নাদালের অমরত্ব নাকি ফেরারের প্রথম?
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৩, ২১:৪৪
রাফায়েল নাদাল ওপেন যুগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই গ্র্যান্ড স্ল্যামে অষ্টম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ রবিবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন স্বদেশী ডেভিড ফেরারের। অল স্প্যানিশ ফাইনালে নাদালের দৃষ্টি যখন অমরত্বের দিকে সেসময় ফেরার খেলবেন প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার জন্য।
বিশ্ব টেনিসে ১৯৬৮ সালে ওপেন যুগ শুরু হওয়ার পর কোন খেলোয়াড়ই একই গ্র্যান্ড স্ল্যাম আটবার জিততে পারেননি। রজার ফেদেরার, পিট সাম্প্রাস, স্টেফি গ্রাফরা সর্বোচ্চ সাতবার করে জিতেছেন উইম্বল্ডন। রোলা গ্যারোর ফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে গত বছরই তাদের কাতারে শরিক হয়েছিলেন নাদাল। তাই এ দফায় জিতলে সবাইকে ছাড়িয়ে তিনিই হবেন আটটি শিরোপা জয়ী একমাত্র খেলোয়াড়। ওপেন যুগের আগে অবশ্য বেশ কয়েকজনেরই আটটির বেশি শিরোপা আছে। এর মধ্যে আছেন মার্গারেট কোর্ট, ম্যাক্স ডিসুজিসের মতো সাবেকরা।
তবে যেই জিতুক না কেন আজকের ফাইনালটা অন্যরকম দু’জনের জন্যই। রোলা গ্যারোয় গত আসরের শিরোপা জেতার পর নাদাল আর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামেরই ফাইনালে খেলতে পারেননি। হাঁটুতে ভয়াবহ ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে উঠে এত দ্রুতই যে আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে খেলতে পারবেন সেটা ভাবতে পারেননি নাদাল নিজেও। আর পুরো বিষয়টি এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না, নাদালের চাচা এবং দীর্ঘদিনের কোচ টনি নাদাল।
চার ঘণ্টা ৩৭ মিনিটের মহাকাব্যিক এক লড়াই শেষে সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে হারানোর পর টনি বলেন,‘আমি জানি এত এত সমস্যা পেছনে ফেলে ফাইনালে পৌঁছানো আমাদের জন্য কি ভয়ানক কঠিন একটা ব্যাপারই না ছিল!’
পেছনের কঠিন দিনগুলোর কথা ভাবলে স্বপ্নভঙ্গের ভয়কে খুব বেশি ভয়ানক মনে হয় না তাদের। এ কারণেই হয়তো নাদাল অনায়াসে বলতে পারলেন, অষ্টম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে মোটেই ভীত নন তিনি। তাতে যদি স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয় তবু আপত্তি নেই তার। দ্বাদশ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা থেকে মাত্র একধাপ দূরে থাকা তারকাটি বলেন,‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি হতাশাকে উপভোগ করতে শিখেছি। এই ম্যাচগুলো (ফাইনাল) সবসময়ই বিশেষ কিছু। কারণ এগুলো খেলার সুযোগ আপনি প্রতিদিন পাবেন না।’
জোকোভিচের বিরুদ্ধে দুই দফায় এগিয়ে গিয়েও ম্যাচ নির্ধারক সেটে এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন ৪-২ গেমে। ইনজুরির মতোই সেই অবস্থা থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনই করেছেন তিনি। গত আট বছরে রোলা গ্যারোতে মাত্র একটি ম্যাচ হারা ২৭ বছর বয়সী এই তারকা কথা বলেছেন সে প্রসঙ্গেও। তিনি বলেন,‘এই ধরনের ম্যাচগুলো অনেক ক্ষেত্রেই আপনাকে হতাশ করবে, কিন্তু এই মুহূর্তগুলো আমি সবসময়ই উপভোগ করি। আমি আসলেই এই হতাশাকে উপভোগ করি। কারণ, গত বছর আমি যখন মায়োরকায় (নাদালের বাসভূমি) ছিলাম সেসময় এই ম্যাচগুলো আমাকে টিভিতে উপভোগ করতে হয়েছে। যেটা ছিল এর চেয়ে অনেক বেশি কষ্টের।’
বরাবরের মতোই দারুণ খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে নাদাল আরো বলেন,‘আজ আমি এখানে। আপনি হারুন বা জিতুন, দুটোই খেলার অংশ। আর এখানেই খেলাটার সৌন্দর্য।’
রোলা গ্যারোতে নাদালের রেকর্ড অবশ্য বলছে, আজকের ম্যাচে তার হতাশ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ২০০৫ সালে লাল কোর্টে নিজের প্রথম টুর্নামেন্টের পর এখনো পর্যন্ত হেরেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। সেই হারটিও ২০০৯ সালের। লাল কোর্টের একমাত্র গ্র্যান্ড স্ল্যামটিতে তার রেকর্ড ৫৮-১! তাছাড়া ফেরারের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়েও ১৯-৪ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন নাদাল।
আলবার্ট কস্তা এবং হুয়ান কার্লোস ফেরারের ২০০২ সালে মুখোমুখিতার পর প্রথম অল স্প্যানিশ ফাইনালটি ফেরারের জন্যও বিশেষ কিছু। গত কয়েক বছর ধরে প্রায় নিয়মিতভাবেই প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ ষোলো, শেষ আটে খেললেও ফাইনালে খেলা হচ্ছিল না ৩১ বছর বয়সী স্পানিয়ার্ডটির। স্বাগতিক দর্শকদের নিরাশ করে শেষ সেমিফাইনালে জো উইলফ্রেড সোঙ্গাকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পারলেন ফেরার।
এ জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হলো ৪২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম পর্যন্ত ! গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালের জন্য সবচেয়ে বেশি টুর্নামেন্ট ব্যয় করতে বাধ্য হওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় অন্যদের চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে ফেরার। তবে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরাটা তার জন্য মোটেই সহজ হবে না। সেটা বুঝতে পারছেন ফেরার নিজেও। টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত একটিও সেট না খোয়ানো তারকাটি বলেন,‘আমি লড়বো। রাফায়েলকে (নাদাল) হারানো সবসময়ই কঠিন। তবে ক্লে কোর্টে এটা আরো কঠিন হয়ে যায়। তাকে হারাতে হলে আমার সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। জিততে হলে পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক হবার কোন বিকল্প নেই।’