আবার ভারতীয় বোর্ড সভাপতি ডালমিয়া
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৩, ২১:৪১
সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল রবিবার বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) প্রধানের পদ থেকে সরে দাড়াতে বাধ্য হলেন এন শ্রীনিবাসন। একই সাথে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) স্পট ফিক্সিংয়ের তদন্ত চলাকালীন সময়ের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে অন্তবর্তী সভাপতি হয়েছেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া। আইসিসির সাবেক সভাপতি ডালমিয়া এর আগেও বিভিন্ন মেয়াদে বিসিসিআই’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে শ্রীশান্তসহ তিন ক্রিকেটার গ্রেফতার হওয়া থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। এর জের ধরে কয়েকদিন আগে গ্রেফতার হন চেন্নাই সুপার কিংসের ‘টিম প্রিন্সিপাল’ এবং শ্রীনিবাসনের জামাই গুরুনাথ মুয়াপ্পান। মুয়াপ্পান এবং আটককৃত খেলোয়াড়দের দেয়া তথ্যানুসারে পুলিশ বেশ কয়েকজন বুকিকেও আটক করে। আইপিএল বন্ধ করে দেয়ার দাবীও তোলেন অনেকেই। গুঞ্জন ওঠে এসবের সাথে পরোক্ষভাবে শ্রীনিবাসনের যোগসূত্র থাকার। শ্রীনিবাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে বোর্ড প্রধানের পদ ছাড়ার দাবী তোলেন সাবেক ক্রিকেটার এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবীদদের অনেকেই। তবে বরাবরই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে পদ আকড়ে থাকেন শ্রীনিবাসন। শেষ পর্যন্ত আর থাকা হলো না তার।
ভারতীয় বোর্ডের ওয়াকিং কমিটির গতকালের সভায় সিনিয়র সহ-সভাপতি অরুন জেটলিসহ অন্যান্য সদস্যদের পরামর্শক্রমে বোর্ড প্রধানের পদ থেকে ‘সরে দাড়ানোর’ ঘোষনা দেন শ্রীনিবাসন। তদন্ত কার্য সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে চালনার জন্যই এই সিদ্ধান্ত, জানান তিনি। তবে তাকে পদত্যাগের ব্যাপারে আই এস বিন্দ্রা বাদে অন্য কোন সদস্যই চাপ দেননি বলে ডিএনএকে জানিয়েছেন বোর্ডের এক কর্মকর্তা। বিসিসিআইয়ের বিবৃতি অনুযায়ী,‘বিসিসিআইয়ের কোন সদস্যই শ্রীনিবাসনের পদত্যাগ দাবী করেননি। অনুসন্ধানী কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্দোষ প্রমানিত হলে তিনি আবারো পূনর্বহাল হতে পারবেন।’ এদিকে শ্রীনিবাসনের সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত হলে প্রশ্ন ওঠে বোর্ডের অন্তবর্তী সভাপতি হচ্ছেন কে? কমিটির সদস্যরা জেটলিকে এই দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে অনুরোধ করলেও, রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে এ দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন জেটলি। এরপর জেটলিই প্রস্তাব করেন শশাঙ্ক মনোহর এবং ডালমিয়ার নাম। তবে সাবেক সভাপতি মনোহরের ব্যাপারে সদস্যরা একমত হতে না পারলে, সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় ডালমিয়ার নাম। অতীতে বিভিন্ন মেয়াদে বোর্ড প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডালমিয়াও সম্মত হন এই দায়িত্ব নিতে।