বোর্ড সভাপতির দিকে তাকিয়ে সিসিডিএম ও কোয়াব

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া রুম থেকে বেরিয়ে এলেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল। একটু পর আসলেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) সদস্য সচিব রাকিব হায়দার পাভেল। সবশেষে সিসিডিএম চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বের হলেন। কারো মুখেই হাসি নেই। ২০ জুন নিলাম ও ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও কেউ কোন কথা বলতে চাইলেন না। কথা বলবেনই বা কি করে, কারণ গতকাল শনিবার কোয়াব ও সিসিডিএমের বৈঠকে কোন আলোর মুখ দেখেনি। কিছু বলতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত হতাশ কণ্ঠেই কাল কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক ও সিসিডিএম চেয়ারম্যান জানালেন বোর্ড সভাপতি ছাড়া প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়া সম্ভব নয়। কাল কোয়াব ও সিসিডিএমের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এরকমই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ক্লাব সমিতি কিছুদিন আগে খেলোয়াড়দের গ্রেডিংয়ের একটা খসড়া প্রস্তাবনা জমা দিয়েছিল সিসিডিএমের কাছে। গত বৃহস্পতিবার খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে কোয়াব গ্রেডিংয়ের একটা খসড়া প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। দুইপক্ষের প্রস্তাবনা গ্রেডিং দেখে সিসিডিএম চেয়ারম্যান আশাবাদী, পারিশ্রমিকের অংক তেমন একটা হেরফের হবে না। তবুও সিদ্ধান্ত নিতে হলে বোর্ড সভাপতির উপস্থিতি দরকার বলে জানালেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তিনি বলেন, ‘আমরা দুইপক্ষের গ্রেডিংয়ের একটা খসড়া প্রস্তাবনা পেয়েছি। প্রস্তাবের ভিতরে খুব বেশি ব্যবধান আছে সেটা নয়। আমরা অপেক্ষায় আছি বোর্ড সভাপতির সাথে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নিব।’ উল্লেখ্য, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়ায় গেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রিমিয়ার লিগ পরিচালনার জন্য গঠিত হওয়া সিসিডিএম থাকতে কেন বারবার বোর্ড সভাপতির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে? এমন প্রশ্নে সিসিডিএম চেয়ারম্যান, ‘যেহেতু ক্লাব ও কোয়াব সভাপতির সাথে বসে আলোচনা করেছে। তাই তার দ্বারস্থ হওয়া। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনও তো তার থেকে লাগবে। বাকি কাজটা তো সিসিডিএম করবে।’ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে বারবার বোর্ড সভাপতির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে বিব্রত সিসিডিএমও। কাল সিসিডিএম এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভের সাথে বললেন, ‘ক্লাব সমিতির কারণে আজ প্রিমিয়ার লিগের এই হাল। মার্চে যখন তারা বলল, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছাড়াই লিগ খেলবে। কিন্তু এরপর কোথাকার পানি কোথায় গড়িয়েছে। তারা সিসিডিএমকে তোয়াক্কা না করে সরাসরি বোর্ড সভাপতির সাথে দেখা করতে চলে যান। এরপর থেকে লিগ পেছাতে শুরু করে। আমরা আসলে এখানে থেকেও নেই। আমার প্রশ্ন হল ক্লাব সমিতি কি আদৌ এটা করতে পারে?’ কাল সুখবর শুনবেন বলেই সিসিডিএমের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু ক্লাব প্রতিনিধি এবং বোর্ড সভাপতি দেশে না থাকায় অপেক্ষা বাড়ল আরো কিছুদিনের জন্য। কাল তাই হতাশ কণ্ঠেই কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক বললেন, ‘আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি খেলোয়াড়রা খেলার পক্ষে। আমরা গ্রেডিংয়ের একটা প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম কিন্তু সিসিডিএম জানিয়েছে বোর্ড সভাপতির অনুমোদন লাগবে। এখন তার জন্যই অপেক্ষা। আমরা আশা করবো ক্লাব সমিতি আমাদের প্রস্তাবনা মেনে নিবে।’ প্রিমিয়ার লিগের নিলামের প্রস্তুতির জন্য সিসিডিএমের কাছে খুব বেশি সময় নেই। তবুও সিসিডিএম চেয়ারম্যান আশাবাদী সময়মত সবকিছু প্রস্তুত হবে, ‘আমরা আশাবাদী আগামী ১২ জুনের মধ্যে খেলোয়াড়দের গ্রেডিং পদ্ধতিটা চূড়ান্ত করতে পারবো এবং সময়মত লিগ শুরু হবে বলেও আশাবাদী।’