স্তব্ধ-বিস্মিত সতীর্থরা

খেলা থাকুক আর নাই থাকুক; মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম এখন আর নিশ্চুপ হয়ে থাকে না কখনোই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিস, খেলোয়াড়দের অনুশীলন, সাংবাদিকদের আনাগোনা মিলিয়ে সবসময় যেন প্রাণচঞ্চল এই স্টেডিয়াম। কালও এর সবই উপস্থিত ছিল—বিসিবি অফিস সময় মতো খুলেছে, খেলোয়াড়রা অনুশীলনে এসেছেন, সাংবাদিকরা এসেছেন খবর সংগ্রহ করতে। কিন্তু এর মধ্যেও একটা বিস্ময়কর নীরবতা যেন ঘিরে ধরেছে মিরপুর স্টেডিয়ামকে। মাথা নিচু করে খেলোয়াড়দের হেঁটে যাওয়াই বলে দেয়, এই দিনটা একটু অন্যরকম একটা দিন। ডাক দিয়ে কথা বলতে গেলে পেসার জিয়াউর রহমান এক কথাতেই বুঝিয়ে দিলেন সব—আজ আমাদের সব ক্রিকেটারের জন্য দুঃখের দিন, কষ্টের দিন। দেশের ক্রিকেটকে, কোটি কোটি সমর্থককে এই কষ্ট আর অবিশ্বাসে ডুবিয়েছেন একজন মোহাম্মদ আশরাফুল। স্পট ফিক্সিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বিস্ময়ে ডুবিয়ে দিয়েছেন সকলকে। সেই সকলের সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন আশরাফুলের সতীর্থ খেলোয়াড়রাও। অনুশীলন করতে এসে জিয়াউর রহমান বললেন নিজের এই কষ্টের কথা, ‘আমার এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, আশরাফুল এমন একটি কাজ করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এখন সাধারণ কোন ম্যাচের দিকেও লোকজনের সন্দেহ দৃষ্টি থাকবে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও লোকে বাঁকা চোখে দেখবে।’ এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে। দেশের ক্রিকেট নিয়েই তৈরি হয়েছে একটা অবিশ্বাস। ক্রিকেটের ওপরে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে আশরাফুলের ঘটনাটা নিয়েই অবিশ্বাস এখনও খেলোয়াড়দের মধ্যে। মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছিলেন নিজের অবিশ্বাসের কথা, ‘আমার খুবই কষ্ট লেগেছে। তার কাছ থেকে এমন কিছু আশাই করতে পারি না।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আশরাফুলের বেশ পরে এসেছেন আব্দুর রাজ্জাক। যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি; ঘরে বসেই দেখেছেন আশরাফুলের অনন্য কীর্তি। আশরাফুলের সম্বন্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজ্জাক তাই ভেঙ্গে পড়লেন, ‘আশরাফুলের নাম শুনেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার এখনো মনে হয় সে ফাঁদে পড়েছিল। যাই হোক না কেন আমাদের ক্রিকেটের জন্য আজ বড় দুঃখের একটি দিন।’ স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ায় আজ আশরাফুলের পাশে কেউই নেই। ঘরে বসেই সারাদিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার তার বাসায় গিয়ে আবিষ্কার করা গেল ভিন্ন আশরাফুলেকে। জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, জাতীয় দলের কেউ কি তার সাথে কথা বলেছে? উত্তরে বিমর্ষ আশরাফুল, ‘না। তবে কথা বলবেই বা কিভাবে। আমার মোবাইল নাম্বারই তো পরিবর্তন করেছি।’ এই মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, ঘরে বসে থাকা, নিজেকে লুকিয়ে রাখা; এটাই কী পরিণতি ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের।