রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে ৪০ হাজার শিশু
ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ২১:৩৭
গতকাল বুধবার ছিল আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। অভাবের তাড়নায় রংপুর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এইসব শিশু শ্রমিকের মধ্যে ২০ হাজার শিশুই কর্মরত রয়েছে বিড়ি শিল্প নগরী হিসেবে খ্যাত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ এলাকায়।
অস্বাস্থ্যকর বিষাক্ত পরিবেশে বিড়ি কারখানায় কর্মরত ঐসব শিশু বড়দের মতো কাজ করলেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। প্রকাশ রংপুরের শ্রম পরিদর্শককে ম্যানেজ করে বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিকরা দিনের পর দিন তাদের ফ্যাক্টরীতে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে অপরিপক্ব বয়সে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়ে যক্ষ্মা, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিসসহ কঠিন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে হাজার হাজার শিশু। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ৮ উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২ হাজার ৪৫২টি।
ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী রয়েছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৫ জন। বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও হারাগাছ বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনউদ্দিন বিএসসি জানান, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩০টি বিড়ি ফ্যাক্টরী চালু রয়েছে। এই সকল ফ্যাক্টরীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ লাখের ঊর্ধ্বে শ্রমিক কাজ করে। যাদের মধ্যে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১০ হাজার।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকাল ইনিসিয়েটিভ ফর ইমপাওয়ারমেন্ট (লাইফ) ও সোসাইটি ফর সোসাল সার্ভিস (এসএসএস) পরিচালিত এক জরিপে প্রকাশ, রংপুর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশু শ্রমিক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু কাজ করছে হারাগাছের বিড়ি তৈরির ফ্যাক্টরীগুলোতে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩০টি বিড়ি ফ্যাক্টরী। এসব ফ্যাক্টরীতে ১ লাখেরও বেশি শ্রমিক বিড়ি উত্পাদন শিল্পের সাথে জড়িত হয়ে দীর্ঘদিন থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এদের মধ্যে রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু শ্রমিক।
হারাগাছ মেনাজ বাজার এলাকার আব্দুল, মজিবর, মজিত, কুলসুম, ছাবিনাসহ কয়েকজন হতদরিদ্র পিতা-মাতার সাথে কথা হলে তারা মজুরি বৈষম্যের কথা স্বীকার করলেও বেশ উত্সাহের সঙ্গে জানান, তাদের শিশু পুত্র-কন্যারা বিড়ি শ্রমিকের কাজ করে দৈনিক ২৫-৩০ টাকা রোজগার করছে। এতে অভাবের সংসারে ওই শিশুটি বিরাট ভূমিকা রাখছে।