুই ফেলিপ স্কলারির তত্ত্বাবধানে ব্রাজিল দল নিজেদের কতটা গুছিয়ে নিতে পেরেছে তার একটা প্রমাণও হয়তো এই খেলায় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় দফায় ব্রাজিলের দায়িত্বে আসার পর এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ জেতা স্কলারির জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ আরো একটি কারণে। বিশ্বকাপের আগে কনফেডারেশন্স কাপ ছাড়া ব্রাজিল নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার জন্য শুধু এরকম কয়েকটি প্রীতিম্যাচই হাতে পাচ্ছে। তবে ইংলিশদের বিরুদ্ধে লড়াইটা যে মোটেও সহজ হবে না তা গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের হারই তার প্রমাণ। বিষয়টি বুঝতে পারছেন চেলসির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজও। লুইজ বলেন, ‘তারা দুর্দান্ত একটা দল। দলটাতে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার দারুণ সংমিশ্রন ঘটেছে। এটা কঠিন একটা ম্যাচই হবে।’
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় সমালোচকদের তোপের মুখে পড়া ইংলিশ কোচ রয় হজসনের আশাবাদ, সময় গড়ানোর সাথে সাথে তার দল ফিরবে প্রকৃত রূপে। দল ঠিক পথেই আছে দাবি করে হজসন বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরও আমি বিশ্বাস করি দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে। বিভিন্নজনের বিভিন্ন মত থাকতে পারে। তাদের মতকে আমি সম্মান জানাই। দেখা যাক আমরা কি করতে পারি।
অন্যদিকে তরুণ ইংলিশ উইঙ্গার অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলেইন রোমাঞ্চিত মারাকানায় খেলার কথা ভেবে। কারণ এই স্টেডিয়ামের সাথে তার আবেগের ব্যাপারও জড়িত। ইংল্যান্ড ১৯৮৪ সালে সর্বশেষ যখন এই স্টেডিয়ামে খেলেছিল, সেই দলের সদস্য ছিলেন তার বাবা মার্ক চেম্বারলেইন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণে যেন তর সইছে না অ্যালেক্সের। তিনি বলেন, ‘মারাকানায় যাওয়া এবং ম্যাচ খেলতে পারা! এর চেয়ে ভাল অনুভূতি আর কি হতে পারে।’
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল মারাকানায় দুই ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদো এবং বেবেতোর নেতৃত্বাধীন সাবেক খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দুটি দল এক প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেয়। তবে সেই ম্যাচে দর্শক হিসেবে থাকেন আমন্ত্রিত ২৫,০০০ জন।